BOOKTOPIC — KRISHANU BHATTACHRJEE — EAK ADARSHA — NATUNPATA | 4 MAY 2026

বইকথা — কৃশানু ভট্টাচার্য্য — এক আদর্শ — নতুনপাতা — ৪ মে ২০২৬

নতুনপাতা/মুক্তধারা

BOOKTOPIC  KRISHANU BHATTACHRJEE  EAK ADARSHA  NATUNPATA  4 MAY 2026

বইকথা 

 

নতুনপাতা

----------------------------------------

এক আদর্শ

----------------------------------------

কৃশানু ভট্টাচার্য্য

 

৪ মে ২০২৬

 

আমাদের অনেকেরই ধারণা আছে যে যন্ত্রপাতি সমন্বিত নামী গবেষণাগার এবং গবেষকদের নূন্যতম যোগ্যতা হিসেবে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠিত ডিগ্রী ছাড়া গবেষণা অসম্ভব। ‌ কিন্তু সারা পৃথিবীতেই কখনো কখনো এই ধারণাকে বদলে দিতে পারেন কোনো কোনো মানুষ - যারা তাদের নিজেদের অনুসন্ধিৎসা এবং কাজের মধ্যে দিয়ে বিজ্ঞান চর্চাকে দিতে পারেন এক অন্য মাত্রা। ‌ প্রকৃতি বিজ্ঞানী গোপাল চন্দ্র ভট্টাচার্য ছিলেন এ ধরনেরই একজন মানুষ। ‌
সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মে,  গ্রাম্য পরিবেশে বড় হয়ে অদম্য কৌতূহলের বশে বিজ্ঞান সাধনার ক্ষেত্রে তিনি একটি আদর্শ হয়ে উঠেছিলেন।‌ অথচ জীবনে তিনি কখনো কোন উঁচু পদ নেননি,  যশের পিছনে দৌড়ান নি এবং নিজেকে খ্যাতিমান করবার চেষ্টাও করেন নি। নিবিড় অনুসন্ধানের মধ্যে দিয়ে তিনি এদেশের জৈব বৈচিত্র্য নিয়ে অনুসন্ধান করেছেন। ‌ আর তার মধ্যে দিয়েই হয়ে উঠেছেন একটি প্রতিষ্ঠান। ‌ 
তাঁর রচিত গ্রন্থ গুলি এখনও পর্যন্ত বাংলার জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে ধারণা করবার ক্ষেত্রে অন্যতম আকর গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হয়।‌ 'বাংলার কীটপতঙ্গ' গ্রন্থের জন্য তিনি পেয়েছিলেন রবীন্দ্র পুরস্কার। জগদীশচন্দ্র বসুর আহবানে বসু বিজ্ঞান মন্দিরের ১৯২১ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ দশক উদ্ভিদ বিজ্ঞানে তিনি গবেষণার কাজ করেছেন। ‌ এর পাশাপাশি বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চাকে জনপ্রিয় করবার জন্য আচার্য সত্যেন্দ্রনাথ বসু প্রতিষ্ঠিত বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদের নিজস্ব পত্রিকা 'জ্ঞান ও বিজ্ঞানের' সঙ্গে তিনি ছিলেন জন্ম লগ্ন থেকেই যুক্ত। ১৯৪৮ সালের ২৫ জানুয়ারি এই পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। ‌ আজও নিয়মিত এই পত্রিকা বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চাকে জনপ্রিয়করণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে। ‌ আর এই পত্রিকার সঙ্গে ১৯৪৮ এর জুলাই থেকে ১৯৭৭ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত যুক্ত ছিলেন গোপাল চন্দ্র ছিলেন পত্রিকার সম্পাদক।‌ ১৯৭৭ সাল থেকে আমৃত্যু ছিলেন পত্রিকার অন্যতম প্রধান উপদেষ্টা।

গোপাল চন্দ্র ভট্টাচার্যের এই বর্ণময় জীবনের কথা অত্যন্ত সাবলীলভাবে এবং প্রাসঙ্গিক সমস্ত তথ্যকে একত্রিত করে তুলে ধরেছেন বিশিষ্ট অধ্যাপক তথা জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক রণতোষ চক্রবর্তী। বইটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৮৯ সালের  আগস্ট মাসে। বইটি প্রকাশ করে বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ। ‌ পরবর্তী সময়ে ২০১৯ সালে বইটির একটি সম্পূর্ণ পরিমার্জিত এবং আধুনিক সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। ‌ জৈব বৈচিত্র্য নিয়ে আজকের দিনে যে সমস্ত ছাত্র-ছাত্রী অনুসন্ধানে আগ্রহী তারা এই ক্ষেত্রে একজন অগ্রণী মানুষ হিসেবে গোপাল চন্দ্র ভট্টাচার্যের কর্মধারা জানতে গেলে এই বইটি পড়তে পারে।

প্রকৃতি বিজ্ঞানী গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য 
রণতোষ চক্রবর্তী 
বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ কলকাতা

Comments :0

Login to leave a comment