Post editorial

আরো তাড়াতাড়ি পা চালাও, ইতিহাস গড়তে হবে

সম্পাদকীয় বিভাগ

শ্রীদীপ ভট্টাচার্য
 

আর মাত্র কয়ে‌কটি দিন বাকি। তারপরই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন। দুই জনবিরোধী দক্ষিণপন্থী শক্তি যথাক্রমে আরএসএস-বি‍‌জেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাস্ত করার আহ্বান ও বাংলার জন্য এক বিকল্প কর্মসূচি উপস্থিত করে রাজ্যের বামফ্রন্ট অন্য সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে এক জোরদার ভূমিকায় অবতীর্ণ। এ এক নতুন ইতিহাস তৈরি করার লড়াই।
 এবারের রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনে মূল প্রশ্ন, কোন্‌ দিকে যাবে পশ্চিমবঙ্গ? দক্ষিণপন্থী প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি (তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি) বৃদ্ধি পাবে, না এদের রুখে দিয়ে, পরাস্ত করে, গণতন্ত্র, সমানাধিকার, মানবিকতার শক্তি, জনগণের শক্তি বাম গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি আরো জোরদার হবে। বাংলার পুনরুত্থানের শক্তি আরো অগ্রসর হবে কিনা এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বিধানসভা নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
এবারের নির্বাচনী সংগ্রামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ২৭ লক্ষ’র অধিক মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ঘটনা। (SIR-এর নাম করে এই বিপুলসংখ্যক মানুষের অধিকার হরণ করা হয়েছে। বামপন্থীদের ঘোষণা,  এই মানুষদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।
বাম গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির ইশ্‌তেহার, বিকল্পের দলিল
ইতিমধ্যেই প্রকাশিত ইশ্‌তেহারে বাম গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে,
 লক্ষ্য হলো বাংলার পুনর্জাগরণ।
 দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ প্রশাসন সুনিশ্চিত করা হবে।
 শক্তিশালী ও প্রাণবন্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে।
 মন্দির-মসজিদের বিবাদ নয়, সকলের কাজের ব্যবস্থার সুনি‍‌শ্চিতকরণ।
 নারীর নিরাপত্তার সাথে সাথে নারীর ক্ষমতায়ন সুনিশ্চিত করা হবে।
 শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর ভূমিকা।
 মৌলবাদের সাথে আপস নয়, জিরো টলারেন্সের দৃঢ়তা রক্ষা করা হবে।
 বাংলায় লুটেরা — প্রমোটারদের স্বর্গরাজ্য থাকবে না, লুটেরা তোলাবাজ মুক্ত বাংলা গড়ে তোলা হবে।
 ধর্ম-জাত-বর্ণ-ভাষা নির্বিশেষে বাংলার জনগণের স্বার্থে বিশেষ করে মেহনতী মানুষের এবং মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত ও গরিব মানুষের স্বার্থরক্ষা করাই হবে অগ্রাধিকার।
 প্রতিটি বিধানসভা এলাকার বৈশিষ্ট্য অনুসারে উন্নয়নের রূপরেখা প্রস্তুত করার কাজ যথেষ্ট এগিয়েছে।
৩৪ বছরের বামফ্রন্ট — বিকল্পের ইতিহাস
 এই নির্বাচনী সংগ্রামেও বামকর্মীদের বিশেষ করে সিপিআই(এম) কর্মীদের আত্মবিশ্বাসে ভর করে অগ্রসর হতে হবে। ১৯৭৭ থেকে ২০১১ এই ৩৪ বছর সময়কালে রাজ্যের বামফ্রন্ট সরকার নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। যা সমগ্র ভারতের ক্ষেত্রে বিকল্পের নজির উপস্থিত করেছিল।
 গ্রাম-শহরে বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া।
