পূর্ব বর্ধমান জেলার অজয় নদীর ধারে সাতলা গ্রামে ২০১১ সালের পর ফের রক্ত পতাকা টাঙ্গালেন গ্রামবাসীরা। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর সন্ত্রাস ও হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে কোনও লাল পতাকা উত্তোলন তো দূরের কথা বাম কর্মী হিসেবে পরিচয় দিতেও সাহস করতো না গ্রামের মানুষ। কৃষিজীবী এলাকা হলেও কৃষকের সমস্যা নিয়ে, ধান আলুর দাম নিয়ে কোনও কথা তুলতে পারতেন না এখানকার কৃষক-খেতমজুরেরা। তৃণমূল ক্ষমতার আসার আগে যে দু একজন সিপিআই(এম) কর্মী অঞ্চলের মিটিং মিছিলে অংশগ্রহণ করতেন। কিন্তু তৃণমূলীদের অত্যাচারে বন্ধ হয় রাজনৈতিক কাজও।
রবিবার পূর্ব বর্ধমান জেলার সিপিআই(এম) নেতা গৌতম রায় ও জেলা কৃষক নেতা রাজেন্দ্র ধীবরের নেতৃত্বে গ্রামের বেশ কিছু কৃষক কর্মী শত্রুপক্ষের চোখে চোখ রেখে সাহসের সঙ্গে গোটা গ্রাম জুড়ে রক্ত পতাকায় ভরিয়ে দিলেন। পতাকা টাঙ্গানোর সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনী প্রতীক কাস্তে হাতুড়ি তারা একে দিলেন দেওয়ালে দেওয়ালে। কৃষক খেতমজুরেরা কিছু কিছু দেওয়ালে চিহ্নিত করলেন নির্বাচনের আগে দেওয়াল লেখার জন্য।
কৃষক কর্মীরা এই দিনের কর্মসূচিকে ঘিরে জানালেন যে অনেক সহ্য করেছি, আর নয়। চাকরি নেই। যদিও আছে সেই চাকরি চুরি হচ্ছে। তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীরা চুরি করে জেল খাটছে। ফসলের দাম নাই। এলাকার কোনও সমস্যা ভেদিয়া পঞ্চায়েতে বলতে গেলে চোখ রাঙানির মুখে পড়তে হয়। ধমকানি শুনতে হয় পঞ্চায়েত কর্তাদের থেকে। তাই আমরা জোট বেঁধে সবাই এক হয়ে সামনের নির্বাচনে রাজ্যের তৃণমূলের লুটেরা সরকার ও দেশের বিভাজন তৈরি করা বিজেপি সরকারকে হটানোর জন্য বাড়ি বাড়ি প্রচার শুরু করে দিয়েছি।
কৃষক নেতা রাজেন্দ্র ধীবর ও পার্টি নেতা গৌতম রায় বলেন, "বেশ কিছুদিন ধরে গ্রামের মানুষ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছিলেন। অনেকেই বলছিলেন আমরা ভুল বুঝেছিলাম। এখন আমরা বুঝে গেছি খেটে খাওয়া মানুষের পাশে লাল ঝাণ্ডাই আমাদের আসল ঝান্ডা। আমাদের আগের দিন আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে।"
Comments :0