জোড়া ভূমিকম্পে কার্যত ধ্বংস্তূপে পরিণত হয়েছে মায়ানমার। বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। শুক্রবার পর পর দুই ভূমিকম্পে কেঁপে উঠে মায়ানমার ও থ্যাইল্যান্ড। প্রথম ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৭.৭। প্রথম কম্পনের ১২ পর মিনিট পর দ্বিতীয় কম্পন অনুভূত হয় তীব্রতা ছিল ৬.৪। প্রথমটির উৎসকেন্দ্র মায়ানমারের বার্মার ১২ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। আর দ্বিতীয়টির উৎসকেন্দ্র মায়ানমারের লকসকের ১৫১ কিলোমিটার পশ্চিমে। দু’টি কম্পনের ক্ষেত্রেই উৎপত্তিস্থল ছিল মাটির ১০ কিলোমিটার নীচে এমনটাই জানিয়েছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা। পরপর ভূমিকম্পে তছনছ হয়ে গিয়েছে মায়ানমারের বিস্তীর্ণ এলাকা। মান্দালয় শহরে একাধিক বহুতল ভেঙে পড়েছে। একটি মসজিদ ভেঙে পড়েছে। তার নীচে চাপা পড়ে অনেকের মৃত্যু হয়েছে। জোরালো কম্পনে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে প্রতিবেশী থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্ককও। সেখানে ক্ষয়ক্ষতি বিষয়ে এখনও স্পষ্ট নয়। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ভূমিকম্পে একটি নির্মীয়মান ৩০ তলা বাড়ি ধসের ঘটনায় নিখোঁজ শ্রমিকের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৭০ জন হয়েছে। ওই সেখানে প্রায় ৩২০ জন কর্মী ছিলেন। উদ্ধারকারীরা উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ৬ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে।এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত, মায়ানমার ও থ্যাইল্যান্ডে ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত ১০৯ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। জখম হয়েছেন সাড়ে তিনশো জনের বেশি মানুষ। নিখোঁজ মানুষের সংখ্যার কোনও হিসাব নেই। এর মধ্যে ১০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে মায়ানমারে ও থাইল্যান্ডে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
তবে ভূমিকম্পের জেরে বহু মৃত্যুর আশঙ্কা মায়ানমার প্রশাসনের। ধীরে ধীরে ক্ষয়ক্ষতি খবর সামনে আসা শুরু করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ভূমিকম্পের জেরে ভেঙে পড়েছে বহু বহুতল। আবার কোনও কোনও বাড়ি হেলে পড়েছে। ভূমিকম্পের পর মায়ানমারের সাগাইং, মান্দালয়, ম্যাগওয়ে, বাগো, ইস্টার শান রাজ্য এবং নেপিডো এই ছয়টি অঞ্চলে জরুরি অবস্থা জারি করেছে সরকার। এই খবর স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। সংবাদ সংস্থার খবর অনুয়ায়ী, এই ভূমিকম্পের জেরে মান্দালয়ে ভেঙে পড়েছে একটি মসজিদ। এই মসজিদ ভেঙে প্রাণ গিয়েছে আরও ২০ জনের। সেখানে আরও অন্তত তিনটি মসজিদ ভেঙে পড়েছে। তবে এই ভূমিকম্পে করো মানুষের মৃত্যু হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট জানানো হয়নি মায়ানমার প্রশাসনের পক্ষ থেকে। জানানো হয়েছে উদ্ধারকাজ চলছে। তবে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা অনেক বাড়তে পারে সেই আশঙ্কা করছে। মায়ানমার প্রশাসন জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে বহুতল ধসে পড়েছে। সেই সংখ্যাটা প্রচুর। ভেঙেছে দু’টি সেতু। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জাতীয় সড়ক। তবে হতাহতের সংখ্যা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি। মায়ানমার সরকার জানিয়েছে যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে রক্তের চাহিদা রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মহাসড়ক, সেতু ভেঙে পড়ার ছবি আরও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে উদ্ধারকারীরা কীভাবে এমন কিছু এলাকায় পৌঁছাতে পারবে যেখানে ইতিমধ্যেই ব্যাপক সংকট চলছে। মায়ানমার ও থ্যাইল্যন্ডে ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০৯ জনের মৃত্যুর ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে। গুরুতর আহত হয়ে হাজার হাজার মানুষ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
Earthquake
জোড়া ভূমিকম্পে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা

×
Comments :0