 গ্রাম সহ সমগ্র রাজ্যে বহু নতুন বিদ্যালয় স্থাপন ও মাদ্রাসা স্থাপন।
 বহু নতুন কলেজ ও নতুন বেশ ক‌য়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়।
 সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ব্যাপক সম্প্রসারণ।
 ভূমিহীন কৃষকদের হাতে জ‍‌মি।
 বর্গাদারদের অধিকার।
 কৃষির বিকাশ ও সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের জন্য স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা।
 কৃষি ফসলের ন্যায্য দাম সুনিশ্চিতকরণ।
 ফ‍‌ড়ে ও মহাজনদের অত্যাচার থেকে গরিব ও মাঝারি কৃষকদের মুক্তি।
 শিল্প স্থাপনের উপযোগী পরিবেশ স্থাপন ও নতুন নতুন বিনিয়োগ রাজ্যে আকৃষ্ট করা।
 আদিবাসী, দলিত ও পশ্চাদপদ জনগণের জন্য বিভিন্ন ধরনের সু‍‌যোগ-সুবিধা ও প্রকল্প।
 সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশ রাজ্যে, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা রুখবার জন্য কঠোর ব্যবস্থা।
 গ্রাম-শহরে উন্নয়নের সাথে সাথে জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন।
 নারীর সম্মান-মর্যাদা রক্ষা করা ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ।
 বিশালসংখ্যক স্বনির্ভর গোষ্ঠী যার মাধ্যমে মহিলাদের স্বাবলম্বী করার পদক্ষেপ। সমবায় আন্দোলনকে শক্তিশালী করে ব্যাপকসংখ্যক কর্মসংস্থান।
 একথা নিঃসন্দেহে উল্লেখ করা যায়, ৩৪ বছরে বামফ্রন্টের শাসনে রাজ্যে সর্বস্তরের মেহনতী মানুষ সহ গরিবরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সমর্থ হয়েছিলেন।
 পশ্চিমবঙ্গে আর এক নজিরবিহীন ঘটনা বামফ্রন্ট সরকার ঘটিয়েছিল। সাত-সাতটি সরকারের কোনও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনও দুর্নীতির অভিযোগ তুলবার সাহস কেউ দেখাতে পারেনি। বিগত ১৫ বছর ধরে এমন অভিযোগ মমতা ব্যানার্জি ও তার সরকার তোলবার হিম্মৎ দেখাতে পারেনি। সততার সাথে প্রশাসন পরিচালনা — এটাই বামপন্থীদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প।
দুর্নীতি ও স্বৈরশাসনের অবসান চাই
 মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে স্বৈরাচারী ব্যবস্থা কায়েম হয়েছে বাংলায়। বিগত ১৫ বছরে বামপন্থীরা বি‍‌শেষ করে সিপিআই(এম)-এর উপর ভয়ঙ্কর আক্রমণ পরিচালিত হয়েছে। তরুণ ছাত্রকর্মী সুদীপ্ত গুপ্ত থেকে শুরু করে অসংখ্য সংগ্রামী-প্রতিবাদী মানুষ শহীদের মৃত্যুবরণ করেছেন। অভয়ার নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনা কেউ বিষ্মৃত হবেন না। শহীদের রক্তে রাঙানো পশ্চিমবঙ্গে গত ১৫ বছরে অসংখ্য বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মী বিশেষ করে সিপিআই(এম) কর্মীরা তৃণমূল গুণ্ডাবাহিনীর অত্যাচারে আক্রান্ত হয়েছেন, হয়েছেন ঘরছাড়া। মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে হাজার হাজার বামকর্মীদের।
 খুনি ও সমাজবিরোধী পরিবৃত্ত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি রাজ্য পরিচালনা করে চলেছেন। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়-স্বাস্থ্য কেন্দ্র-হাসপাতাল সর্বত্রই তৃণমূল জোর জবরদস্তি ও গুণ্ডামি। স্বৈরাচারী তৃণমূল মানুষের ভোটাধিকার পর্যন্ত বহু ক্ষেত্রে কেড়ে নিয়েছে।
