NATUNPATA | STORY | ICE CREAM | SOURISH MISHRA | 15 AUGUST 2026 | 4th YEAR

নতুনপাতা | গল্প | আইসক্রিম | সৌরীশ মিশ্র | ১৫ আগস্ট ২০২৬ | ৪র্থ বর্ষ

নতুনপাতা/মুক্তধারা

NATUNPATA  STORY  ICE CREAM  SOURISH MISHRA  15 AUGUST 2026  4th YEAR

নতুনপাতা

গল্প 

আইসক্রিম

সৌরীশ মিশ্র 

১৫ আগস্ট ২০২৬ | ৪র্থ বর্ষ

 

আজ ১৫ই আগস্ট, বাস থেকে ট্রামডিপো স্টপেজে যখন নামলেন সীমা দেবী তাঁর দশ বছরের মেয়ে পাখিকে নিয়ে, তখন সন্ধ্যা হবে হবে করছে। সীমা দেবী তাঁর বাবার বাড়ি থেকে ফিরছেন।
এই ট্রামডিপো অঞ্চলটা সারাদিনই জমজমাট থাকে। গাড়ি চলাচল শুরু হয়ে যায় এক্কেবারে ভোর থেকেই। চলে সেই মাঝরাত পর্যন্ত। রাস্তার দু'দিকে অগুনতি দোকান। 
বাস স্টপেজ থেকে একটু এগিয়েই সামনে অটোস্ট্যান্ড। সেখান থেকে অটো নিতে হবে সীমা দেবী-দের। 
মায়ের হাত ধরে চলেছে ছোট্ট পাখি। হঠাৎ, মায়ের হাতটা একটু ঝাঁকালো সে।
"কি হোলো?" মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন সীমা দেবী।
অন্য হাতটা তুলে সামনে দেখায় পাখি।
সেই দিকে তাকান সীমা দেবী। এবং, তাকাতেই তাঁর বুঝতে অসুবিধা হয় না কি বলতে চাইছে মেয়ে। কারণ, পাখি যেইদিকে ইশারা করে দেখাচ্ছে, সেইখানে দাঁড়িয়ে একজন আইসক্রিম বিক্রেতা তাঁর গাড়িটা নিয়ে।
"আইসক্রিম খাবি?" জিজ্ঞেস করেন সীমা দেবী।
"হুঁ।" লজ্জা-লজ্জা মুখ করে মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে পাখি।
"চল্।" ঠোঁটের কোণে একটু হেসে বললেন সীমা দেবী।

মা আর মেয়ে পায়ে-পায়ে গিয়ে দাঁড়াল আইসক্রিম বিক্রেতার কাছে।
"কি দেবো ম্যাডাম?" জিজ্ঞেস করেন আইসক্রিম-ওয়ালা সীমা দেবীকে।
"কি রে, কি খাবি? স্টিক না কাপ?" মেয়েকে শুধোন সীমা দেবী।
"স্টিক, চকোলেট ফ্লেভার।" ঝটপট বলে ছোট্ট পাখি। 
সীমা দেবী বলতে যাচ্ছিলেন আইসক্রিম-ওয়ালাকে তাই দিতে, কিন্তু, তার আগেই ঐ আইসক্রিম বিক্রেতা বলে উঠলেন, "ম্যাডাম, চকোলেট ফ্লেভারের সব আইসক্রিম কিছুক্ষণ আগে একজন এসে নিয়ে গেছেন। তাই, চকোলেট ফ্লেভারের আইসক্রিমটা হবে না। কিন্তু, বাকি সব ফ্লেভারই আছে। যেটা চাইবেন, সেটাই পাবেন।"
সীমা দেবী তাকালেন মেয়ের দিকে। আর পাখির মুখের দিকে তাকাতেই তিনি বুঝতে পারলেন আইসক্রিম বিক্রেতার কথাগুলো শুনে মনটাই খারাপ হয়ে গেছে তাঁর মেয়ের । মেয়েকে চিয়ার আপ করতে তাই তিনি বললেন, "পাখি, তুই তো ম্যাংগো ফ্লেভারের আইসক্রিমও একটু একটু পছন্দ করিস, ঐটাই তাহলে খা। চকোলেট ফ্লেভারের আইসক্রিম না হয় অন্য একদিন তোকে খাইয়ে দেবো। তা, ম্যাংগো আইসক্রিম আপনার কাছে আছে তো?" শেষ বাক্যটা আইসক্রিম বিক্রেতার উদ্দেশে বললেন সীমা দেবী।
"হ্যাঁ, হ্যাঁ, আছে। দিই?" বলেন আইসক্রিম বিক্রেতা।
"কি রে নেব?" মেয়েকে ফের শুধোন সীমা দেবী।
"নাও।" ইচ্ছা নেই তবু মা বলছে তাই নিচ্ছে সে, এমন ভাবে কথাটা বলে পাখি।
আইসক্রিম বিক্রেতা সাথে সাথে ওর গাড়ির ঢাকনা খুলে ওতে হাত ঢুকিয়ে বের করে আনলেন একটা ম্যাংগো আইসক্রিম স্টিক।

