দীপশুভ্র সান্যাল ও প্রবীর দাশগুপ্ত
রাজ্যজুড়ে টোটো চালকদের লাগাতার আন্দোলনের ফলে আবারও পিছু হটলো রাজ্যের তৃণমূল সরকার। এবার টোটো রেজিস্ট্রেশনের সময়সীমা ৫ মাস পিছানো হয়েছে।
আপাতত স্বস্তি মিলেছে, কিন্তু তা-ও এসেছে দীর্ঘ আন্দোলনের হাত ধরে। শুক্রবার জলপাইগুড়ি শহরে সে কারণে সমবেত হন টোটো চালকরা।
সিআইটিইউ অনুমোদিত পশ্চিমবঙ্গ ই-রিক্সা ইউনিয়নের জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক শুভাশিস সরকার বলেছেন, ‘‘আমাদের দাবি মেনে নিয়ে এবারে টোটো রেজিস্ট্রেশনের সময়সীমা ৫ মাস বৃদ্ধি করে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত করা হল। আন্দোলনের এই জয়ে সমস্ত টোটোচালক বন্ধুদের জানাই রক্তিম অভিনন্দন। লড়াই এখনো বাকি। আপনাদের সঙ্গে নিয়েই লড়াই চলবে।’’
রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় টোটো চালকদের রেজিস্ট্রেশনের নতুন নিয়মাবলীর প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়ে গিয়েছে সিআইটিইউ। তার মধ্যে রয়েছে জলপাইগুড়ি। রাজ্যে হাজার যুবক জীবিকার জন্য টোটোর ওপর নির্ভরশীল। তেমনি বহু প্রত্যন্ত এলাকায় পরিবহণের মাধ্যম হয়ে উঠেছে টোটো।
জলপাইগুড়িতে অতি সম্প্রতি ই-রিক্সা চালক ইউনিয়ন আরটিওর কাছে স্মারকলিপি দেয়। টোটো রেজিস্ট্রেশনের সরকারি সার্কুলার বাতিলের দাবি জানানো হয়। দাবিপত্রে বলা হয় যে শোরুম থেকে ‘বাহন‘ পোর্টালের মাধ্যমে কোনো ই-রিক্সা (টোটো)‘র রেজিস্ট্রেশন না করে টিটিইএন পোর্টালের মাধ্যমেই সর্বোচ্চ ৩০০ টাকায় সমস্ত ই-রিক্সা (টোটো)’র রেজিস্ট্রেশন করা উচিত। সিআইটিইউ অনুমোদিত ই-রিকশা চালক ইউনিয়নের ক্ষোভ টোটো চালকদের পুলিশ ও প্রশাসন নিয়মিত হেনস্তা করছে। তোলা আদায় নিত্য ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ই-রিক্সা (টোটো) সংক্রান্ত এক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। ই-রিক্সার ক্ষেত্রে নথিভুক্তি শোরুমগুলি থেকে করতে বলা হয়েছে। বিভিন্ন শোরুম ই-রিক্সা চালকদের থেকে বিভিন্ন অঙ্কের অর্থ দাবি করছে। জেলায় জেলায়ও ফারাক দেখা গিয়েছে। নথিভুক্তির শেষ তারিখ বলা হয়েছিল ৩০ নভেম্বর। আন্দোলনের চাপে সেই সময়সীমা বৃদ্ধি করে প্রথমে ৩১ ডিসেম্বর, তারপর ৩১ জানুয়ারি করা হয়। ই-রিক্সা চালক ইউনিনের নেতা শুভাশিস সরকার জানিয়েছেন দাবি মেনে নিয়ে এবারে টোটো রেজিস্ট্রেশনের সময়সীমা ৫ মাস বৃদ্ধি করে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত করা হল।
পরিবহণ দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পর থেকেই সারা রাজ্যে রাস্তায় আছেন টোটো চালকরা। ই-রিক্সা ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ জানাচ্ছেন যে ৫ শতাংশ টোটোচালকও রেজিস্ট্রেশন করাননি অত্যাধিক রেজিস্ট্রেশন ফি-র কারণে।
Comments :0