 মুখে বহু ধরনের বাগাড়াম্বর অথচ কয়েক হাজার স্কুল ও মাদ্রাসা তৃণমূল সরকার বন্ধ করে দিয়েছে। সরকার শিক্ষার ব্যাপারে চরম অনীহা ও অপদার্থতা প্রদর্শন করেছে। জনস্বাস্থ্যের ব্যাপারে সরকার তার দায়িত্ব ব্যাপকভাবে হ্রাস করেছে। বেসরকারি ও ব্যয়বহুল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দাপট বৃদ্ধি পেয়েছে।
 ফড়ে-তোলাবাজ-অসাধু ‍‌ঠিকাদারদের দাপট চলছে এই রাজ্যে। কৃষি ক্ষেত্রে অসাধু, অসৎ ব্যবসায়ীদের দাপট বৃদ্ধি পেয়েছে।
মা-বোনেদের সম্মান ও ক্ষমতায়ন
 বিগত ১৫ বছরে মা-‍বোনেদের ইজ্জত ও সম্মানের উপর বর্বরতম আক্রমণ বাংলা প্রত্যক্ষ করেছে। ধর্ষণ ও খুন-এর ঘটনা ব্যাপকভাবে ঘটেছে। আশ্চর্যের কথা হলো সমাজের কীট এই অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। অপরাধী চিহ্নিত করে কঠোরতম শাস্তি অন্য রাজ্যে সম্ভব হলে ও এই রাজ্যে একজনেরও শাস্তি হয়‌ না। অপরাধী ও ধর্ষকদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ।
 বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে প্রকাশিত ইশ্‌তেহারে বলা হয়েছে নারীর মর্যাদা, সম্ভ্রম রক্ষা করার সাথে সাথে নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বামপন্থীরা কাজ করবে। আর্থিকভাবে মহিলাদের স্বাবলম্বী করা ও মাইক্রোফিনান্সের অত্যাচার ও লুঠ থেকে তাদের রক্ষা করার দায়িত্ব পালন করতে বাম-গণতান্ত্রিক-ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। এটা তাদের অঙ্গীকার।
বিজেপি মানেই আরএসএস
 ভারতের স্বাধীনতার পর যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাগুলি সংগঠিত হয়েছে তার অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে আরএসএস অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সক্রিয়তা। মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারী নাথুরাম গড্‌সের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে ১৯৪৮ সালে স্বাধীন ভারতের সরকার আরএসএস-কে নিষিদ্ধ করেছিল। ১৯২৫ সালে পরাধীন ভারতে প্রতিষ্ঠিত হলেও দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে আরএসএস-এর ভূমিকা তাদের অতি বড় সমর্থকও দাবি করতে পারেন না। জন্মলগ্ন থেকেই তাদের ঘোষিত মূল শত্রু বামপন্থী তথা কমিউনিস্টরা। সংখ্যালঘুদের বিরোধিতা আরএসএস-এর বৈশিষ্ট্য।
 আরএসএস ভারতের সংবিধান — বহুত্ববাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র যার মর্মবস্তু — সেই সংবিধানকে তারা স্বীকার করে না। আরএসস ‘মনুবাদ’-কে সংবিধানের সম্মান দেয়। মনুবাদ নিচু জাতের মানুষকে মর্যাদা দেয় না। উচ্চ জাতির বল্গাহীন আক্রমণকে তারা মহিমান্বিত করে। মহিলাদের পুরুষদের অধীন থাকতে হবে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসাবে — মনুবাদের বিধান।
 ধর্ম যা মানুষের ব্যক্তিগত বিষয় সেই ধর্মকে ব্যবহার করে তারা রাজনীতি করে। ব্রিটিশরা যখন আমাদের দেশকে পরাধীন করে রেখেছিল, তারা আমাদের দেশবাসীকে সাম্প্রদায়িকতার নামে বিভক্ত করেছিল। ‘বিভক্ত করো — শাসন করো’ এটাই ছিল শাসক ঔপনিবেশিক শক্তি ব্রিটিশদের মূল নীতি। আরএসএস দ্বারা পরিচালিত বিজেপি ভারতবাসীকে বিভক্ত করছে, বিভাজিত করছে। তাদের সাম্প্রদায়িক নীতিকে ভিত্তি করে। জাত-বর্ণ-ধর্মকে অবলম্বন করে মানুষকে বিভক্ত করার নোংরা পথ ধরেই বিজেপি অগ্রসর হচ্ছে। সমগ্র দেশে এই মুহূর্তে চরম সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ ঘটানো হয়েছে। সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম অবিশ্বাস ও অব্যবস্থার পরিবেশ গড়ে তোলা হয়েছে।
