ভূত রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রীই। এখন সেই সব ভূত সাহায্য করবে কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনিই।
ভোটার তালিকা সংক্রান্ত এক প্রশ্নে শুক্রবার এই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সুজন চক্রবর্তী। সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির এই সদস্য কড়া সমালোচনা করেছেন বিজেপি’র-ও। তিনি বলেছেন, ভুয়ো ভোটারই একমাত্র পরিচয়। তার ধর্ম কী, এটা আলোচনার বিষয় হতে পারে না। যে কোনও ভুয়ো ভোটারকেই বাদ দিতে হবে তালিকা থেকে। এ দাবি সিপিআই(এম) বারবার করে আসছে।
এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ’’ধর্ম নিয়ে যখন রাজনীতি করা হয় তখন ধর্মবিশ্বাসকেই আঘাত করা হয়। ধর্মকে সম্মান করার মনোভাব এদের নেই। এরা চায় ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ক্ষমতা হাসিল করতে।’’
চক্রবর্তী বলেন, ‘‘তৃণমূল এবং বিজেপি, জনবিরোধী দু’দলই। বেকারি, মূল্যবৃদ্ধি মোকাবিলার ব্যবস্থা নেই। মানুষের নিরাপত্তা নেই, মহিলাদের নিরাপত্তা তো নেই-ই। রাজ্য যখন ফুঁসছে, কে হিন্দু, কে ব্রাহ্মণ, কার মুসলিম প্রীতি আছে কার নেই, রাজনীতিতে এসব টেনে আনা হচ্ছে। রাজনীতিতে ফয়দা তুলতে ধর্মকে ব্যবহার কার হচ্ছে। আসলে নোংরামো হচ্ছে।’’
ভুয়ো ভোটার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘আরএসএস ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে এবং তা নতুন না। কিন্তু ভোটার তালিকায় ভুয়ো ভোটার বা ভূত, সে হিন্দু না মুসলিমান সেটি কথা নয়, আসল কথা ভুয়ো ভোটার।’’
রাজ্যে ভুয়ো ভোটারের সমস্যা প্রসঙ্গে চক্রবর্তী বলেন, ‘‘গড়ে প্রতি বুথে ৩০-৩৫ জন মৃত মানুষের নাম রয়েছে। এমন ৩০-৪০ জন নাম আছে যাকে এলাকার কেউ চেনে না। তাদের পরিচয় হচ্ছে তারা ভুতুড়ে ভোটার, শাসককে সাহায্য করার জন্য এই নাম রাখা হয়েছে।’‘
এদিনই রাজ্য বিজেপি’র মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘এরাজ্যে ভুতুড়ে ভোটার সবচেয়ে বেশি। তৃণমূল এদের ভোটার তালিকায় ঢুকিয়েছে। এরা সব বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী, রোহিঙ্গা মুসলিম।’’ এদিন আবার কলকাতায় কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে যান বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার নেতাজী ইন্ডোরে তৃণমূলের সভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেন যে ভোটার তালিকা ‘ক্লিন’ করতে হবে। তিনি নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেছিলেন।
এই প্রসঙ্গে চক্রবর্তী বলেন যে ভোটার তালিকায় নাম তোলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করে বিডিও এবং এসডিও দপ্তর। বিডিও এবং এসডিও দপ্তর তো মমতা ব্যানার্জির নিয়ন্ত্রণে। তিনি বলেন, ‘‘অন্য রাজ্যের লোকের নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত হলে মুখ্যমন্ত্রী জানতেন না, এটা কিভাবে সম্ভব? কিভাবে তা’হলে ভুতুড়ে ভোট ঢুকল? আমরাই তো বহুবার দাবি তুলে জমা দিয়েছি যে ভুতুড়ে ভোটার রয়েছে। তালিকা থেকে এসব নাম বাদ দিতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানতেন না? নির্দিষ্ট উদাহরণ দিয়ে চক্রবর্তী বলেন, ‘‘বারুইপুরের চম্পাহাটিতেই তৃণমূল এক বাবার নাম দিয়ে কোথাও আঠারো কোথাও চব্বিশ জনের নাম ঢোকানো হয়েছে। এরাই তৃণমূলের রত্ন। পুরো তালিকা বিডিও এবং এসডিও-কে সিপিআই(এম) দিয়েছে। এক-আধটা অভিযোগ ‘রিসিভ’ করেছে, বাকি বেশিরভাগ করেননি। মুখ্যমন্ত্রী ভূত রেখে দিতে চেয়েছিলেন। ভূত তাঁকে সাহায্য করবে বলেই রেখেছিলেন। এখন সেই ভূত সাহায্য করবে কিনা দুশ্চিন্তায় আছেন। মহারাষ্ট্র, দিল্লিতে ভুয়ো ভোটার দেখা গিয়েছে। এখন উনি চিন্তায় পড়েছেন। উনি সেই ভূত রাখতে চান যারা তাঁকে সাহায্য করবে।’’
Comments :0