পাখি ফের হাঁটছে মায়ের পাশে পাশে। এখন সে আইসক্রিমটা প্যাকেটটা থেকে খুলছে। 
"কি রে, খুলে দেবো?" মেয়েকে জিজ্ঞেস করেন সীমা দেবী।
"না না, আমি পারবো।" বলে ছোট্ট পাখি।
"সাবধানে খোল্। পড়ে না যায়, হাত থেকে মাটিতে।" বলেন সীমা দেবী।
"না না, পড়বে কেন! এইতো খুলে ফেলেছি।" বলতে বলতেই মোড়কটা থেকে স্টিক আইসক্রিমটা টেনে বের করে পাখি। তারপর, একবার চাটে সেটা। তারপর, পরপর আরো কয়েকবার। আর তারপরই বলে ওঠে, "আমি খাবো না এই আইসক্রিম। টেস্টটা কেমন একটা! এঃ, মুখটাই খারাপ হয়ে গেল! আমি খাবো না এটা, খাবো না এটা..." বলতে বলতেই আইসক্রিমটা এগিয়ে দেয় সীমা দেবীর দিকে সে।
ঠিক তখনই, কে যেন বলে ওঠে ওদের বাঁ পাশ থেকে, "দিদিটা খাবে না তো আমাকে দিয়ে দাও না ওটা, আমি খাই।"
সীমা দেবী আর পাখি দেখে, কথাটা বলেছে, একটা ছোট্ট বাচ্চা। খালি গা, হাফ প্যান্ট পড়া ছেলেটা ফুটপাথ লাগোয়া একটা বাড়ির দেওয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে, তাকিয়ে আছে সোজা লোলুপ দৃষ্টিতে পাখির হাতে ধরা আইসক্রিমটার দিকে।
"দিদি তো খাবে না, দাও না আমায় ওটা, খাই।" ফের বলে বাচ্চাটা।
"মা, দিয়ে দিই ওকে?" সীমা দেবীর কাছে জানতে চায় পাখি।
"না। একদম না।" সাথে সাথেই কেন জানি বলে ওঠেন সীমা দেবী।
কথাটা শুনেই বাচ্চাটার মুখটায় যেন আঁধার নেমে এল মুহূর্তে। 
ছোট হলেও পাখির বুঝতে অসুবিধা হয় না ছেলেটা কষ্ট পেয়েছে ওর মায়ের কথায়। তাই সে তাড়াতাড়ি বলে ওঠে, "কেন মা, দিয়ে দিই না আইসক্রিমটা ওকে?"
"না।" ফের দৃঢ়কণ্ঠে বারণ করেন মেয়েকে সীমা দেবী।
"কেন মা?" জানতে চায় পাখি। 
"ওটা তুমি চেটেছো, তাই।"
"ও, তাই তো। তাহলে! ওর তো আইসক্রিম খাওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল, মা।"
"আমি তো ওকে আইসক্রিম দেবো না বলিনি। কিনে দেবো নতুন একটা। কিন্তু, তোমারটা নয়। তুমি যদি না খাও আইসক্রিমটা, আমি খেয়ে নেবো, কিন্তু, ওকে দেবো না তোমার খাওয়াটা। আরে, ছেলেটা কোথায় গেল রে পাখি?" বলেই এদিক-ওদিক তাকাতে থাকেন সীমা দেবী।
"কোথাও যায় নি, মা। ঐ তো কোণটায় গিয়ে বসেছে এখন।" বলে পাখি।
সীমা দেবী দেখেন, ছেলেটা মুখ কালো করে বসে আছে ফুটপাথের একটা কোণে।
ছেলেটা দুঃখ পেয়েছে মনে তার কথাতে, বুঝতে পারেন সীমা দেবী। তাই, এবার ওকে একটা আইসক্রিম কিনে দিয়ে ওর মুখে হাসি ফোটানো তার কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। সীমা দেবী মেয়েকে বললেন, "চল্ তবে, ওকে একটা আইসক্রিম কিনে দিই। কি বল্?"
"হ্যাঁ, চলো মা।" মিষ্টি হেসে সাথে সাথে বলে ছোট্ট পাখি।

Comments :0

Login to leave a comment