Samyukt Kisan Morcha

বাণিজ্য চুক্তিতে আমেরিকার কাছে পুরোপুরি আত্মসমর্পণ, বলছে কিসান মোর্চা

জাতীয়

আমেরিকার চাপে দেশের কৃষি বাজার পুরোপুরি খুলে দিয়েছে আরএসএস নিয়ন্ত্রিত বিজেপি সরকার। আমেরিকার কৃষি ও ডেয়ারি পণ্যে ছেয়ে যাবে বাজার। সর্বনাশ হবে কৃষিজীবিদের। ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সমঝোতাকে খারিজ করার দাবি জানিয়ে একথা বলেছে শতাধিক কৃষক ও খেতমজুর সংগঠনের মঞ্চ সংযুক্ত কিসান মোর্চা। 
১২ ফেব্রুয়ারি ধর্মঘটে সব অংশের কৃষিজীবী এবং সাধারণ মানুষকে শামিল হয়ে মোদী সরকারের আত্মসমর্পণের প্রতিবাদ জানানোর ডাক দিয়েছে মোর্চা। চুক্তিতে সমঝোতা না করার দাবি জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। 
ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সমঝোতার কাঠামো প্রকাশ করা হয়েছে শনিবার। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রী পীযুষ গয়াল দেশের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার দাবি জানিয়েছেন এদিনও। কাঠামোকে স্বাগত জানিয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। বৃহৎ ব্যবসায়িক মহলও স্বাগত জানাচ্ছে। গয়ালের দাবিকে পুরোপুরি খারিজ করে তাঁর পদত্যাগের পালটা দাবি জানিয়েছে মোর্চা।
চুক্তির কাঠামোতে বলা রয়েছে যে ভারত আমেরিকার সব শিল্প পণ্যে হয় শুল্ক কমাবে নয়তো একেবারে শূন্য করে দেবে। তার মধ্যে থাকবে বিভিন্ন খাদ্য ও কৃষিপণ্য, পশুখাদ্য, টাটকা ফল এবং প্রক্রিয়াজাত ফল, সয়াবিন তেল, মদ।’’ তার বিনিময়ে ভারতের ওপর চাপানো শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে ১৯ শতাংশে নামাবে আমেরিকা। উল্লেখ্য, এই ২৫ শতাংশের ওপর আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক আমেরিকা চাপিয়েছে রাশিয়ার থেকে তেল কেনার দায়ে। 
গয়াল দাবি করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী বিশেষ কৃতিত্ব দেখিয়ে ভারতের কৃষি এবং দুগ্ধজাত পণ্যের ক্ষেত্র বা ডেয়ারি ক্ষেত্রকে পুরোপুরি রক্ষা করেছেন। অবাধ বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
মোর্চার বিবৃতিতে এদিন বলা হয়েছে, আমেরিকা ১৮ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসিয়েছে। আর ভারত শুল্ক শূন্য করেছে। একে অবাধ বাণিজ্য বলাই যায় না। আমেরিকায় ভারতীয় পণ্যে শুল্ক ছিল ৩ থেকে ১৮ শতাংশ। তা এখন ১৮ শতাংশ হচ্ছে। উলটোদিকে ভারতের শুল্কের হার ছিল ৩০ থেকে ১৫০ শতাংশ। সেটি কমিয়ে শূন্য করা হচ্ছে। হুহু করে ঢুকবে আমেরিকার পণ্য। আমেরিকার কৃষি বহুজাতিকে ফাঁসে কৃষিজীবিদের বন্দি করার পাকা বন্দোবস্ত করা হয়েছে। আরএসএস এতদিন দাবি করত বাইরে থেকে দুধ আসবে না। তাদের প্রভু ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিতে নিজেদের কথা গিলতে হচ্ছে আরএসএস-কে। 
মোর্চা বলেছে, কাঠামোর বয়ানে যা বলা হয়েছে তাতে পরিষ্কার যে আমেরিকার বহুজাতিক সংস্থা ভারতের পশুখাদ্যের বাজারও দখলে নেবে। আমেরিকায় কৃষি উৎপাদনে বিপুল ভরতুকি দেওয়া হয়। ভারতের কৃষক মারা যাবেন। আপেল, আনারস, শুকনো ফলের আমদানিতে ধস্ত হবেন জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশ এবং উত্তর পূর্বের কৃষকরা। 
মোর্চা বলেছে যে ভারতের শিল্প এবং দুগ্ধজাত উৎপাদন ক্ষেত্র গুরুতর বিপদের মুখে পড়বে। বাজেটেই বলা হয়েছে যে ভারতে কৃষি উৎপাদনের হার ৩.১ শতাংশ মাত্র। কর্মসংস্থান হ্রাস পাচ্ছে। ঘোষিত ন্যূনতম দাম কম, তবু তা-ও পাচ্ছেন না কৃষকরা। কৃষকের ঋণ সমানে বাড়ছে। সামাজিক খাতে বরাদ্দ কমছে। আরএসএস-বিজেপি সরকার দেশের শ্রমিক ও কৃষকদের ওপর পুরোদমে আক্রমণ চালাচ্ছে। দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে গুরুতর বিপদ হবে। দেশের ১৭ কোটি গ্রামীণ পরিবার। ৮৬ শতাংশ কৃষকই ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক। দেশের সরকার তাঁদের ভয়ঙ্কর সাম্রাজ্যবাদী আক্রমণের মুখে ফেলে দিয়েছে।
মোর্চা বলেছে যে এর আগে ব্রিটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তির ফলে দেশের কৃষকরা বিপদে পড়ছেন। আরও ভয়াবহ হবে বিপদ। ১২ ফেব্রুয়ারিতে জবাব দিতে হবে শ্রমজীবী কৃষিজীবীদের।

Comments :0

Login to leave a comment