সমাবেশ করার জন্য ১২০০ নেতৃত্ব-কর্মী, সমর্থকের বিরুদ্ধে মামলা! চলতি মাসের ২৪ জানুয়ারি মালদহ শহরের রথবাড়ি মোড়ে সমাবেশ করার জন্য সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখার্জি, সুমিত দে সহ রাজ্য ও জেলা স্তরের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করল মালদহ জেলা পুলিশ। পুলিশের অভিযোগ অনুমতি না নিয়ে দীর্ঘক্ষণ রাস্তা অবরোধ করা হয়েছিল। পাল্টা পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে সিপিআই(এম)।
বুধবার সিপিআই(এম) মালদহ জেলা সম্পাদক কৌশিক মিশ্র সাংবাদিক সম্মেলন করে পুলিশের বিরুদ্ধেই পাল্টা অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, "প্রায় একমাস আগে থেকে বৃন্দাবনী মাঠে অনুমতি চাওয়া হলেও পুলিশ অনুমতি দিতে চাইনি। এর বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হই আমরা। তখন জেলা প্রশাসন মালদহ কলেজ ময়দানে সমাবেশ করার জন্য বলে আদালতে। হাইকোর্ট নির্দেশ দেয় কলেজ মাঠে সমাবেশ করতে দেওয়ার জন্য এবং কলেজের সঙ্গে কথা বলে সমস্ত ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থাকবে জেলা প্রশাসনের। কিন্তু জেলা প্রশাসন কলেজের কাছ থেকে কোনও রকম অনুমতি নেইনি, জানার চেষ্টাও করেনি সেই সময় কলেজে কোনও রকম পরীক্ষা আছে কিনা। কলেজ প্রশাসনের কাছে যখন সিপিআই(এম)'র পক্ষ থেকে যাওয়া হয় তখন কলেজ প্রশাসন বলে ওই সময়ে কলেজে পরীক্ষা রয়েছে। ফের মামলা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে ওঠে, ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতি বলেন পরীক্ষা সমস্যা করে সমাবেশ করা যাবে না। সিপিআই(এম)'র পক্ষ থেকে আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, আমরাও চাই না পরীক্ষার ক্ষতি করে সমাবেশ করতে।কিন্তু জেলা প্রশাসন কেন আগে থেকে কোনও ব্যবস্থা করল না?
ডিভিশন বেঞ্চ রায় দেয় ২৪ তারিখ বেলা ১২টার আগেই জেলা প্রশাসনকে অনুমতি দিতে হবে। সেই অনুযায়ী ২৩ তারিখ রাত ১১ টায় ইংরেজ বাজার থানার আইসি মেল করে সমাবেশ জমায়েত সহ ব্যবস্থাপান ব্যাপারে জানতে চান। তার সদুত্তরে দেওয়া হয় সিপিআই(এম)'র পক্ষ থেকে কিন্তু পুলিশ প্রতি ১০ জনের একজন ভলেন্টিয়ারের নাম ও ফোন নাম্বারের তালিকা চায়। কিন্তু পরের দিন সমাবেশ থাকার কারণেই সেই তথ্য দেওয়া সম্ভব হয়নি শেষ মুহূর্তে। তাই পুলিশ বলে অনুমতি পাওয়া যাবে না। পুলিশের অনুমতি উপেক্ষা করেই গোটা জেলা থেকে হাজারে হাজারে মানুষ উপস্থিত হন রথবাড়ি মোড়ে। ব্যাপক জমায়েত নিয়ে সমাবেশ সম্পন্ন হয়।"
মিশ্র আরও বলেন, "প্রায় এক মাস ধরে সমাবেশ বানচাল করার চেষ্টা করছিল পুলিশ-প্রশাসন। প্রথমে অনুমতি না দিয়ে পড়ে শেষ মুহূর্তে অনুমতি খারিজ করেও আটকাতে পারিনি। মানুষ তাদের দাবিতে সোচ্চার হয়ে সমাবেশ সফল করে। তাই সমাবেশের শেষে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করে। সেই মামলায় সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম সহ রাজ্য ও জেলা স্তরের নেতৃত্ব ও প্রায় সবমিলিয়ে ১২০০ কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
কৌশিক মিশ্র পুলিশের প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, "পুলিশ আসলে তৃণমূলের হয়ে কাজ করছে। মালদা সহ কোটা রাজ্যে সিপিআইএম বিরোধী মুখ হয়ে উঠে আসছে ফলে তাদের আটকানোর জন্য সমস্ত প্রয়াস চালাচ্ছে পুলিশ।"
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বামপন্থীদের মামলার ভয় দেখিয়ে দমানো যাবে না প্রয়োজনে প্রশাসনকেও হাইকোর্টের নিয়ে গিয়ে দাঁড় করাবো। আমাদের কাছে সমস্ত রকমের প্রমাণ সহ তথ্য রয়েছে।
Comments :0