Gujarat Farmer

ছেলেকে বাঁচাতে চিতাবাঘের সঙ্গে লড়াই বৃদ্ধ বাবার

জাতীয়

হাসপাতালে চিকিসাধীন আহত বাবা ও ছেলে।

যেখানে চিতাবাঘ এবং অন্যান্য হিংস্র বন্য প্রাণী দেখলে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ভয়ে। সেখানে নিজের জীবন বাজি রেখে চিতাবাঘের হাত থেকে ছেলেকে রক্ষা করলেন এক বৃদ্ধ বাবা। বুধবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে গুজরাটের গির সোমনাথ জেলার। এই ঘটনা সত্যি অবাক করে দেওবার মতোই। বেঁচে থাকার লড়াইয়ে কৃষক চিতাবাঘটিকে হত্যা করেছেন, বন্যপ্রাণী আইনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গির সোমনাথ জেলার গাংড়া গ্রামে দরজায় বসে থাকা বৃদ্ধ বাবার উপর হঠাৎ একটি চিতাবাঘ আক্রমণ করে। বৃদ্ধের চিৎকার শুনে, তার ছেলে তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসলে চিতাবাঘটি বৃদ্ধকে ছেড়ে ছেলের উপর আক্রমণ করে। বৃদ্ধ কৃষক সাহস করে চিতাবাঘের উপর এতটাই আক্রমণ করে যে সে প্রাণ হারায়। এদিন বন দপ্তরের আধিকারিকার জানিয়েছেন, গুজরাটের গির সোমনাথ জেলায় ৬০ বছর বয়সী এক কৃষক কাস্তে এবং বর্শা দিয়ে চিতাবাঘটিকে হত্যা করেছেন নিজেকে এবং তাঁর ছেলেকে চিতাবাঘের আক্রমণ থেকে বাঁচাতে। চিতাবাঘের হামলায় জখম ছেলে এবং বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিতাবাঘটিকে হত্যার জন্য তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন বন দপ্তরের আধিকারিকারা।
জানা গেছে, কৃষিকাজে যুক্ত বৃদ্ধের নাম বাবু ভাজা(৬০)। বুধবার রাতে সোমনাথ জেলার ভেরাভাল থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে গাংদা গ্রামের বৃদ্ধ তাঁর বাড়ির বারান্দায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, তখন এই ঘটনা ঘটে। রেঞ্জ ফরেস্ট আধিকারিক এল.বি. ভরওয়াদ জানান, কাছের ক্ষেত থেকে একটি চিতাবাঘ বেরিয়ে আসে এবং বৃদ্ধের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। চিতাবাঘটি তার হাত ধরে টানতে শুরু করে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাংবাদিকদের বৃদ্ধা বলেন, ‘‘আমার চিৎকার শুনে আমার ছেলে শার্দুল আমাকে বাঁচাতে দৌড়ে আসে। কিন্তু চিতাবাঘটি তাকে আক্রমণ করে এবং আহত করে। আমি যখন শার্দুলকে বাঁচাতে চেষ্টা করি, তখন চিতাবাঘটি আবার আমার উপর আক্রমণ করে। সেই কয়েক মিনিটের মধ্যেই সে আমাদের বেশ কয়েকবার আক্রমণ করে। বারান্দায় রাখা কাস্তে এবং বল্লম দিয়ে চিতাবাঘটিকে হত্যা করেছেন।’’ 
খবর পেয়ে বন দপ্তর ঘটনাস্থলে পৌঁছে চিতাবাঘটির দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। বন দপ্তরের আধিকারিকরা বলেন, বাবু ভাজার বিরুদ্ধে চিতাবাঘ হত্যার মামলা দায়ের করেছি এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment