CPIM SALIM - MOSTRAI BANU

মমতা নয়, এসআইআর নিয়ে আগে সরব হয়েছিলেন গ্রামের সাধারণ বধু মোস্তারি

রাজ্য

এসআইআর প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের হয়রানি নিয়ে প্রথম মামলা করেছিলেন মূর্শিদাবাদের সীমান্তবর্তী গ্রামের একজন সাধারণ গৃহবধু মোস্তারি বানু। গতকাল সুপ্রিম কোর্টের হাজির হয়ে এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার মুখে মুখ্যমন্ত্রী নিজেকে রাজ্যে এসআইআর আক্রান্তদের প্রতিনিধি হিসাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। তার সেই মিথ্যাচারকে এদিন সাংবাদিক সম্মেলন করে সরাসরি চ্যালেজ্ঞ করলেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, ‘মমতা মুখে বলেছে সে এসআইআরের বিরোধী, কিন্তু কেরালা, তামিলনাড়ুর মতো বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডেকে কোন নিন্দা প্রস্তাব আনলো না।’ সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক বলেন, ‘আমরা প্রথম মামলা করি। তারপর রাজ্য কোর্টে যায়। নোটিশ পাঠিয়ে মানুষকে যে ভাবে হয়রানি করা হচ্ছে তা নিয়েও আমরা মামলা করেছি। মোস্তারি বানু মামলা করেছেন। মমতা এখন পিটিশন চুরি করেছে।’
এদিন ভার্চুয়ালি সাংবাদিক সম্মেলনে অংশ নেন মোস্তারি বানু। তিনি বলেন, ‘২০০২ সালের তালিকায় আমার নাম ছিল। ভোটও দিয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বাবা মায়ের সাথে বয়সের ফারাক নিয়ে। বিজেপি তৃণমূল মিলে সংখ্যালঘু এবং প্রান্তিক অংশের মানুষকে হেনস্থা করছে বিভিন্ন ভাবে। পরিযায়ী শ্রমিকরা সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এই হয়রানির বিরুদ্ধেই আমার মামলা।’ মোস্তারি স্পষ্ট বলেন, ‘২০০২ সালের তালিকায় যাদের নাম আছে তাদের নাম বাদ দেওয়া যাবে না।’ সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক জানিয়েছেন ১০ ফেব্রুয়ারির শুনানিতে মোস্তারি যাতে থাকতে পারেন দলের পক্ষ থেকে তার ব্যবস্থা করা হবে। বলা ভালো গতকাল মমতা যেই মামলায় আদালতে ছিলেন সেই মামলার অন্যতম পার্টি মোস্তারি।
সেলিম বলেন, ‘১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কথা বলা রয়েছে। কিন্তু মমতা প্রথম বিজেপির সাথে থাকার সময় রাজ্যের ভোটার তালিকায় বাংলাদেশীদের নাম রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছিল। সেই সময় বিজেপি এই নাগরিকত্বের বিষয় যুক্ত করেছে। যারা সমস্যা তৈরি করেছিল তারা আজ যাচ্ছে মলম নিয়ে।’  
মোস্তারির পক্ষ থেকে আইনি লড়াই লড়ছেন আইনজীবী সব্যসাচী চ্যাটার্জি। তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, ‘এসআইআর ঘোষণার পর কলকাতা হাইকোর্টের একজন আইনজীবী প্রথম হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন। এসআইআরের একতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।’ সব্যসাচী অভিযোগ করেন, ‘বিহারে এসআইআরের সময় তৃণমূলের সাংসদরা মামলা করলেন এখন তারা চুপ। রাজ্য সরকারের আইনজীবীরা আদালতে মানুষের হয়রানি নিয়ে শুনানিতে কোন কথা বলছে না।’ তিনি বলেন, ‘রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল নেতারা নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষজনকে বেনাগরিক করার ভয় দেখাচ্ছেন এবং সেই কাজ করছেন।’ সব্যসাচী বলেন, ‘দেশে এনআরসি চালু হওয়ার আগেই ২০১৫ সালে হাওড়া পৌরসভার তৎকালিন মেয়র এখন বিজেপির নেতা রথীন চক্রবর্তী এনপিআরের কাজ করিয়ে ছিলেন।’
সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘শিবপুর, খড়দায় তৃণমূলের নেতারা অনেক মানুষের নাম বাদ দিতে চাইছে। তাদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। খড়দায় তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানের ভাই একটি সংখ্যালঘু পাড়ার সব মানুষের নাম বাদ দেওয়ার জন্য ৭ নম্বর ফর্ম জমা দিয়েছে। সেই তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে।’
সেলিম বলেন, ‘১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কথা বলা রয়েছে। কিন্তু মমতা প্রথম বিজেপির সাথে থাকার সময় রাজ্যের ভোটার তালিকায় বাংলাদেশীদের নাম রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছিল। সেই সময় বিজেপি এই নাগরিকত্বের বিষয় যুক্ত করেছে। যারা সমস্যা তৈরি করেছিল তারা আজ যাচ্ছে মলম নিয়ে।’

Comments :0

Login to leave a comment