Fake Sim Card Case

সিমকার্ড মামলায় ইসলামপুরে গ্রেপ্তার ২

রাজ্য জেলা

সিম কার্ড জালিয়াতিতে গ্রেপ্তার হওয়া দুই যুবক। ছবি- তপন বিশ্বাস।

ইসলামপুর থানার ভারত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সিমকার্ড জালিয়াতিতে যুক্ত থাকার অপরাধে দুই যুবক গ্রেপ্তার হলে চাঞ্চল্য ছড়ায়। ধৃতরা হল দাড়িভিটের গোপাল কুমার সরকার ও কাশিবাড়ির সারজুল হক। ওই দুটি গ্রামই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে। সেখান থেকে সিম কার্ড জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আসায় কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে পুলিশের। ইসলামপুর পুলিশ জেলার ডেপুটি পুলিশ সুপার (ডি এন টি) সোম শুভ্র কাপ্রি বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ওই দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে এবং তাদের কাছ থেকে ১৫ টি সিম কার্ড উদ্ধার হয়েছে। তাদের পুলিশের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ করে ওই বিপুল পরিমাণ সিম কার্ড জালিয়াতি কি কারণে করা হয়েছিল তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ইসলামপুর মহকুমায় ট্যাব কেলেঙ্কারি এমনকি মাইনরিটি স্কলারশিপের দুর্নীতি প্রকাশ্যে আসার পরে এমনিতেই চাপে ছিল সাইবার পুলিশ সেল। তার মধ্যে এই ধরনের সিম কার্ড জালিয়াতি সামনে আসায় দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হুমকি আসতে পারে বলে মনে করেন ওয়াকিবহাল মহল। তারা মনে করেন, দুষ্কৃতীরা অপরাধ সংগঠিত করার ক্ষেত্রে নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে বেনামে সিম তোলে। একাংশ দোকানদার কাগজপত্র, ফিঙ্গার প্রিন্ট ছাড়াই বেশি দামে সিমকার্ড বিক্রি করে। এর ফলে দুষ্কৃতীদের ধরতে বেকায়দায় পড়তে হয় পুলিসকে।পাঞ্জিপাড়ায় পুলিসকে গুলি করে বন্দি পালানোর ঘটনাও ঘটেছে। বন্দি পালানোর ঘটনায় এক বাংলাদেশির যোগ ছিল। সেই ঘটনায় সিমকার্ডেও জালিয়াতি সামনে আসে।
গোয়েন্দারা জানান, বাংলাদেশে ভারতীয় সিমের দাম অনেক বেশি।। বিশেষ করে পাচারকারীরা একটি ভারতীয় সিম প্রচুর টাকা খরচ করে থাকেন। এছাড়া এধরনের সিমকার্ড ব্যবহার করেই স্টক মার্কেট ফ্রড, পার্চেস স্ক্যাম ও ডিজিটাল অ্যারেস্টের মতো প্রতারণা করা হয় ।
সোম শুভ্র কাপ্রী জানান,ধৃতদের সিমকার্ড ও মোবাইল সরঞ্জাম বিক্রির দোকান আছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, যিনি সিমকার্ড ক্রয় করেন তাঁর ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়ে ওই সিমকার্ডটি অ্যাকটিভ করতে হয়। এক্ষেত্রে ধৃতরা দু'টি ফিঙ্গার প্রিন্ট নিত। অপর ফিঙ্গার প্রিন্ট ও অন্য কোনও ছবি দিয়ে আর একটি সিমকার্ড অ্যাক্টিভ করে নিত। এক্ষেত্রে যার ফিঙ্গার প্রিন্ট ব্যবহার করা হল তিনি জানতেও পারেন না তাঁর নামে আরও একটি সিম চালু আছে। এই ধরনের সিমকার্ড ধৃতরা ব্যবহার করে নিজেরাই ক্রাইম সংগঠিত করত নাকি অন্য কোনও প্রতারণা চক্রের কাছে মোটা টাকায় বিক্রি করত।
আদালতের সরকারি আইনজীবী সঞ্জয় ভাওয়াল বলেন, ইসলামপুরের ২৯টি জায়গায় ফেক সিমকার্ড তৈরি হচ্ছে বলে কলকাতা সাইবার ক্রাইম থেকে একটি মেসেজ দিয়েছিল ইসলামপুর সাইবার থানায়। এরপর পুলিশ একটি কেস রেজিস্টার করে তদন্ত শুরু করে। আপাতত ফেক সিমকার্ড মামলায় দু'জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের কাছ থেকে ১৫টি সিমকার্ড উদ্ধার হয়েছে। ধৃতদের এদিন আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

Comments :0

Login to leave a comment