বইকথা | নতুনপাতা
হ্যামিলিনের বাঁশিওয়ালার গল্প
প্রদোষকুমার বাগচী
তোমাদের এবার একটা নতুন গল্প আমি শোনাবো। পৃথিবীর বিখ্যাত গল্প। গল্পের নাম হ্যামিলিনের বাঁশিওয়ালা। হ্যামিলিন জার্মানির একটি ছোট্ট শহরের নাম। উইজার নদীর পাশে অবস্থিত সেই শহর। হ্যামিলিনের যে লোকগুলো ছিল ধনী ও সম্ভ্রান্ত তারা ক্রমশ লোভী হয়ে পড়ছিল। তারা গরিবদের শোষণ করে মোহর জমাতো। একদিন তারা ভাবলো ওই শহরের কুকুর বিড়াল গুলোকে পুষতে জলের মতো খরচা হয়ে যাচ্ছে। এই খরচা কমলে তাদের মোহর আরও বেড়ে যাবে বলে তারা মনে করল। যেমন ভাবা তেমনি কাজ। তারা একদিন তাদের সব কুকুর ও বেড়ালগুলোকে লাঠি দিয়ে মেরে তাড়িয়ে দিল। শহরে আর কোনও বেড়াল বা কুকুর নেই। এর ফলে শহর ইন্দুরে ছেয়ে গেল। বালিশের নিচে, ঘরের কোণে, চালের বস্তায়, ছাদের উপরে, বাক্সের ভেতরে, সর্বত্র শুধু ইদুর আর ইঁদুর। মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠলো। এই ইঁদুরের হাত থেকে কিভাবে রক্ষা পাওয়া যায় এ নিয়ে ধনী ব্যক্তিরা একটা সভা ডাকলো। যাতে সকলে মিলে আলোচনা করে ইঁদুর সমস্যার মোকাবeলা করা যায়। সেই সময় ওই সভায় এক অপরিচিত যুবক এসে বলল যে সে ঐ ইদুর তাড়িয়ে দিতে পারে বাঁশি বাজিয়ে। কিন্তু তার জন্য ১০০০ মোহর লাগবে। তখন ওই সভার কর্মকর্তারা রাজি হয়ে বললো, আগে কাজ শেষ করো তারপরে তোমাকে আমরা মোহর তুলে দেব। তখন ওই বাঁশিওয়ালা বাঁশি বাজিয়ে নদীর দিকে এগোতে লাগলো। বাশির শব্দ শুনে ইঁদুরগুলো ওই বাঁশিওয়ালা কে অনুসরণ করতে করতে শেষ পর্যন্ত নদীর জলে গিয়ে ডুবে মরল। শহর ইঁদুরমুক্ত হলো। এবার কথামতো বাঁশিওয়ালা শহরের মেয়রের কাছে গোল। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী সে একটি মোহর বাদে আর কোনও মোহর পেল না। তারা তাকে একটি মাত্র মোহর দিয়ে বললো যে এটাই যথেষ্ট। এতে বাঁশিওয়ালা খুব রেগে গিয়েছিল তারপর রাস্তায় গিয়ে সে এমন একটা বাঁশি বাজাতে শুরু করল যাতে সেই শহরের সব বাচ্চারা আনন্দে তার পিছনে রওনা দিল। শহরের সবাই নিজেদের ছেলেমেয়েদের পথে আটকাতে চাইলেও পারলো না। তাদের মা-বাবা চিৎকার করে ডাকলো কিন্তু তারা মা বাবার ডাকে সাড়া দিলো না। তারপর আর সেই বাচ্চাদের খুঁজেই পাওয়া গেল না। তারা চিরদিনের মতো হারিয়ে গেল। তখন গ্রামের ধনী ব্যবসায়ীরা বুঝতে পারল যে সেদিন যদি তারা লোভের বশবর্তী না হয়ে তাকে যদি এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা যা তার প্রাপ্য ছিলে তাঁকে দিত তাহলে হয়তো এই বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হতো না। তাহলে প্রত্যেকের বাড়ির বাচ্চারা তাদের মা বাবার কাছেই থেকে যেত। কোনও মা-বাবার কোল ফাঁকা হতো না এবং তারা সকলেই আনন্দে থাকতে পারতো।
এই গল্পটা সারা পৃথিবীতে খুবই পরিচিত । নানা দেশে গল্পটা একটু আধটু পরিবর্তিত ও পরিমার্জিত হলেও গল্পটি ছোটদের মন জয় করে নিয়েছে। এরকম গল্প পৃথিবীতে খুব কমই আছে। সেই কারণেই এটি সারা বিশ্বে সমাদৃত হয়েছে। আমার মনে হয় তোমরা যখন এই বইটি পড়বে তখন তোমরাও বুঝতে পারবে যে সত্যি আমি যা বলেছি তা একটুকুও মিথ্যা নয়। এবং এই বইটি ইংরেজিতে লেখা। কিন্তু খুব সহজ সরল ভাবে লেখা। এখন তোমাদের কাজ হচ্ছে এই বইটি জোগাড় করে ফেলা । বইটি আমাদের শেখাচ্ছে লোভী না হতে আর স্বার্থপর না হতে।
বইটির নাম ‘the pied piper’. । শুধু নামেই বিখ্যাত এই বই। বইটি তোমরা সকলেই পড়বার চেষ্টা করো। শুভেচ্ছা নিও।
Comments :0