"গত ৫৯ বছর ধরে আমি কলকাতার বাসিন্দা। কলকাতার সঙ্গে আমার একটা দৃঢ় নাড়ির যোগ জন্মেছে। কিন্তু বাংলাদেশের কথাও আমি ভাবি। পশ্চিম পাকিস্তানিদের অত্যাচার হতে মুক্ত হবার জন্য বাংলাদেশের মানুষ যেভাবে সংগ্রাম চালিয়েছে তার তুলনা পৃথিবীর ইতিহাসে কম। আমি বাংলাদেশের যোদ্ধাদের জন্য নিজেকে গৌরবান্বিত মনে করি। আমি একজন অক্ষম অসমর্থ বৃদ্ধ। যদি আমার শরীরে শক্তি থাকত তাহলে আমিও বাংলাদেশের মুক্তিফৌজে যোগ দিতাম। আজ যাঁরা গণ-প্রজাতান্ত্রিক বাংলাদেশের কর্ণধার হয়েছেন তাঁদের আমি অভিনন্দন জানাই। তাঁদের সঙ্গে আমার মতের মিল আছে কি নেই সে কথা আমি ভাবি না। আমার মনে এই বিশ্বাস আছে যে বাংলাদেশ একদিন পৃথিবীতে একটি আদর্শ রাষ্ট্রে পরিণত হবে।"
১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা প্রসঙ্গে লিখেছিলেন কিংবদন্তি কমিউনিস্ট নেতা ও স্বাধীনতা সংগ্রামী মুজফ্ফর আহমদ। কাঁটাতারের দু-পারে চেতনার ওপর মৌলবাদী আক্রমণের সময়ে কাকাবাবুর সেই লেখার প্রচার করছে এসএফআই।
২১-২৮ ফেব্রুয়ারি ‘মুক্তির সংগ্রাম আমাদের সংগ্রাম শীর্ষ’ প্রচারপত্র প্রকাশ করে প্রচারে নেমেছেন ছাত্ররা। শুক্রবার কলেজ স্ট্রিটে প্রচারপত্র প্রকাশ করেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু এবং সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী। ছিলেন শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার, অঞ্জন বেরাও।
প্রচারপত্রে রয়েছে বিধানসভায় জ্যোতি বসুর ভাষণও। ১৯৪৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বঙ্গীয় আইনসভায় 'ভ্রাতৃঘাতী দাঙ্গা বন্ধ হোক' নামক ঐতিহাসিক বক্তৃতা দেন তিনি। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এসএফআই’র অঙ্গীকার- ’ধ্বংস কর মৌলবাদ, অধিপত্যবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ’।
এসএফআই রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে বলছেন, "বাংলাদেশের মতই ভারতেও মৌলবাদের আস্ফালন প্রত্যেকদিন দেখা যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে যে কোনও ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক আঙ্গিকে পেশ করেছে তৃণমূল-বিজেপি। মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ, ঐক্যের পরিবেশ এই দুই বাংলারই ঐতিহ্য। বাংলা যে সংস্কৃতিকে লালন পালন করেছিল তা আজ আক্রমণের মুখে। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে আমাদের বারবার এই ঐক্যের কথা বলে যেতে হবে।"
SFI
এসএফআই’র মৌলবাদ বিরোধী প্রচারপত্রে কাকাবাবু, জ্যোতি বসুও

×
Comments :0