মুক্তধারা
গল্প
শ্রাবণে চেতনার সীমান্তে
রাহুল চট্টোপাধ্যায়
৯ আগস্ট ২০২৬ | ৪র্থ বর্ষ
পড়ন্ত শ্রাবণসন্ধ্যা।বাইশের আকাশে মেঘ আছে, তবে রোদ ছিল। তাই সন্ধ্যের আকাশটা লাল। মেঘের গায়ে রোদের শৌখিন আঁকিবুঁকি। ছেলেমানুষী মন যা থেকে নানান রঙিন ছবির এঁকে নিতে পারে।আর পরিণত মন খুঁজে পেতে পারে কোন গূঢ় সত্যকে।
বারীণ ঝুল বারান্দায় দাঁড়িয়ে রাস্তার দিকে তাকিয়েছিল।কতো মানুষ চলেছে প্রতিনিয়ত।কেউ বাজারে, কেউ ট্রেন ধরতে কেউ বা ফিরছে কাজ থেকে। মানুষের এই চলাচল প্রতিদিনের একটা ছন্দকে ধরে রাখে। বারীণের চোখে তার ছোটবেলার শ্রাবণ ফিরে ফিরে আসে।কিছুটা কম লোকের শহর, কিছু যানবাহনের কমতি ছিল, তবু কি সুন্দর সেসব দিনের বিকেল,সন্ধ্যে। মনটা গেয়ে ওঠে -'এ কি লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণ'...
শ্রাবণের বাইশে দূর থেকে ভেসে আসতো গান। অনুষ্ঠানের সুর প্রাণ ছুঁয়ে ভেসে যেত শহর জুড়ে। বিদায়ের সুরে রঞ্জিত আবেগে আজও ভেসে চলে বারীণ।মনে হয় অসমাপ্ত কোন পরিচয় নিয়ে রবি ঠাকুর আজও পথ হেঁটে চলেছেন বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে,রাখীবন্ধনে,জালি ওয়ান ওয়ালা বাগের রাস্তায়, আফ্রিকার সেই ছায়াবৃতার সমর্থনে...
বারীণ বারান্দা থেকে এগিয়ে যায় ঘরে। চোখে মুখে তার রবীন্দ্রনাথের নৈসর্গিক মুর্ছনা। কবি যেন বিদায়ের দিনে নতুন এক জন্ম নিয়ে উপস্থিত আগামীর অপেক্ষায়। বারীণ শিহরিত হয়।
Comments :0