 যুক্তিবাদ তথা  বিজ্ঞান মনস্কতার বিরুদ্ধে আরএসএস যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। দাভোলকর, কালবুর্গি, গৌরী লঙ্কেশ-এর মত মানুষরা মৌলবাদীদের ভয়ঙ্কর আক্রমণের শিকার।
কর্পোরেটের স্বার্থে কাজ করে বিজেপি
 বি‍‌জেপি, আরএসএস-এর দ্বারা পরিচালিত। বিজেপি’র আলাদা কোনো স্বত্ত্বা নেই। ভারতের বৃহৎ কর্পোরেটের স্বার্থরক্ষা করাই আরএসএস-বিজেপি’র লক্ষ্য। বিগত প্রায় ১২ বছরের বিজেপি শাসনে ভারতে কর্পোরেটের সম্পদ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ জনগণ, বিশেষ করে মেহনতী মানুষের রুটি-রুজি-অধিকারের ওপর আক্রমণ ঘটে চলেছে ভয়ঙ্করভাবে। শ্রমজীবী মানুষের সমস্ত অধিকার কেড়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ‘লেবার কোড’ নামক এক বর্বর আইন মোদী সরকার তৈরি করেছে।
 ২০১৪ থেকে প্রায় ১২ বছরে মোদীর শাসনে ভারতে বেকার আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বছরে ২ কোটি বেকারের কাজের যে প্রতিশ্রুতি ২০১৪-র নির্বাচনের পূর্বে আরএসএস-বিজেপি তথা নরেন্দ্র মোদী দিয়েছিল তা আজ চরম মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। বেকারি, অভাব, দারিদ্র্য, অসাম্য, বৈষম্য এই ভারতে ভয়াবহ রূপ পেয়েছে। বিশ্বের সর্বাধিক অসাম্যের দেশ ভারত — যেখানে মুষ্ঠিমেয় কর্পোরেটের হাতে অকল্পনীয় পরিমাণ সম্পদ, অপরদিকে ১৪২ কোটি ভারতবাসীর জীবনে অসহনীয় দুরাবস্থা।
 মূল্যবৃদ্ধি নিরন্ত্রণের কোনও প্রয়াস নেই কেন্দ্রের সরকারের। কৃষকের ফসলের ন্যায্য মূল্যের নিরাপত্তা নেই। ফড়ে ও অসাধু ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ কৃষিক্ষেত্রে, কর্পোরেটের স্বার্থরক্ষা করাই বিজেপি শাসনের কেন্দ্রীয় বিষয়।
নতুন ইতিহাস গড়াই লক্ষ্য
 দুই চরম প্রতিক্রিয়াশীল, দক্ষিণপন্থী শক্তিকে পরাস্ত করেই বাম গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। সেই বিকল্প কর্মসূচি — যা বামফ্রন্টের ইশ্‌তেহারে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে — বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যেই সরকার কাজ করবে। বর্তমান সময়ে পরিবর্তনের উপাদানগুলি ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। তবে এ‍‌ই উপাদানকে ব্যবহার করে মত সাংগঠনিক শক্তি যথেষ্টভাবে অর্জন করার উপরই সাফল্য নির্ভর করছে। বুথে বুথে সংগঠন গড়ে তুলে প্রতিটি ঘরে আমাদের প্রচার পৌঁছে দিতে হবে। মিথ্যা প্রচার ও প্রলোভনের মোকাবিলায় সক্ষম যুক্তি ও সঠিক বক্তব্য মানুষের কাছে, বিশেষ করে মেহনতী, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের মধ্যে নিয়ে যেতে হবে। সেইজন্য বুথ সংগঠন হলো মূল হাতিয়ার। লাল ঝান্ডাকে নিয়ে ঘরে ঘরে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে ভরসা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে উঠবেই। সময় খুব বেশি নেই। আরো জোরসে কমরেড। আরো জোরসে। নিচ্ছিদ্র নির্বাচনী সংগঠন ব‍‌ড়ো বেশি করে প্রয়োজন। চলুন কমরেড, দ্রুত প্রয়োজনীয় কাজগুলি শেষ করে নতুন ইতিহাস গড়তে অগ্রসর হই।

Comments :0

Login to leave a comment