দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও ধারাবাহিক আন্দোলনের পর অবশেষে জয় পেল সাধারণ মানুষের দাবি। বুধবার ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে চালু হলো বহু প্রতীক্ষিত প্রসূতি মায়েদের অস্ত্রোপচার বা সিজার পরিষেবা। ডিওয়াইএফআই’র লাগাতার আন্দোলন ও চাপের মুখে পড়ে প্রশাসন শেষ পর্যন্ত এই পরিষেবা চালু করতে বাধ্য হয়। পরিষেবার প্রথম দিনেই এক পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন সাঁকোয়াঝোড়া–২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার প্রসূতি উর্মিলা রায়। নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে ‘উৎসব’।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সাল থেকেই বামপন্থী যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই ধূপগুড়িকে মহকুমা এবং এখানকার গ্রামীণ হাসপাতালকে পূর্ণাঙ্গ মহকুমা হাসপাতালে উন্নীত করার দাবিতে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে আসছে। ২০২৩ সালে সরকার ধূপগুড়িকে মহকুমা ঘোষণা করলেও বাস্তবে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়ন হয়নি বলেই অভিযোগ। সিজার পরিষেবা না থাকায় সামান্য জটিলতাতেই প্রসূতি মায়েদের ৪০ কিলোমিটার দূরে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠাতে হতো। ফলে মাঝরাস্তায় প্রসব কিংবা প্রসূতি মৃত্যুর আশঙ্কা ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা।
‘হাসপাতাল আছে, পরিষেবা নেই’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে গত ৯ জানুয়ারি ডিওয়াইএফআই-এর পক্ষ থেকে ধূপগুড়ির মহকুমা শাসকের কাছে কড়া ভাষায় ডেপুটেশন দেওয়া হয়। সিজার পরিষেবা অবিলম্বে চালু না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল। সেই আন্দোলনের মাত্র ২০ দিনের মধ্যেই, ২৮ জানুয়ারি বুধবার প্রশাসনের তৎপরতায় চালু হয় অপারেশন থিয়েটার।
এদিন প্রথম অস্ত্রোপচারে উর্মিলা রায় একটি সুস্থ পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক নবজাতকের নামকরণ করেন ‘উৎসব’। হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যেও এদিন খুশির আমেজ লক্ষ্য করা যায়।
ডিওয়াইএফআই নেতা নির্মাল্য ভট্টাচার্য জানান, “এটি শুধু একটি পরিষেবা চালু হওয়া নয়, ধূপগুড়ির মানুষের ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের জয়। তবে এখানেই শেষ নয়—পূর্ণাঙ্গ পরিকাঠামো, পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও আধুনিক স্বাস্থ্য পরিষেবার দাবিতে আমাদের নজরদারি ও আন্দোলন চলবে।”
Dhupguri
ধূপগুড়িতে শুরু হলো সিজার পরিষেবা, জন্ম নিল ‘উৎসব’
×
Comments :0