Budget 2026: CITU

কর্পোরেটের কর কমিয়ে বোঝা শ্রমজীবীর ওপর, প্রতিবাদের আহ্বান সিআইটিইউ’র

জাতীয়

বড় লাভজনক সংস্থার ওপর প্রযোজ্য মিনিমাম অলটারনেট ট্যাক্স ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে করা হয়েছে ১৪ শতাংশ। কর বহির্ভূত আয় ১২.৪৯ শতাংশ বাড়ানো হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্রের ডিভিডেন্ট ১৬.৯ শতাংশ বাড়ানোর মাধ্যমে। আয় কর বাবদ আয় ১৪.৬৬ লক্ষ কোটি টাকা। আর কর্পোরেট বাবদ আয় তার চেয়ে কম ১২.৩১ লক্ষ কোটি টাকা। এই প্রথম আয়কর ছাড়িয়ে যাচ্ছে কর্পোরেট করকে।
বেতন প্রাপ্ত এবং সাধারণ শ্রমজীবীর ঘাড় ভেঙে কর্পোরেটের ভাঁড়ার কিভাবে ভরা হচ্ছে তা বোঝাচ্ছে এমন সব অঙ্ক। এই কেন্দ্রীয় বাজেটের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিবাদের আহ্বানে এমন তথ্য হাজির করেছে সিআইটিইউ। গিগ শ্রমিক এবং অসংগঠিত শ্রমিকের জন্য কার্যত কোনও কথা না থাকার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। 
সিআইটিইউ বিবৃতিতে বলেছে যে শ্রমজীবীর ন্যূনতম অধিকার কেড়ে নেওয়া শ্রম কোড জারি হয়েছে। আর কর্পোরেটকে দেওয়া হচ্ছে আরও সুবিধা। অগ্রিম দাম নির্ধারণ প্রকল্প, বা অ্যাডভান্সড প্রাইসিং এগ্রিমেন্ট হয় বাণিজ্যিক সংস্থার সঙ্গে কর কর্তৃপক্ষের। এই কর ঠিক করার মেয়াদ কমিয়ে দু’বছর করা হয়েছে। সিআইটটিইউ বলেছে, বাণিজ্যিক সংস্থা যাতে নিজের সুবিধা গুছিয়ে নিতে পারে তার জন্যই এমন রদবদল।
বিবৃতিতে সিআইটিইউ’র সাধারণ সম্পাদক এলামরাম করিম ও সভাপতি সুদীপ দত্ত বলেছেন যে জিএসটি এবং আয়কর, যা আমজনতা এবং বেতন প্রাপকরা দেন, তা থেকে সরকার আদায় করছে ২৮ লক্ষ কোটি টাকা। কর্পোরেটকে ছাড় দিয়ে শুষে নেওয়া হচ্ছে সব অংশের শ্রমজীবীকে। 
কর্পোরেট এবং ধনীদের কর কমাতে যেভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্রের ডিভিডেন্টের দায় বাড়ানো হচ্ছে তাতে জনতার সম্পদে তৈরি এই সংস্থাগুলিকে বিপন্ন করছে, বলেছে সিআইটটিইউ। 
বলা হয়েছে যে ৮০ হাজার কোটি টাকা বেসরকারিকরণ করে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বাজেটে। রেলের টাকা ঢালার জন্য হাই স্পিড করিডোর প্রকল্প বেছে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ভিড়ে ঠাসাঠাসি কামরায় চলা সাধারণ রেলযাত্রীদের সুরাহার দিকে কোনও কথা নেই।
সিআইটিইউ বলেছে রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্রের সম্পত্তি বেসরকারি হাতে তুলে দিয়ে টাকা তুলছে সরকার। বেসরকারি টেলিকম কর্পোরেটের জন্য এই ক্ষেত্রে বরাদ্দ ৯,৬৫০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ২৪ হাজার কোটি করা হয়েছে। এআই উদ্ভাবন নিয়ে বুলি ঝাড়া হলেও এই প্রকল্পে বরাদ্দ ২০০ কোটি থেকে কমে হয়েছে ১ হাজার কোটি। বিদ্যুৎ এবং পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনে বরাদ্দের লক্ষ্যও বেসরকারি কর্পোরেট। বেসরকারি বিনিয়োগের আইনি রাস্তা খোলা হয়েছে আগে। অথচ বিপুল সংখ্যক ‘গিগ’ কর্মী এবং অসংগঠিত শ্রমিকের জন্য একটিও কথা নেই।

Comments :0

Login to leave a comment