সিপিআই(এম)’র পার্টি কংগ্রেস এবং রাজ্য সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঠিক হবে নির্বাচনে পার্টি কিভাবে লড়বে। বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নে একথা বলেছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
এদিন হুগলীর পাণ্ডুয়ায় সিপিআই(এম)’র সাংগঠনিক কাজে যোগ দিতে যান তিনি। হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে তাঁর বৈঠক ঘিরে যে আলোচনা চলছে তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন করে সংবাদমাধ্যম।
নির্বাচনী সমঝোতা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, সিপিআইএম’র বৈঠক হয় পার্টির রাজ্য দপ্তরে। রাজনৈতিক ভাবে সমঝোতা, আসন সমঝোতা সব রাজ্য দপ্তরে বৈঠক থেকেই হয়। আবার অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও কথা বলা হয়।
সেলিম বলেন, বামফ্রন্টের মধ্যে আমাদের শরিক দলগুলির সঙ্গে আসন সমঝোতা চলছে। সেই প্রক্রিয়া তাড়াতাড়ি শেষ হবে। আমরা আগে থেকেই বলে দিয়েছি যে আগে বামফ্রন্টে কথা হবে। তারপর অন্য বামপন্থী দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সঙ্গে কথা হবে যারা বিজেপি এবং তৃণমূলকে হারানোর জন্য এককাট্টা হচ্ছেন। এমন কথাবার্তা চলছে। বামফ্রন্টের সঙ্গে আসন সমঝোতা হয়ে গেলে তার ভিত্তিতে যারা বিজেপি তৃণমূলের বিরুদ্ধে মানুষের অধিকার আদায়ে টানা লড়াইয়ের কথা বলবে তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলব।
সেলিম বলেন, সিপিআই(এম) বলেছে যে ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে বৃহত্তম ঐক্য দরকার। পার্টি কংগ্রেস এবং রাজ্য সম্মেলনে সেই অভিমুখেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সে কারণেই বিজেপি তৃণমূলের বিরুদ্ধে যারা থাকবে তাদের সবার সঙ্গে আমরা কথা বলব। কিন্তু কথা বলা মানেই নির্বাচনী সমঝোতা সেরে ফেলা নয়।
এক প্রশ্নে সেলিম বলেন যে লোকসভা ভোটের সময় মমতার কথায় ভাগাভাগি, কাটাকাটির কথা বলেছিলেন হুমায়ুন কবীর। আমরা তখনও বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে কথা বলছিলাম। তখন সংবাদমাধ্যম সে কথাকে গুরুত্ব দেয়নি। মোদী থেকে মিডিয়া হুমায়ুন কবীরকে রাতারাতি নেতা বানিয়ে দিল। কারণ তখন মহম্মদ সেলিম এবং কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীকে হারানোর দরকার ছিল। তখন তিনি মমতার সঙ্গী।
সেলিম বলেন, যে তৃণমূল হুমায়ুন কবীরকে বিধায়ক করল মন্ত্রী করল, যে হুমায়ুন কবীর বিজেপি-তে গিয়ে প্রার্থী হলেন, তিনিই রাতারাতি তৃণমূলে ফিরে এসে ফের বিধায়ক হলেন, তা নিয়ে কোনও সমস্যা হলো না।
কংগ্রেস প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে সেলিম বলেন, কংগ্রেস কী করবে তা তারাই ঠিক করবে। কিন্তু এটা ঠিক যে অধীর চৌধুরী যখন প্রদেশ সভাপতি ছিলেন তখন বামপন্থীদের সঙ্গে আসন সমঝোতা হয়েছিল। এখন যিনি প্রদেশ সভাপতি হয়েছেন তাঁর তৃণমূলের প্রতি বেশি দরদ আছে বলে মনে হয় বা তিনি নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না, এআইসিসি কী বলবে তার জন্য অপেক্ষা করছেন। তিনি বলেন, সিপিআই(এম) বা বামফ্রন্ট দীর্ঘদিন অপেক্ষা করে থাকতে পারে না।
সেলিম বলেন, বামপন্থীদের মধ্যে আসন সমঝোতা হচ্ছে। আমরা লড়াইয়ের ময়দানে নেমে গিয়েছি। আজকে পাণ্ডুয়ায় কর্মীসভা করছি, বুথ আহ্বায়কদের সভা করছি। আমরা অপেক্ষা করে থাকতে পারব না। কংগ্রেসকে ঠিক করতে হবে কার সঙ্গে যাবে।
সেলিম বলেন, বাংলার মানুষ চাইছে বিজেপি এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে সবাই এক জায়গায় থাকবে। এটা শুভঙ্কর সরকার যদি না চান আর অধীর চৌধুরী যদি চান, সেটা ওদের দলের সমস্যা।
বিজেপি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে সেলিম বলেন, আরএসএস-বিজেপি পোশাক দেখে, চেহারা দেখে, ধর্ম দেখে পেটাপেটি করে। ত্রিপুরার যে ছাত্রকে উত্তরাখণ্ডে হত্যা করা হলো তাকে ‘চিনা’ বলা হলো। আমরা তা করি না। আমরা সব ভারতবাসীকে ভারতবাসী মনে করি।
Md Salim
রাজ্য সম্মেলনের অভিমুখ অনুযায়ী হবে নির্বাচনী সমঝোতা: সেলিম
×
Comments :0