CPIM GHATAL

এক সপ্তাহে ১১ হাজার ভোটারকে শুনানির নোটিশ, ঘাটাল বিডিও অফিসে বিক্ষোভ সিপিআই(এম)'র

রাজ্য জেলা

ঘাটাল বিডিও অফিস ঘেরাও করে তুমুল বিক্ষোভ।

চুড়ান্ত ভোটার লিষ্ট প্রকাশের সময় যত এগিয়ে আসছে, এসআইআর শুনানির নোটিশ ধরানোর হার ততই বাড়ছে। বন্যা পীড়িত ঘাটাল বিধানসভা কেন্দ্র, অর্থনৈতিক সংকোটে জর্জরিত গ্রাম গুলিতে দেড়শ থেকে সাড় চারশ অধিক পরিযায়ী শ্রমিকের বাস। এমন বুথ গুলিতে গত এক সপ্তাহে ১১ হাজার ভোটারকে নতুন করে শুনানির নোটিশ ধরানো ঘটনা সহ হায়রানির বিরুদ্ধে সিপিআই(এম) ডাকে বিডিও দপ্তর অভিযান সহ বিক্ষোভ ঘেরাও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়। শুনানির জন্য মাত্র তিন -চার দিন সময় দেওয়ায় পরিযায়ীরা ভিন রাজ্য থেকে আসার সময় পাচ্ছে না। পরিবারের লোকজন কাগজ নিয়ে গেলেও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এমন ঘটনার প্রতিকার চেয়ে বিডিও দপ্তরে ডেপুটেশন দিতে গেলে বিডিও ডেপুটেশন নিতে অস্বীকার করে। জনরোষের চেহেরায় ঘেরাও বিক্ষোভ চললে বিডিও বাধ্য হয় ডেপুটেশন নিতে।
ঘাটাল ব্লকের বরদাচৌকান মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল সহকারে বিডিও দপ্তর অভিযানে সামিল হয় শতশত মানুষ। মিছিলে সামিল হয় ৭১ বছরের বৃদ্ধ শেখ জাফর আলি মাথায় পরিবারের ৬ জনের ট্রাঙ্ক ভর্তি কাগজ পত্র নিয়ে। তিনি জানান যে কাজ কামাই করে এর আগেও স্ত্রীর শুনানির জন্য কাগজ পত্র জমা দেন। ব্লক দপ্তর থেকে ৩২ কিমি পথ ঘাটাল ব্লকের অজবনগর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের। ১৮৭ নম্বর বুথের ভোটার শেখ জাফর আলী। আবারও শুনানির ডাক তাকে সহ তার পরিবারের ৬ জনকে। বিডিও দপ্তর আসা যাওয়া খরচ দেবে কে। তিনি বলেছেন যে গতকাল বিডিও দপ্তরে ট্রাঙ্ক ভর্তি কাগজ নিয়ে ঢোকায় পুলিশ ধমক দেয়। এমন হায়রানির প্রতিবাদ সহ প্রতিকারে আজ সিপিআই(এম)'র কর্মসূচীতে সেই ট্রাঙ্ক মাথায় নিয়ে সামিল হয়েছেন।
বিক্ষোভ সভায় সিপিআই(এম) নেতা চিন্ময় পাল বলেন, "এক্কেবারে তুঘলকি কান্ড চলছে। ঘাটাল বিধান সভা কেন্দ্রে প্রথম দফায় ১৪ হাজার অধিক ভোটারকে শুনানির নোটিশ ধরানো হয়। তারপর দফায় দফায় এখনও পর্যন্ত ২৯ হাজার অধিক ভোটারকে শুনানির নোটিশ ধরানোর পিছনে দুই শাসক দল তৃণমূল ও বিজেপির সেটিং এর চক্রান্তর রয়েছে।" 
বিক্ষোভ সভায় সিপিআই(এম) নেতা উত্তম মন্ডল বলেন, "২০০২ সালেও পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর হয়। তখন তো মানুষকে হায়রানির মধ্যে পড়তে হয়নি। আবার সংখ্যালঘুদের বেশি করে নোটিশ ধরানো হচ্ছে। এতে বিজেপির এজেন্ডা কার্যকর করছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল ও তার সরকারের পরিচালিত প্রসাশন। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সামিল হতে হবে। দুই শাসকদলের মেরুকরনের রাজনীতির কারনে সাধারণ মানুষ সহ ভোটার হায়রানি হচ্ছে এই নির্বাচন কমিশন নয়, নির্যাতন কমিশনের তুঘলকি পদক্ষেপে।"

 

 

Comments :0

Login to leave a comment