CoochbeharBridgel Broken Down

ডাম্পারের ভারে ভেঙে পড়ল বিপজ্জনক সেতু, ছিন্ন সিতাই-শিতলখুচি যোগাযোগ

জেলা

ভেঙে পড়েছে গিরিধারি নদীর ওপর দেবনাথপুর সেতু।

জয়ন্ত সাহা

কোচবিহার জেলার ২৩টি বিপজ্জনক সেতুর তালিকায় ছিল  গিরিধারি নদীর ওপর দেবনাথপুর সেতুর নামও। সেই লৌহসেতুর ওপর দিয়ে ভারী যান চলাচল বন্ধ নিষিদ্ধ করেছিল প্রশাসন। সেই নিয়ম উপেক্ষা করে মাল বোঝাই ডাম্পার সেতু পার হতে গিয়ে শুক্রবার সকালে ঘটলো বিপত্তি। সেতু ভেঙে ডাম্পার পড়লো নদীতে। 
চালক ও সহকারী লাফিয়ে প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু সেতু ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে বিপাকে পড়েলেন ৫০ হাজারের বেশি মানুষ!
উল্লেখ্য দেবনাথপাড়া সেতু তৈরি হয়েছিল বামফ্রন্ট সরকারের মেয়াদে। তৃণমূল সরকারের সময়ে দীর্ঘদিন ধরেই সংস্কার হয়নি সেতুর। প্রশাসন সংস্কার বা নতুন সেতু না গড়ে ‘দুর্বল সেতু। ভারী যান চলাচল নিষিদ্ধ‘ লেখা বোর্ড লাগিয়ে দিয়েই দায় সেরেছিল প্রশাসন। এই সেতু দিয়ে শিতলখুচি থেকে সিতাই যাওয়ার জন্য ব্যবহার করতেন সাধারণ মানুষ। সেতু ভেঙে যোগাযোগ ছিন্ন হল সিতাই-শিতলখুচির।
উল্লেখ্য, কোচবিহারে বিপজ্জনক সেতু এর আগেও ভেঙে পড়েছে। কোন ক্ষেত্রেই নতুন সেতু গড়েনি জেলা প্রশাসন। বরাদ্দ অর্থ না আসায় সেতু গড়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে প্রশাসন সূত্রে। গিরিধারি নদীর ওপর দেবনাথপাড়া সেতু ভেঙে পড়া নিয়ে জেলায় মোট ৫টি সেতু ভেঙে পড়লো।
দেবনাথপাড়া সেতু ভেঙে পড়ার পরে সকাল গড়িয়ে বিকেল হলেও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ কিংবা সিতাইয়ের তৃণমুল বিধায়ক কিংবা শিতলখুচির বিজেপি বিধায়ক ঘটনাস্থলে আসেননি বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ।
আগামী ২ ফেব্রুয়ারি থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হবে। বিকল্প ব্যবস্থা না হলে পড়ুয়াদের ভয়ানক বিপদের সম্মুখীন হতে হবে।
দেবনাথপাড়া সেতুর মতই দিনহাটা নিগমনগরের ঘাটপার সেতু দিয়ে ভারী যান চলাচলের সময় সেতুটি দুলতে থাকে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। কিছুদিন আগেই এই এলাকার গিরিধারি নদীর ওপরের লৌহসেতু ভারি যান চলাচলের সময় ভেঙে পড়ার পড়েও নির্বিকার জেলা প্রশাসন।
একই ভাবে জেলার হলদিবাড়ি ব্লকের ৫টি সেতুকে ২০১৯ সালে বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা প্রশাসনের বাস্তুকারেরা। পাঁচটি সেতুতেই প্রবেশ মুখে হাইটবার লাগিয়ে প্রশাসন দায় সেরেছে। এই ৫টি সেতুও বরাদ্দের অভাবে নতুন ভাবে গড়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে।
মেখলিগঞ্জের কুচলিবাড়ির সতী নদীর ওপরের শীতলা সেতুর দুই ধারের রাস্তা ধসে গেছে। সেতুর লোহার পিলার মরচে ধরে ক্ষয়ে গেছে।ঝুঁকি নিয়ে ওই সেতু দিয়েও চলছে যানবাহনের যাতায়াত।কোচবিহারের হাঁড়িভাঙার রাসমোহন ঘাটের লৌহ সেতু ৪০ বছর আগে তৈরি। নিশিগঞ্জের চকিয়ারছড়া নদীর ওপরেও সেতুও যে কোন দিন ভেঙে পড়বে।
শুধু কোচবিহার জেলা নয় পাশের আলিপুরদুয়ার জেলার ২১টি সেতুকে বিপজ্জনক হিসেবে বাস্তুকারেরা চিহ্নিত করলেও জেলা প্রশাসনের উদাসীনতায় সেই দূবল সেতু দিয়েই চলছে যান চলাচল।
জলপাইগুড়ির ১১ টি সেতুও বিপজ্জনক। এই জেলার সব চেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে কূর্তি নদীর ওপরের সেতু দুর্বল। এখানেও বরাদ্দ আসেনি।একই অবস্থা নাগরাকাটার লালপুল সেতুরও।
আলিপুরদুয়ারের গ্যারগান্ডা সেতু, বঙ্কিম সেতু, তাতাসি সেতু, উড্ডা সেতুও বিপজ্জনক।
বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে নদী বেষ্টিত কোচবিহার জেলায় সেতু গড়ে যে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল সেই ব্যবস্থাকে উন্নত করা তো দূর, সংস্কারে বরাদ্দ মঞ্জুর না করে যোগাযোগ পরিকাঠামোকেই ধ্বংস করছেন। জনসাধারণের ক্ষোভ রয়েছে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী উদয়ন গুহের ভূমিকায়।

Comments :0

Login to leave a comment