গল্প
মুক্তধারা — বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস
-------------------------------
শব্দহীন
-------------------------------
রাহুল চট্টোপাধ্যায়
কিছুতেই ঘুম আসছিল না বরুনের। রাত একটা পেরিয়ে দুটোর ঘরে ছুঁয়ে চলছে ঘড়ির কাঁটা। এলোমেলো ভাবনা, বেহিসেবী কল্পনা মনটাকে নাড়িয়ে দিয়ে যাচ্ছে সারাক্ষণ। চারিদিকের নানা সমস্যা তার চেতনাকে অস্থির করে তুলেছে। এপাশ ওপাশ করতে করতে কখন যে চোখদুটো লেগে যায় টের পায় না বরুন-
বোবা মেয়েটা চলেছে বাবার হাত ধরে। অন্ধকার চারিদিক। আকাশ চিরে আলো ঝরাচ্ছে আর বিরাট শব্দের হুঙ্কার।মেয়েটা কিছু বলতে পারছে না।কেবল জড়িয়ে ধরছে বাবাকে চারপাশের বাড়িগুলো ভেঙে পড়ছে, মাটি কাঁপছে থরথর করে। তাঁর মধ্যে দিয়ে ওরা চলেছে। পথে অজস্র লোকের মৃতদেহ।মেয়েটা বাবাকে কিছু বলতে চায়, চেষ্টা করে।কেবল গোঁ গোঁ শব্দ হয়।বাবার দুচোখ বেয়ে জল ঝরে। উন্মত্ত একটা শব্দ এসে ভেঙে দিয়ে যায় শহর...
আলতো ঘুমমেশা ঘোর কেটে চমকে উঠে বসে বলুন।চোখ কচলে দেখে চারিদিকটা। এক অদ্ভুত নীরবতা! শব্দ নেই কিন্তু এক অঘোষিত যুদ্ধে আবহ, কিছু বলার জন্য লড়াই চলছে চারপাশে। বলুন অনুভব করে কারা যেন দু-হাত দিয়ে মানুষের কথা বলার শক্তিকে আটকে দিয়েছে। মানুষের পক্ষে যারা কথা বলবে তাদের মুখটাও কারা যেন লাঠি উঁচিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে। এ বোবা মেয়েটা আর তার বাবার মত মানুষেরা এগিয়ে যাচ্ছে আবার হারিয়ে যাচ্ছে।
বরুন খাট থেকে নেমে বারান্দায় বেরিয়ে যায়। সন্ধে নামছে। একরাশ মেঘের মধ্যে সূর্যটা রঙ ছড়িয়ে দিয়েছে। বরুন একবুক নিঃশ্বাস নেয়। চোখ পড়ে ক্যালেন্ডারের দিকে।সময় এগিয়ে চলেছে। এগিয়ে চলেছে কথা বলার জন্য লড়াই, মানুষের বাঁচার লড়াই। বরুন হাতদুটো মাথার কাছে তুলে ধরে।
Comments :0