Editorial

‍ভোটকে নিলামে তুলেছে বিজেপি

সম্পাদকীয় বিভাগ

শেষ পর্যন্ত ভোটের মুখে এসে বিজেপি তাদের ভোটের ইশ্‌তেহার তথা সংকল্পপত্র প্রকাশ করেছে। সিপিআই(এম), কংগ্রেস, তৃণমূল সহ অন্য সব দল অনেক আগেই তাদের ইশ্‌তেহার প্রকাশ করেছে। অন্যরা কে কি প্রতিশ্রুতি দেয় সেটা দেখার জন্য এতদিন অপেক্ষায় ছিল। উদ্দেশ্য সবার প্রতিশ্রুতিকে ছাপিয়ে এক ধাপ উপরে থাকা। সেই মতো পার্টি অফিসে নয় হোটেলে ইশ্‌তেহার প্রকাশ করলেন অমিত শাহ। দেখা যাচ্ছে উন্নয়ন, স্থায়ী সম্পদ সৃষ্টি, শিক্ষা-স্বাস্থ্যের বিকাশ নিয়ে বি‍‌শেষ তাপ-উত্তাপ নেই। তবে ব্যাপক হইচই টাকা বিলানো নিয়ে। এক্ষেত্রে তৃণমূলকে টেক্কা দিতেই যেন ইশ্‌তেহার তৈরি করা হয়েছে। তৃণমূল মহিলাদের মাসে দেড় হাজার টাকা দেয়। বিজেপি তিন হাজার দেবে। তৃণমূল বেকার ভাতা দেয় দেড় হাজার। বিজেপি দেবে তিন হাজার। তেমনি তৃণমূল যেসব প্রকল্পে যত টাকা দেয় বা দেবে বিজেপি তার থেকে বেশি  দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে । রাজ্য ও কেন্দ্রের দুই শাসক ভোটকে কার্যত নিলামে তুলেছে। একটা ভোট কেনার জন্য কে কত টাকা দেবে তারই যেন প্রতিযোগিতা চলছে।
সংকল্পপত্রে অমিত শাহ-রা ১৫ দফা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার আগে নির্বাচনী প্রচারে এসে নরেন্দ্র মোদী ৬ দফা গ্যারান্টি বিলিয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো এসব অবাঞ্ছিত প্রতিশ্রুতি বা গ্যারান্টির আদৌ কোনও মূল্য আছে কি? প্রতিশ্রুতি তারাই অনর্গল দিয়ে যেতে পারে তারা যাদের প্রতিশ্রুতি পালনের দায়বদ্ধতা থাকে না। নরেন্দ্র মোদী ২০১৪ সালে বছরে দু’কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন । ১২ বছর ধরে ক্ষমতায় থেকে তিনি কটা চাকরি দিয়েছেন প্রকাশ্যে বলতে পারেননি। সেই দল কোন লজ্জায় এ রাজ্যে পাঁচ বছরে এক কোটি চাকরি দেবার কথা বলতে পারে। মোদীর গ্যারান্টির কি মূল্য আছে? কাশ্মীরে তিনি শত সহস্র গ্যারান্টি দিয়েছে তারপরও পুলওয়ামা হয়েছে। পহেলগাম হয়েছে। সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ বেড়েছে।
সরকারি চাকরিতে মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। দেশের বেশিরভাগ রাজ্যে বিজেপি’র সরকার। কোন রাজ্যে এটা কার্যকর হয়েছে মোদীরা বলবেন কি। বাস্তবে সর্বত্র সরকারি শূন্যপদে নিয়োগ বন্ধ। যেখানে নিয়োগই নেই সেখানে সংরক্ষণের ভাঁওতা কেন? তেমনি যেখানে সরকারি পরিবহণই কার্যত তুলে দেওয়া হয়েছে সেখানে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে বিনা ভাড়ায় মহিলাদের যাতায়াতের। বলা হয়েছে কলেজে ভর্তি হলে, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসলে টাকা দেওয়া হবে। কিন্তু বলা হয়নি বন্ধ স্কুল খোলা হবে। স্কুলে উন্নত শিক্ষার পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। সব শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ হবে। একইভাবে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং শূন্য পদে অধ্যাপক ও কর্মী নিয়োগের কথা বলা হয়নি। তৃণমূলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সিঙ্গুর থেকে শিল্প তাড়িয়ে সেই শিল্প গুজরাটে তৈরি করে মোদী-শাহরা দু’দশক পরে শাহরা সিঙ্গুরে শিল্প করার কথা বলছেন। নির্লজ্জ বেহায়া আর কাকে বলে।

Comments :0

Login to leave a comment