ভুতুড়ে ভোটারের জন্য কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি রাজ্যের সরকারকেও দায়ী করলেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলনে সেলিমের প্রশ্ন, কে ভুতুড়ে ভোটার ঢোকালো? তিনি বলেন, এই সরকার ভুতুড়ে ভোটারের ভোটের ভিত্তিতে সরকারে এলো। তখন ছিল বাংলাদেশী বিভাজন। বিজেপির রাজনীতির কথা। এখন বিজেপি তৃণমূলের রাজনীতির বিভাজন বাঙালি-অবাঙালি। ২০২৬’র আগে ধর্মের নামে একটি বিভাজনের পাশাপাশি ভাষার নামে আরেকটি বিভাজন হচ্ছে।
সেলিম বলেন, "ভোটার লিস্ট সংশোধনের কাজ করে কে? কমিশনের রাজ্য সিইও'র অফিস থেকে, যা রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে। গত দশ বছর ধরে ভুয়ো ভোটারের তালিকা দিচ্ছি। পৌর নির্বাচনে মৃত মানুষের নামে ভোট পড়ছে। কারা দিয়েছে ভোট। এর লাভবান কারা?’’
এদিন কলকতায় নেতাজী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে দলের সভা থেকে তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি ভুতুড়ে ভোটার প্রসঙ্গ তোলেন।
মমতা বলেন, ‘‘ভোটার লিস্ট ক্লিন করতে হবে। তা না হলে ইলেকশনের কোনও প্রয়োজন থাকবে না। ভয় পাবেন না। একটা এজেন্সিকে দিয়ে অনলাইনে এ সব করানো হয়েছে। আমি যত দূর জানতে পেরেছি, অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্রিলিয়ান্ট মাইন্ডস, কোম্পানি ইন্ডিয়া ৩৬০ নামে দু’টি এজেন্সি আছে। তারা ডেটা অপারেটদের কাছে গিয়ে নিয়েছে। কিছু বিএলআরও-কে সঙ্গে নিয়ে অনলাইনে কারসাজি করেছে। বাংলার লোক যাতে ভোট দিতে না পারে, তাই একই এপিক কার্ডে বাইরের লোকের নাম তুলেছে।’’
এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নে পালটা আক্রমণ করেন সেলিম। তিনি বলেন, সর্ষের মধ্যে ভূত। এখন ভূত বলছে ভূত তাড়াবো!
রাজ্যে গণতন্ত্রের ওপর সামগ্রিক আক্রমণের চেহারা তুলে ধরেন সেলিম। সেলিম বলেন, মেদিনীপুরে একটা সমবায় নির্বাচন ঘিরে দু’দিন ধরে, মনোনয়ন জমা দিতে না দেওয়ার জন্য, তৃণমূল এবং পুলিশ যৌথ আক্রমণ চালালো। দুর্গাপুরে একটি ইস্পাত কারখানার ভোটে এভাবেই আক্রমণ চলেছে।
রাজ্যে পঞ্চায়েত এবং পৌরসভা নির্বাচন করে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। পৌর এবং পঞ্চায়েত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন সেলিম। তিনি বলেন, এই ভোটে কী অভিজ্ঞতা। গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করা হয়নি। কেবল অন্যকে দোষ দিলে হবে না, তৃণমূল নিজে কী করছে দেখতে হবে।
এই প্রসঙ্গেই তিনি মনে করিয়ে দেন যে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সারা দেশে ভুরি ভুরি অভিযোগ উঠছে। মহারাষ্ট্র, দিল্লির নির্বাচনে ভোটার তালিকায় কারচুপি সামনে এসেছে। উল্লেখ্য, লোকসভা ভোটের সময়েও ভোটদাতার সংখ্যা জানাতে চায়নি কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। বামপন্থীরাই দাবি তুলে কোথায় কত ভোট পড়েছে, কমিশনের থেকে সেই তথ্য এবং সংখ্যা আদায় করেন।
অন্য এক প্রশ্নে সেলিম বলেন, ২০০৪ সালে মমতা ব্যানার্জি বাংলার ভোটার লিস্ট ছুঁড়েছিলেন লোকসভার অধ্যক্ষের চেয়ারের দিকে। তখন তিনি এনডিএ সঙ্গী ছিলেন। লালকৃষ্ণ আদবানি'র মানস কন্যা ছিলেন। বিজেপি’র সঙ্গী ছিলেন। এখন তিনি বিজেপি বিরোধিতার নাটক করছেন। বরাবর কেন্দ্রীয় সরকারের সাহায্য চেয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট, সিপিআই(এম) কে উৎখাত করার জন্য। এখনও তাই করছেন।
VOTER LIST
ভুতুড়ে ভোটার ঢোকালো কে? কমিশন, রাজ্যকেও আক্রমণ সেলিমের

×
Comments :0