এতদিন যে সমস্যার মুখে বিএলও এবং আমজনতাকে পড়তে হলো তার খেসারত কে দেবে। তাড়াতাড়ি ফর্ম জমা দেওয়ার নামে অনেকেই অনেক ভুল ভ্রান্তি করেছেন তাদের কি হবে। অনেক মৃত মানুষের ফর্ম ছাপিয়ে বিলি করার জন্য দেওয়া হয়েছিল অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো বিলিও হয়ে গেছে সেইগুলোর কি হবে।
এসআিআর’র সমসয়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েও এই প্রশ্ন তুলেছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। সেলিম বলেন, সিপিআই(এম) প্রথম থেকেই দাবি করে এসেছে এত কম সময়ে এই এসআইআর প্রক্রিয়ার কাজ করা সম্ভব নয় আমি নিজে সময় বাড়ানোর জন্য চিঠি দিয়েছি সিইও দপ্তরকে। দেরি করে, বহু মানুষকে বিপাকে ফেলে, শেষে সেই সিদ্ধান্তই নেওয়া হলো।
রবিবার ‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’-র ফাঁকে, জলপাইগুড়ি ও শিলিগুড়িতে, সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।
সেলিম বলেন, নির্বাচন কমিশন প্রথম থেকেই এস আই আর প্রক্রিয়ায় প্রস্তুত ছিল না। ফর্ম বিলি শুরুর দিনেও অর্ধেকের বেশি ফর্ম ছাপাই হয়নি। সঠিকভাবে ট্রেনিং হয়নি বিএলও-দের। ‘ডেটা এন্ট্রি‘ বা আনুষঙ্গিক কাজের জন্য নিয়োগের কোনো ব্যবস্থা না নিয়েই কমিশন এসআইআর-এ নেমে পড়েছে।
তিনি বলেন, বিজেপি তৃণমূল প্রথম থেকেই হিন্দু মুসলমান রোহিঙ্গা বাংলাদেশি বলে ভাগ করার চেষ্টা করছে। সেই সময় সিপিআই(এম) প্রতি এলাকায় সহায়তা কেন্দ্র করেছে। বিহারে আমরা দেখেছি এত কম সময় এস আই আর প্রক্রিয়া করা যায় না। বহু ভুল বেরিয়েছে বিহারের এসাইয়ারে। সুপ্রিম কোর্টও সেই কথাই বলেছে।
সেলিম বলেন, আসলে কমিশন পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল চেনে না। বিস্তীর্ণ এলাকায় আদিবাসী মূল বাসি উপজাতি বাস্তুহারা মানুষ রয়েছে। এছাড়াও যাঁরা এই এসআইআরের কাজ করছেন, মূলত শিক্ষকরা, তাঁরা ছাত্রদের পড়াতে পারছেন না। আমাদের রাজ্যে স্কুল গুলোর অবস্থা খুবই খারাপ শিক্ষক নেই।
সেলিম বলেন, যে বিএলও-দের মৃত্যু হয়েছে এই কাজ করতে গিয়ে, তার দায় নিতে হবে রাজ্য প্রশাসনকে ও কেন্দ্রের প্রশাসনকে এবং কমিশনকে। নির্বাচন দপ্তর চাপ দিয়েছে, আর বিজেপি-তৃণমূল বিএল-দের টানাপোড়েনের মধ্যে রেখেছে।
সেলিম বলেন, দক্ষিণপন্থীরা সবসময়ই এটা চায় যাতে মানুষকে বিভিন্ন বিষয়ে ব্যস্ত রাখা যায়। যাতে জীবনের প্রধান সঙ্কটগুলি আড়ালে চলে যায়। যেমন মোদী নোট বন্দির সময় করেছিল। বলেছিল কালো টাকা উদ্ধার হবে কিন্তু একটা কালো টাকা উদ্ধার হয়নি। উল্টে মানুষকে লাইন দিয়ে ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়া করালো।
Comments :0