ছাত্রের অভাবে বন্ধ হয়ে বসা সমস্ত স্কুল পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ নেওয়া, অবিলম্বে সমস্ত শুন্য পদে নির্দিষ্ট বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগ, স্কুলের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, বিনা রসিদে ভর্তি ফি নিয়ে স্কুল পরিচালনার খরচ অকারনে ছাত্রছাত্রীদের ওপর চাপানো বন্ধ করার দাবি সহ ১১ দফা দাবিতে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের কার্যালয়ে অভিযান করলো এসএফআই জলপাইগুড়ি জেলা কমিটি। জলপাইগুড়ির সমাজ পাড়া মোড় থেকে মিছিল করে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের কার্যালয়ে মিছিল পৌঁছায়।
জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের দপ্তরের ভেতরে ঢুকে প্রতিবাদ করতে গেলে পথ আটকায় পুলিশ। এরপর ডিআই অফিসের গেট থেকে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ শুরু করে মিছিলে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ছাত্রছাত্রীরা। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক না থাকায় এক আধিকারিক স্মারকলিপি গ্রহন করে বলেন তিনি কাজে যোগ দিলে বিষয়গুলি তার কাছে তুলে ধরা হবে। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করে এসএফআই জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি সাব্বির হোসেন জানান যে জেলা শহর থেকে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল, বনবস্তি,চা বাগান, কৃষি এলাকার বেশ কিছু স্কুল আজ সরকারি নীতির কারণে বন্ধের মুখে, নতুন শিক্ষক নিয়োগ নেই উপরন্তু শহরের বিভিন্ন স্কুলে ছাত্রাভাব অথচ শিক্ষক উপচে পড়ছে শাষক দলের মদতে। অথচ রাজ্যের সরকার স্কুলগুলিকে পরিকাঠামগত ও পরিষেবাগত পরিচালনার খরচ করার মতন অর্থ প্রদান করছে না। ফলে বাধ্য হয়ে স্কুল চালাতে ফি বৃদ্ধি সহ বিভিন্ন অনৈতিক পথে হাঁটছে স্কুলগুলি। এসএফআই দাবি করেছে অবিলম্বে স্কুল পরিচালনার খরচ সরকারকে প্রদান করতে হবে। ২৪০ টাকা বেশি কোনও ছাত্রের থেকে স্কুল ফিস নেওয়া যাবে না।
রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার হাল ধীরে ধীরে বেহাল হচ্ছে। বিক্ষোভ চলাকালীন এক প্রাক্তন ছাত্রী বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বলেন, আসলে সরকার চাইছে সকলের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থাটাকে উঠিয়ে দিয়ে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলিকে জায়গা করে দিতে। এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ময়দানে আছে এসএফআই। বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাছে জানানো দাবি গুলি পূরণ না হলে লাগাতার আন্দোলনের পথে নামবে এসএফআই। সকলের জন্য শিক্ষাকে পুনরায় ফিরিয়ে আনতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করবে বলে জানিয়েছে তারা।
অতিরিক্ত স্কুল ফি নেওয়া বন্ধ করা, বন্ধ হতে বসা সমস্ত স্কুল গুলোর পুনরুজ্জীবনের দাবিতে ডি আই অফিস অভিযান এসএফআই'র।
Comments :0