Visva Bharati University student protest

ফের উত্তাল বিশ্বভারতী, উপাচার্যর নির্দেশে আক্রান্ত পড়ুয়ারা

জেলা

ক্রমেই অশান্ত হয়ে উঠেছে বিশ্বভারতী চত্বর। ছাত্র, ছাত্রীদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই একতরফা সিদ্ধান্ত নিতে দেখা যায় উপাচার্যকে। ফলে উপাচার্যর বিরুদ্ধে ক্রমেই ক্ষোভ বাড়ছে পড়ুয়াদের। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা জানায় এদিনও তারা শান্তিপূর্ন ভাবেই উপাচার্যের সাথে দেখা করতে যায় কিছু দাবি দাওয়া নিয়ে। কিন্তু উপাচার্য পড়ুয়াদের দেখেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ। পড়ুয়ারা যাতে কোনওভাবেই উপাচার্যের সঙ্গে কথা না বলতে পারে সেই কারনে তিনি নিরাপত্তারক্ষী দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের আটকে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

সেই বাঁধা পেড়িয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে পড়ুয়ারা। ছাত্র ছাত্রীদের অভিযোগ তারপরেই উপাচার্য নিরাপত্তারক্ষীদের পড়ুয়াদের উপর 'গুলি চালিয়ে দেও’ বলে  নির্দেশ দেন। এরফলে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে পড়ুয়ারা। সেখানেই উপাচার্যকে ঘিরে অবস্থান বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। এই পরিস্থিতিতে উপাচার্য বহিরাগত ও তৃণমূলের কিছু দুষ্কৃতী বাহিনীকে ডেকে পড়ুয়াদের আন্দোলন ভাঙার চেষ্টা করে। এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিবাদ ও হাতাহাতি হয়। তাতে আহত হন বেশ কয়েকজন।

 

 

 

স্বাভাবিকভাবেই পড়ুয়া আন্দোলনে ফের বিশ্বভারতী উত্তপ্ত হয়েছে বুধবার বিকেল থেকে। বিশ্বভারতীর ছাত্র সোমনাথ সৌ জানিয়েছেন, ''আমরা দশ দিন আগেই জানিয়েছিলাম আমাদের দাবিসনদ পেশের কথা। কর্মসচীবের কাছে তা পেশ করতে বলা হয়েছিল। সাতদিন আগে তাও জমা দিয়ে সাতদিনের মধ্যে উত্তর চেয়েছিলাম। কিন্তু তা না মেলায় এদিন উপাচার্যের কাছে এসেছিলাম। আমরা আসতেই উপাচার্য নিরাপত্তারক্ষীদের আমাদের আটকাতে নির্দেশ দেন। এমনকি আমাদের উপর গুলি চালাতে বলেন।'' পড়ুয়াদের ক্ষোভগত পাঁচ বছর ধরে এক নায়কতন্ত্র চালাচ্ছেন উপাচার্য। যাকে খুশি তাকে সাসপেন্ড করা, শোকজ করা, বদলি করা, অনেকরই বেতন বন্ধ করে দেওয়ার মতো কাজ করেছেন।

উপাচার্যের রোষের শিকার হয়েছেন পড়ুয়ারাও। কাউকে হস্টেল থেকে বহিস্কার তো, কাউকে সাসপেন্ড করে শিক্ষাঙ্গন থেকে বাইরে রাখা হয়েছে। তাদের অপরাধ তারা উপাচার্যের অগণতান্ত্রিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় চালানো ও গাজোয়ারির বিরুদ্ধাচারন করেছেন। যে সব পডুয়ারা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে নানা দাবিতে সরব হয়েছেন তাদেরও নানা সমস্যায় ফেলার চেষ্টা করেছেন উপাচার্য। যেমন, হাইকোর্টের নির্দেশ সত্বেও সোমনাথ সৌ ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়নি। মীনাক্ষী মুখার্জীর পিএইচডি আটকে দেওয়া হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভুত ক্ষোভের আঁচে ফুঁসছেন পড়ুয়ারা। সেই ক্ষোভ থেকেই এদিনের উপাচার্য ঘেরাও।

 

 

0 Comments

Login to leave a comment