রেল বস্তি এবং হকার উচ্ছেদ বন্ধ রাখতে বললো কলকাতা হাইকোর্ট। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত কোন উচ্ছেদের কাজ করা যাবে না। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্য এই উচ্ছেদ নোটিশের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছেন।
একই সঙ্গে এদিন হাইকোর্ট রেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এদিন যাদবপুর, ব্রেস ব্রিজ, মথুরাপুর, কোন্নগর, বালিগঞ্জ, বামনগাছি, গুমা, বনগাঁ, দুর্গানগর সহ রাজ্যের বেশ কিছু স্টেশনে রেলের জমি থেকে বস্তি উচ্ছেদ এবং হকার উচ্ছেদের বিরোধিতা করে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
গত ১৫ মে থেকে এই উচ্ছেদ বিরোধী মামলার শুনানি চলছে। সিআইটিইউ, হকারদের সংগঠন এবং বস্তিবাসীদের সংগঠন একযোগে যেমন রাস্তায় নেমে এই উচ্ছেদের বিরোধিতা করছে, একই ভাবে সংগঠনগুলি আদালতে আইনি লড়াইয়ে সামিল হয়েছে।
রাজ্যে বিজেপি’র সরকার আসীন হওয়ার পরই বুলডোজার ব্যবহার করে হকার উচ্ছেদের কাজ শুরু হয়। আন্দোলনকারী সংগঠনগুলি দাবি করেছে উপযুক্ত পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ করা যাবে না। এদিন কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পর সিপিআই(এম) নেতা সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ক্ষমতায় বসেই বুলডোজার ব্যবহারের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন। গরিব মানুষের রুটি রুজির প্রশ্নে এই শুভেন্দু অধিকারী বিভিন্ন সমাবেশে বলেছেন পুনর্বাসন ছাড়া কোথাও হকার উচ্ছেদ করা যাবে না। বিজেপি উচ্ছেদের বিরোধিতা করবে। কিন্তু ক্ষমতা পেয়েই মুখ্যমন্ত্রী উচ্ছেদ অভিযানে নেমে পড়েছেন। হকার, বস্তিবাসী মানুষের সঙ্গে বামপন্থী সংগঠনগুলি এই নির্মম উচ্ছেদের বিরোধিতা করে রাস্তায় নেমেছে। দাবি একটাই উপযুক্ত পুনর্বাসন ছাড়া বস্তি উচ্ছেদ এবং হকার উচ্ছেদ করা যাবে না। আলাপ আলোচনার মধ্যে দিয়ে সমস্যা সমাধানের জন্য রাজ্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। রেল কর্তৃপক্ষকে আলোচনায় বসতে হবে।’’
এদিন আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘রেলের দেওয়া নোটিশে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়নি। শুধু সামগ্রিকভাবে এলাকা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ব্রেস ব্রিজ লাগোয়া রেলের জমিতে ৬ হাজার পরিবার রয়েছে। কোন্নগর এলাকায় বহু বছর ধরে বাজার রয়েছে, গরিব মানুষের বসবাস রয়েছে। রাতের অন্ধকারে সেখানে বুলডোজার চালিয়ে দেওয়া যায় না। এই অমানবিক উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করা প্রয়োজন।’’
ভট্টাচার্য সওয়ালে বলেন, সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাসস্থান ও জীবিকার অধিকারের প্রশ্নও আদালতকে জানানো হয়। আবেদনকারীদের দাবি, পুনর্বাসনের কোনও স্পষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই হাজার হাজার মানুষকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করা হচ্ছিল, যা মানবিক ও আইনি দুই দিক থেকেই প্রশ্নের মুখে পড়ে।
বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্য শুনানিতে স্পষ্ট করেন, আইন মেনেই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া চালাতে হবে। কোনও ব্যক্তিকে নোটিশ না দিয়ে, শুনানির সুযোগ না দিয়ে বা রেল কর্তৃপক্ষের নির্দিষ্ট নোটিশ ছাড়া এভাবে উচ্ছেদের নির্দেশ দেওয়া যায় না। রেলের তরফে উপযুক্ত নথিপত্র পেশ করার জন্য সময় চাওয়া হলে আদালত জানায় ৩০ জুন পর্যন্ত উচ্ছেদ বন্ধ থাকবে।
এদিন আদালতে আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্যকে সহায়তা করেছেন আইনজীবী শামিম আহমেদ, বিক্রম ব্যানার্জি এবং সুদীপ্ত দাশগুপ্ত।
Hawkers eviction high court
যাদবপুর সহ একগুচ্ছ স্টেশনে হকার উচ্ছেদ বন্ধ রাখার নির্দেশ হাইকোর্টের
×
Comments :0