সন্দেশখালিতে ভেঙে পড়ল কংক্রিটের সেতু। সন্দেশখালি এক নম্বর ব্লকের অন্তর্গত ঢ্যাকনামারী এলাকায় বিদ্যাধরী নদীর উপর নির্মিত একটি পুরনো কংক্রিটের সেতু হঠাৎ ভেঙে পড়েছে। পূর্ণিমার ভরা কোটালের প্রবল জলের চাপে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এই কংক্রিটের সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে বয়ারমারী-১ও২ গ্রাম পঞ্চায়েত ও হাটগাছি পঞ্চায়েত এলাকার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম ভরসা ছিল। সন্দেশখালির বিধায়ক সুকুমার মাহাতোর বাড়ির ঢিল ছোড়া দূরত্বে বামফ্রন্টের সময়ে তৈরি প্রায় ৪০ ফুট লম্বা ২০ ফুট চওড়া এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন কয়েকশো মানুষ স্কুল, বাজার ও কাজের প্রয়োজনে যাতায়াত করতেন। বিধায়ককেও যাতায়াত করতে হয় এই সেতু পেরিয়ে। সেতুটি ভেঙে পড়ায় এক মুহূর্তে থমকে গেছে স্বাভাবিক জনজীবন। সন্দেশখালির প্রাক্তন বিধায়ক সিপিআই(এম) নেতা নিরাপদ সর্দারের অভিযোগ, বাম আমলে নির্মিত এই সেতুর গত কয়েক বছর ধরে কোনও রকম সংস্কার বা মেরামতির কাজ হয়নি। বামফ্রন্টের সময়ে নিয়মিত সংস্কার করা হতো। রাজ্যজুড়ে যখন উন্নয়নের পাঁচালি নিয়ে তৃণমূল ফলাও করে প্রচার করছে ঠিক তখনই সুন্দরবন অঞ্চলে একে একে ভেঙে পড়ছে সেতু কালভার্ট। স্লুইসগেটগুলিও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অকেজ হয়ে পড়েছে। খালগুলিও সংস্কার করা হয় না। বয়ারমারি ১, ২ও হাটগাছি গ্রাম পঞ্চায়েতের জল নিকাশির গুরুত্বপূর্ণ এই খাল। সেটিও সংস্কার হয় না দীর্ঘদিন। তার উপর এই সেতু ভেঙে পড়লো। এস সি এস টি অধ্যুষিত সন্দেশখালি। তারা বিপদে পড়ুক চায় সরকার। কিছুদিন আগে এই এলাকায় আর একটি সেতু ভেঙে পড়ে। সংবাদমাধ্যম থেকে জানতে পারলাম বিধায়ক কথা দিয়েছিলেন অবিলম্বে এই সেতু নির্মাণ করা হবে। আজও হয় নি। এবারেও তা হবে বলা যেতেই পারে। কাল কানমারি এলাকার পরীক্ষার্থীরা কী ভাবে যাবে হাটগাছি হাইস্কুলে পরীক্ষা দিতে? এই প্রশ্ন তুলে তিনি পরীক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের কথা ভেবে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সেতু নির্মাণের দাবি তোলেন। স্থানীয় মানুষ জানান বারবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কোনও স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিনের অবহেলায় ও দুর্বল হয়ে পড়ার কারণেই শেষ পর্যন্ত এই সেতু ভেঙে পড়েছে বলে দাবি বাসিন্দাদের। সেতু ভেঙে পড়ার ফলে দুই পঞ্চায়েত কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। জরুরি পরিষেবা থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অসুস্থ রোগী, বয়স্ক মানুষ ও নিত্যযাত্রীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখে পড়েছেন।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ। আগামীকাল থেকেই মাধ্যমিক পরীক্ষা থাকায় বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য পরীক্ষার্থীদের কাছে এই সেতু ছাড়া আর কোনও বিকল্প পথ নেই। ফলে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন পড়ুয়া ও তাঁদের অভিভাবকেরা।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে সর্বত্র। অস্থায়ী সেতু নির্মাণ বা নৌকার ব্যবস্থা করে পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
Bridge Collapses
সন্দেশখালিতে পড়লো কংক্রিটের সেতু
×
Comments :0