জানা অজানা
নতুনপাতা
পৃথিবীর সবচেয়ে সুগন্ধি ফুল
তপন কুমার বৈরাগ্য
১৬ জানুয়ারি ২০২৬, বর্ষ ৩
পৃথিবীর সবচেয়ে সুগন্ধি ফুল
তপন কুমার বৈরাগ্য
ফুল পবিত্রতার প্রতীক।শিশুও পবিত্রতার প্রতীক।তাই ফুলেদে সাথে শিশুদের
তুলনা করা হয়।সব শিশুই ফুল ভালোবাসে।আবার সে ফুল যদি সুগন্ধি হয়,
তবে তা সব মানুষের প্রিয় হয়ে ওঠে।আর সবচেয়ে সুগন্ধি ফুল হলে তার তো
কথাই নেই।পৃথিবীর সবচেয়ে সুগন্ধি ফুল হলো ইলাং-ইলাং।মনোরম সুগন্ধের
জন্য এই ফুলকে সুগন্ধির রানি বলে।ফুলগুলোর রঙ হলুদ।ঠিক এক একটা
তারার মতন দেখতে।সরু পাপড়ি যুক্ত।সবুজ রঙের বৃতি থাকে ।এই গাছ
৩০মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়।আশ্চর্যের বিষয় এই গাছ প্রতি বছর প্রায় পাঁচ ফুট করে
বৃদ্ধি লাভ করে।দশ বছর এই হারে গাছগুলো বৃদ্ধি লাভ করে।তারপরে বৃদ্ধির হার
কমে যায়।এই গাছ বহুবর্ষজীবি।পাঁচবছর পর থেকেই গাছগুলোতে ফুল ধরে।
তারপরে প্রতিবছরই ফুল ধরে।৩০ফুট গাছের বৃদ্ধির পর গাছটা সম্পূর্ণ ফুলে
ঢেকে যায়।বাতাস দিলে তখন এই ফুলের গন্ধ দু'মাইল দূর থেকে পর্যন্ত পাওয়া
যায়।এতো সুমিষ্ট গন্ধের জন্য এই ফুলে সবসময় মৌমাছি,পতঙ্গ,প্রজাপতিতে
ভরে থাকে।এটা একটা গ্রীষ্মমন্ডলীয় ফুল।গ্রীষ্মকাল এবং বর্ষাকালে এই ফুল
ফোটে।এই ফুলের রস দিয়ে নানারকম সুগন্ধি দ্রব্য তৈরি করা হয়।যার বাজারে
খুব চাহিদা আছে।ফিলিপাইন,ইন্দোনেশিয়া এই দুটো দেশে এই ফুল দেখা যায়।
এটা বৃক্ষ শ্রেণির গাছ।পথিকদের এই গাছ মিষ্টি ছায়া প্রদান করে। আমরা
জানি, যে সব গাছের ফুল রাতে ফোটে তারা বেশিরভাগ সুগন্ধি হয়।
এই গাছের ফুল সবচেয়ে সুগন্ধি হওয়ার কারণ বেশি রাতে ফোটে।রাত বারোটা
থেকে একটার মধ্যে এই গাছের ফুলগুলো ফোটে। এই ফুল দিনেরবেলায়
ম্রিয়মান হয়ে যার।রাতে সতেজ থাকে।দু'দিন পর্যন্ত এই ফুল সতেজ থাকে।
ফিলিপাইন,ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশে এই গাছের বাগান তৈরি করা হয়,
নানারকম সুগন্ধি দ্রব্য তৈরি করার জন্য।মে থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত বহু পর্যটক
এই ফুলের সবচেয়ে মিষ্টি গন্ধ উপলব্ধি করতে এই দেশে আসে।এই ফুল
শুধু সুগন্ধির রানিই নয়,নানা গুণে গুণান্বিতা।
Comments :0