মেঘালয়ে খনি বিস্ফোরণে উদ্ধার হলো আরও দুই শ্রমিকের মৃতদেহ। সব মিলিয়ে ২৭ জনের দেহ উদ্ধার হলেও নিখোঁজ রয়েছেন আরও বহু শ্রমিক। ফের সামনে এসেছে অবৈধ ‘র্যাট হোল’ মাইনিং।
বিপজ্জনক সুড়ঙ্গ খনন চলছেই, জয়ন্তীয়ায় উদ্ধার আরও ২ দেহ ইঁদুরের মতো গর্ত খুঁড়ে আকরিক কয়লা তুলে আনেন তাঁরা। একেই বলা হয় ‘র্যাট হোল’ মাইনিং। অত্যন্ত বিপজ্জনক এই কাজে নিযুক্তদের নামের তালিকাও রাখে না অবৈধ খনির মালিকরা। বেশিরভাগ সময়েই এরা স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের সঙ্গে জুড়ে থাকে।
জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর আধিকারিক এইচপিএস কাণ্ডারি বলেছেন, ‘‘দু’জনের দেহ এদিন মিললেও কতজন স্তূপের নিচে চাপা পড়ে রয়েছেন বলা সম্ভব নয়। চেষ্টা করা হচ্ছে এঁদের কাছে পৌঁছানোর।’’
গত ৫ ফেব্রুয়ারি ডিনামাইট বিস্ফোরণে খনিগর্ভে চাপা পড়েন শ্রমিকরা। সেদিন প্রাথমিকভাবে চার শ্রমিকের দেহ উদ্ধার করা গিয়েছিল। তারপর যত সময় এগিয়েছে বেড়েছে উদ্ধার হওয়া দেহের সংখ্যা। গত শুক্রবার মেঘালয় সরকারের মন্ত্রী লখমেন রিম্বুই জানিয়েছেন যে অবৈধ খনি চালানোর দায়ে দু’জনকে আটক করা হয়েছে। বিস্ফোরণের কারণ খোঁজা হচ্ছে।
মেঘালয়ের খনিতে নিহতদের জন্য শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা হয়েছে মৃতদের পরিবারে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে এমন বিপজ্জনক খনন চলতে দেওয়া হচ্ছে কিভাবে। দেশের যদি অগ্রগতি এতই তা’হলে এমন বিপদের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে যাচ্ছেন কেন শ্রমিকরা। মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে সাঙমা জানিয়েছেন যে থাঙ্গসকাই এলাকায় ওই খনির অনুমোদন ছিল কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উদ্ধারকারী দলের এক সদস্য সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন যে মাটির ওপর থেকে প্রায় ১০০ ফুট নিচে তিনটি ‘র্যাট হোল’ দেখা গিয়েছে। সুড়ঙ্গের উচ্চতা ২ ফুটের মধ্যে, চওড়ায় বেশি হলে তিন ফুট। ফলে তার ভেতরে ঢোকা যাচ্ছে না।
আসামের কাছার জেলা প্রশাসন শুক্রবারই জানিয়েছিল কেবল এই জেলারই ছয় জনের নাম রয়েছে মৃতদের মধ্যে। আহত হয়ে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আরও পাঁচ শ্রমিক।
Meghalaya 'Rat Hole' Mining
বিপজ্জনক সুড়ঙ্গ খনন চলছেই, জয়ন্তীয়ায় উদ্ধার আরও ২ দেহ
×
Comments :0