Gas delivery workers strike

গ্যাস ডেলিভারি শ্রমিকদের ধর্মঘট বাঁকুড়াতে

জেলা

ন্যায্য মজুরির দাবীতে বৃহস্পতিবার বাঁকুড়া চন্দ্র গ্যাস এজেন্সির ডেলিভারি শ্রমিকরা এজেন্সির অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। ছবি: মধুসূদন চ্যাটার্জি।

মালিকপক্ষ বারে বারে কথা দিয়েও শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনায় না বসায় বৃহস্পতিবার সকালে বাঁকুড়ার চন্দ্র গ্যাস এজেন্সির ইন্ডেন গ্যাসের সিলিন্ডার ডেলিভারি ২৫জন শ্রমিকই এজেন্সির অফিসের সামনে বিক্ষোভে সামিল হলেন। শ্রমিকদের এই বিভের সমর্থনে ক্ষোবামপন্থী ট্রেড ইউনিয়ন সিআইটি ইউ, এআইটিইউসি, ইউটিইউসি ও এআইসিসিটিইউ’র নেতৃবৃন্দ তাঁদের পাশে এসে দাঁড়ালেন। শ্রমিকের আন্দোলনের তীব্রতা বুঝেই এদিন সকালেই চন্দ্র গ্যাস এজেন্সির মালিক শুভেন্দু চন্দ্র জানান, আগামী শনিবারই তিনি শ্রমিকদের সঙ্গে বসবেন আলোচনায়। শ্রমিকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন আলোচনায় তাঁদের দাবী না মেটালে তাঁদের ধর্মঘট চলবে। 
ঘটনা হল যে বাঁকুড়ার মাচানতলায় চন্দ্র গ্যাস এজেন্সিতে ২৫জন শ্রমিক দীর্ঘদিন কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিটি সিলিন্ডার গ্রাহকদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এজেন্সি তাঁদের ১২ টাকা করে মজুরি দেয়। কিন্তু ইন্ডেন গ্যাস সংস্থা থেকে একটি সিলিন্ডার গ্রাহকদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ৩৩ টাকা ৩৪ পয়সা চন্দ্র গ্যাস এজেন্সি পায়। মালিকপক্ষকে বিষয়টি জানালেও মালিকপক্ষ ও দোকানের ম্যানেজার শ্রমিকদের কোনও কথা শুনতে চায়নি বলে অভিযোগ। তাঁরা ২১ টাকা ৩৪ পয়সা করে কম পাচ্ছেন। এই ডেলিভারি শ্রমিকরা কাজের সময় গ্যাস সিলিন্ডারের আঘাতে প্রায় রক্তাক্ত হন। ভাঙ্গে হাত, পাও। কিন্তু তাঁদের চিকিৎসার জন্য কোনও সাহায্য করেনা এই এজেন্সি। নেই তাঁদের কোনও  ইএসআই-পিএফ। অসুস্থ হলে অসহায় অবস্থায় তাঁদের দিন কাটাতে হয়। নেই কোনও পরিচয় পত্রও। তাঁদের ন্যায্য মজুরির দাবিতে কয়েকদিন আগেই মালিকপক্ষকে তাঁরা জানায়। মালিকপক্ষ হায়রানি করে বলে অভিযোগ। তাঁদের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এই অবস্থায় নিজেদের বাঁচার তাগিদে এঁরা গত ডিসেম্বর মাসে ৭ দিন ধর্মঘট করেন।


জানান চন্দ্র গ্যাস এজেন্সিতে কাজ করা ডেলিভারি শ্রমিক উজ্জল চক্রবর্তী বলেন, "মালিকপক্ষ তাঁদের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে বসে বিষয়টি মিটিয়ে দেওয়ার কথা দিলেও কর্তৃপক্ষ কথা রাখেনি। তাই বাধ্য হয়েই আমরা ২২-২৬ জানুয়ারি ফের ধর্মঘটে সামিল হই, আমরা বিষয়টি ডেপুটি লেবার কমিশনার, বাঁকুড়া মহকুমা শাসক, বাঁকুড়া থানার আইসি, জেনারেল ম্যানেজার ইএসআইএসকে জানাই"
তিনি জানান যে আমরা ধারাবাহিক আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর জন্য দুদিন আগেই বাঁকুড়া মুটিয়া ভবনে বামপন্থী শ্রমিক সংগঠনগুলির সমর্থনে একটি কনভেনশনও হয়। এখনও এই এজেন্সিতে ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছেন শ্রমিকরা। শ্রমিক ধনঞ্জয় পাত্র জানান, গড়ে তাঁরা ২০-২২টি সিলিন্ডার প্রতিদিন গ্রাহকদের বাড়িতে পৌঁছান। সেখানে মাসে ৬-৭ হাজার টাকার বেশি রোজগার হয়না। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। ইন্ডেন কোম্পানী যেখানে ৩৩টাকা ৩৪ পয়সা ধার্য করেছে ডেলিভারি শ্রমিকদের জন্য সেখানে কোনও চন্দ্র গ্যাস এজেন্সি মাত্র ১২ টাকা দেবে? 
বৃহস্পতিবার সকালেই তাঁরা গ্যাস ডেলিভারি  শ্রমিকের পোষাক পড়েই হাজির হন বিক্ষোভে। ন্যায্য মজুরির দাবিতে শ্লোগান চলে। ধর্মঘট চলার জন্য দেখা যায় বহু গ্রাহক নিজেরাই সাইকেল। মোটর সাইকেলে করে এসে গ্যাস নিয়ে যাচ্ছেন। গ্রাহকরাও গ্যাস ডেলিভারি শ্রমিকদের প্রতি সহানুভূতি জানান। কারন তাঁরা গ্রাহকদের একান্ত পরিচিত। তাঁদের কষ্টটা গ্রাহকরা জানেন। শ্রমিকদের এই অনমনীয় মনোভাব দেখেই মালিকপক্ষ আলোচনায় বসার কথা বিক্ষোভ স্থানে এসেই জানান। এদিন শ্রমিকদের বিক্ষোভে হাজির ছিলেন শ্রমিক নেতা অশোক ব্যানার্জি, তপন দাস, ভাস্কর সিনহা, সুনীল পাত্র, বাবলু ব্যানার্জি প্রমুখ।

Comments :0

Login to leave a comment