পালিয়ে বিয়ে করেছে বোন, তার জেরে প্রতিবেশীদের কটুক্তিতে তিতিবিরক্ত যুবকের চরম পদক্ষেপ। গুলিকরে খুন করা হয় এক দম্পতিকে। গত ২৭ জানুয়ারি ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশে। বুধবার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে মেইনপুরীতে। অভিযুক্ত যুবকের নাম আনন্দ। কয়েক মাস আগেই ভিন জাতের এক যুবকের সঙ্গে তার বোন পালিয়ে গিয়ে বিবাহ করেন। এই নিয়ে প্রতিবেশী মহেশ চন্দ্র ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা আনন্দকে কটুক্তি করতেন। এর জেরেই আনন্দ এবং মহেশের এক আত্মীয় মিলে তাঁকে খুন করে, বাড়িতে লুটপাটের পরিকল্পনা করেন।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে,গত ২৭ জানুয়ারী রাতে উত্তর প্রদেশের মৈনপুরী জেলার বর্ণাহাল থানার অন্তরগত ফুলাপুর গ্রামে ঘটে যাওয়া এক দম্পতির নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য সমাধান করল পুলিশ। জোড়া খুনের ঘটনায় একটি চাঞ্চল্যকর সত্য উঠে এসেছে। মৃত দম্পতিকে বহিরাগতরা খুন করেনি, বরং এক নিকটাত্মীয় এবং প্রতিবেশীই খুন করেছে। পুলিশের মতে, ফুলাপুর গ্রামের বাসিন্দা রাজারামের ছেলে মহেশচন্দ্র(৬০) এবং তাঁর স্ত্রী অনিতা দেবী(৫৮)কে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। মৃতের ছেলে ললিতের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে বর্ণাহাল থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার গণেশ প্রসাদ সাহার নির্দেশে, জোড়া খুনের ঘটনাটি সমাধানের জন্য পাঁচটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। নজরদারি, সাইবার সেল থেকে প্রাপ্ত প্রযুক্তিগত প্রমাণ, অপরাধস্থল থেকে উদ্ধার করা প্রমাণ এবং সিসিটিভি ক্যামেরা এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। একজন তথ্যদাতার কাছ থেকে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে, পুলিশ অভিযুক্ত অর্জুন এবং আনন্দকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ ধৃতদের কাছ থেকে মৃত দম্পতির বাড়ি থেকে চুরি যাওয়া গয়না উদ্ধার করেছে। অভিযুক্তের অবস্থান থেকে অপরাধে ব্যবহৃত দুটি পিস্তল এবং দুটি খালি কার্তুজও উদ্ধার করা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত আনন্দ বলে, তার বোন একটি নির্দিষ্ট জাতের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়েছিল এবং মৃত মহেশচন্দ্র এবং তাঁর পরিবার তাকে ক্রমাগত এই বিষয়ে কটাক্ষ করত। এতে আনন্দ এবং তার পরিবারের প্রতি অসম্মান হচ্ছিল, যার ফলে সে মহেশচন্দ্র ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ জন্মায়। আনন্দ অর্জুনের পরিচিত ছিল। কারণ অর্জুন মৃত মহেশচন্দ্রের কাকাতো ভাইয়ের জামাই ছিল এবং দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্কে টানাপোড়েন ছিল। আনন্দ অর্জুন পরিকল্পনা করে মহেশচন্দ্রের ছোট ছেলের বিয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ছিল। বিয়ে উপলক্ষ্যে বাড়িতে প্রচুর পরিমাণে গয়না মজুত থাকবে। সেই সুযোগ নেওয়া হবে। সেই মতো ২৩ জানুয়ারী মৃতের বড় ছেলে এবং পুত্রবধূ নয়ডায় চলে যাওয়ার পর থেকে অভিযুক্তরা সুযোগ খুঁজছিল। ২৭ জানুয়ারী রাতে আনন্দ ও অর্জুন তার ভাই রাম লক্ষনের বাড়ির সিঁড়ি দিয়ে ছাদ থেকে মহেশচন্দ্রের বাড়িতে প্রবেশ করে। ভেতরে ঢুকেই আনন্দ ঘুমন্ত মহেশচন্দ্রকে গুলি করে। গুলির শব্দ শুনে তাঁর স্ত্রী অনিতা দেবী জেগে ওঠে চিৎকার করতে থাকেন তখন অর্জুন তাঁকেও গুলি করে। এরপর দুই অভিযুক্ত বাড়ি লুট করে পালিয়ে যান।
Mainpuri Double Murder Case
বোনের পালানো নিয়ে কটুক্তি, মেইনপুরীতে জোড়া খুনের রহস্য উদ্ঘাটন
×
Comments :0