CPI(M) Protests

সিপিআই(এম) নেতাকে আক্রমণ, দোষীদের শাস্তির দাবিতে তাহেরপুরে থানায় বিক্ষোভ

জেলা

সিপিআই(এম) নেতা এবং পঞ্চায়েত সদস্য উদ্ধব সেনের আক্রমণকারীকে রবিবার পর্যন্ত গ্রেপ্তার করেনি তাহেরপুর থানার পুলিশ। অথচ অপরাধ করেও তৃণমূল মদতপুষ্ট অপরাধীরা কিভাবে চোখের সামনে ঘুরে বেড়াচ্ছে, বিস্মিত এলাকাবাসী। তাঁদের বক্তব্য, আবার প্রমাণিত হলো অপরাধীদের পাশেই রয়েছে রাজ্য সরকার। রবিবার তাহেরপুর থানার সামনে গণজমায়েতে এভাবেই ক্ষোভের প্রকাশ ঘটল বক্তাদের মন্তব্যে। একইভাবে তাহেরপুর থানার আধিকারিকদের স্মারকলিপি দেওয়ার সময়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা। সিপিআই(এম) নদীয়া জেলা কমিটির ডাকে রবিবার এই বিক্ষোভ হয়। 
শনিবার প্রকাশ্য দিবালোকে পার্টিনেতা উদ্ধব সেনকে আক্রমণ করা হয়। এর ক'দিন আগে গত ২৩ জানুয়ারি কৃষ্ণপুরচকের জনৈক ব্যবসায়ীর উপর তোলাবাজরা চড়াও হলে উদ্ধব সেন তার প্রতিবাদ করেন। সেই কারণে তাঁর উপর হামলা হয়। পার্টিনেতৃত্বের বক্তব্য, এই তোলাবাজরা তৃণমূল মদতপুষ্ট। সেসময় থানায় অভিযোগ করা হলে অপরাধীরা গ্রেপ্তার হয়, কিন্তু পরে জামিনে ছাড়া পেয়ে যায়। ফের তারাই পার্টিনেতাকে আক্রমণ করে। 
এবারে হামলার সঙ্গে সঙ্গে ফের তাহেরপুর থানায় অভিযোগ জানানো হলেও পুলিশ নির্লিপ্ত থাকে। সিপিআই(এম) নদীয়া জেলা কমিটির সম্পাদক মেঘলাল শেখ এদিন এক বিবৃতিতে বলেছেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে জেলাজুড়ে আন্দোলন হবে। সিপিআই(এম) নেতৃবৃন্দের কথায়, গত দু’বছরে তাহেরপুর থানার বীরনগর ও কালীনারায়ণপুরে ৫ জন মহিলা খুন হয়েছেন। পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকায় ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে মানুষের। এদিনের সমাবেশের মধ্য দিয়ে প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার অপরাধীদের পাশে থাকলে জনগণ ছেড়ে কথা বলবে না। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিআই(এম) নেতা গৌতম বিশ্বাস, দেবাশিস চক্রবর্তী, কমল ঘোষ, প্রদীপ দাস, সঞ্জয় গোস্বামী, সুবল দাস চৌধুরি প্রমুখ।
এদিনের বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এক প্রতিনিধি দল তাহেরপুর থানার ওসি’র কাছে ডেপুটেশন দেয়। প্রতিনিধিদলে ছিলেন পার্টিনেতা দেবাশিস চক্রবর্তী, কমল ঘোষ, প্রদীপ দাস, অর্চনা বিশ্বাস, মধুমিতা রাহা, গৌরাঙ্গ মোদক, উদ্ধব সেন। এই ঘটনায় অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তাঁরা। সর্বত্র যেভাবে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়ে চলেছে তার প্রতিবাদও জানানো হয়।

Comments :0

Login to leave a comment