jute mill

মালিকদের দালালি করছে শ্রম দপ্তর, বন্ধ জুটমিলের সামনে সমাবেশে নেতৃবৃন্দ

রাজ্য জেলা

বুধবার প্রবর্তক জুটমিলের সামনে শ্রমিক সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন আভাস রায়চৌধুরি। ছবি: অভিজিৎ বসু

প্রবর্তক জুটমিল অবিলম্বে খোলা, শ্রম কোড বাতিল, ১২ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘট এবং পশ্চিমবঙ্গে শিল্প ধর্মঘটের সমর্থনে বুধবার প্রবর্তক জুটমিলের সামনে এক শ্রমিক সমাবেশ হয়। টেক্সম্যাকো, আগরপাড়া জুট এবং কামারহাটি জুট মিল থেকে শ্রমিকরা এই সমাবেশে আসেন। শ্রমিক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিআইটিইউ নেতা আভাস রায়চৌধুরি, বিসিএমইউ প্রবর্তক ইউনিটের সভাপতি মানস মুখার্জি, সহসভাপতি অরুণ চন্দ, সিআইটিইউ নেতা সায়নদীপ মিত্র, প্রদীপ মজুমদার, সুকান্ত গুহ, সুবীর ভট্টাচার্য, অনির্বাণ ভট্টাচার্য। সভাপতি ছিলেন জয়ন্ত দে।
পাটের জোগানের অভাব এবং অন্যান্য কিছু অজুহাত দেখিয়ে ৬ জানুয়ারি থেকে একতরফাভাবে প্রবর্তক জুটমিল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অনির্দিষ্ট কালের জন্য সাসপেনশন অফ ওয়ার্ক নোটিস দেওয়া হয়। মিল খোলার বিষয়ে সরকারের কোনও হেলদোল নেই। বিধায়ক সাংসদ কেউই কোনও কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করেনি। পাটের জোগানের অভাবকে কিভাবে অজুহাত হিসেবে মালিকপক্ষ ব্যবহার করছে মিথ্যে করে সেকথা উল্লেখ করে আভাস রায়চৌধুরি এদিন সমাবেশে বলেন, বামফ্রন্ট সরকারের পক্ষ থেকে বারবার চটশিল্পের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়েছে। বর্তমান রাজ্য সরকারের তরফ থেকে দিল্লির সরকারের কাছে চট শিল্পের স্বার্থে দাবি করা হয় না। ত্রিপাক্ষিক চুক্তি মালিকরা অগ্রাহ্য করলে রাজ্য সরকার সেই চুক্তি কার্যকর করার জন্য এগিয়ে আসে না। সব অংশের মানুষের ঐক্যবদ্ধ জোর দিয়ে তিনি বলেন, বামফ্রন্ট সরকারের সময়ের শ্রম দপ্তর মালিকের দালালি করেনি। আজকে শ্রম দপ্তর মালিকের পক্ষে থাকে।
তিনি বলেন, শ্রমকোড চালু হলে শ্রমিকস্বার্থে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কোনও অধিকার থাকবে না। ব্রিটিশ শাসনকালে যে অধিকার লড়াই করে শ্রমিকরা আদায় করেছিল তাকে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে শ্রম মাধ্যমে। করোনা কালের কৃষক বিরোধী যে আইন কেন্দ্রীয় সরকার গ্রহণ করেছিল কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম তাকে ঠেকিয়ে দিয়েছিল। একথা উল্লেখ করে আভাস রায়চৌধুরি বলেন, শ্রমকোডকে যে কোনও মূল্যে রুখতে হবে। শ্রমিকরা কখনও দায়িত্বজ্ঞানহীন হয় না তাই, পরীক্ষায় ছাত্র-ছাত্রী অভিভাবকদের যাতে কোন অসুবিধা না হয় এই কারণেই ১২ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের সমর্থনে পশ্চিম বাংলাতে কেবলমাত্র শিল্প ধর্মঘট হবে। সমস্ত ইউনিয়নগুলি ১২ ফেব্রুয়ারি ঐক্যবদ্ধভাবে চটশিল্পে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।
মানস মুখার্জি সমাবেশে বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের শ্রম কোডের ফলে, কোনোরকম অনুমতি ছাড়াই যখন তখন কারখানা বন্ধ করার লাইসেন্স পেয়ে গিয়েছে মালিকরা। সহযোগিতা করছে তৃণমূল সরকার। প্রবর্তক জুট মিল তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। প্রয়োজনে শ্রমিক পরিবার সহ ব্যাপকভাবে সকলের জমায়েত সংগঠিত করে প্রবর্তক কারখানার হেড অফিসে অবস্থান ধরনার আন্দোলন চালাতে হবে। এই আন্দোলনে অঞ্চলের সব মানুষকে এগিয়ে আসার আবেদন জানিয়ে সব ইউনিয়নের ঐক্যবদ্ধ সভা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
সায়নদীপ মিত্র শ্রমিক সমাবেশে বলেন, শিল্পের জন্য লুট করতে পুলিশ সাহায্য করে। কারখানা বন্ধের নোটিস দেখে শ্রমিকরা প্রতিবাদ করলে পুলিশ প্রতিবাদ থামাতে অতি সক্রিয় হয়ে ওঠে। কারখানা বন্ধ হলে কিংবা কোনও ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে শ্রমিকরা পুড়ে মারা গেলে, ফাইল চোর তৃণমূল সরকার নির্বিকার থাকে।

Comments :0

Login to leave a comment