আবাস যোজনায় তালিকায় সীমাহীন দুর্নীতি, দলবাজি সহ প্রকৃত গরীব মানুষকে বঞ্চিত করার ঘটনা তুলে ধরে গ্রামপঞ্চায়েত দপ্তরে তালা লাগিয়ে তুমুল বিক্ষোভ দেখাল বঞ্চিত পরিবার গুলি। বিক্ষোভের জেরে দীর্ঘক্ষন পঞ্চায়েত দপ্তরে ঢুকতে পারলো না কর্মীরা সহ প্রধান ও উপপ্রধান। বিক্ষোভের মুখে পঞ্চায়েত প্রধান দপ্তরের সামনে থেকে পালিয়ে যান। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনী ব্লকের দেবগ্রাম গ্রামপঞ্চায়েত দপ্তরে।
গ্রামপঞ্চায়েত দপ্তর খোলার আগেই আবাস যোজনায় বঞ্চিত পরিবার গুলি দপ্তরে গিয়ে তালা লাগিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। বিক্ষোভকারী সুমনা দন্ডপাট, সমীর দলুই প্রমুখ বলেন, "আজ দীর্ঘ ১৪-১৫ বছর ধরে তাদের নাম তালিকায় থাকলেও আবাস যোজনার বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত। আবাস যোজনার তালিকা নিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা। ভোটের আগে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ঘটা করে আবাস যোজনায় বরাদ্দ ঘোষনা করা হলেও আমাদের নাম তালিকায় নেই। তৃণমূলের নেতারা সেই তালিকা ধরে যাদের বাড়ি যাচ্ছে তাদের কারোর একতলা কারোর দ্বিতলা বাড়ি রয়েছে। ওরা ধনীদের ঘর পাইয়ে দিয়ে এখন কাটমানি তুলছে। আমরা খেটে খাই। ভাঙা মাটির ঘরে, দলমা ছিটে বেড়া ঘরে শীত বর্ষা কাটাই। আমাদের কাটমানি দেওয়ার মতো ক্ষমতা নেই। তাই আমাদের বঞ্চিত করা হয়েছে।"
এদিন বিক্ষোভের মুখে পড়ে তৃণমূলের প্রধান তাজমূল হক। আর এই গ্রামপঞ্চায়েতে উপপ্রধান লালমোহন মাহাত, যিনি আগে বিজেপি করতো, পঞ্চায়েত ভোটে তৃণমূলে পাল্টি খেয়ে জয়ী হয়। প্রধান উপপ্রধান মিলে দলবাজি সহ আবাসে সীমাহীন দুর্নীতি করেছে বলে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ।
পঞ্চায়েত দপ্তরের গেটে প্রধান উপপ্রধানকে ঘিরে রেখে তালিকায় অনিয়ম এবং প্রকৃত প্রাপকদের নাম বাদ দেওয়ার কৈফিয়ত চেয়ে
বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে উঠে এলাকা। এমন ঘটনার মুখে পড়ে প্রধান ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। বিক্ষোভকারী এমন তালিকার তদন্ত সহ প্রকৃত গরীব মানুষকে আবাস যোজনায় বঞ্চনার প্রতিকারে শালবনী বিডিও দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি ঘোষনা করে ফিরে যান।
Comments :0