PBSU conference

জীবন, জীবিকা ও বাসস্থানের লড়াইকে জোরদার করার ডাক বস্তি উন্নয়ন সমিতির রাজ্য সম্মেলন থেকে

রাজ্য

নির্বাচিত সম্পাদক সুখরঞ্জন দে ও সভাপতি অশোক সাঁতরা।

চিন্ময় কর

প্রতিটি বস্তিতে সাংগঠনিক কমিটি গঠন সহ সামাজিক কর্মসূচীর দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি  উচ্ছেদ প্রতিহত করা ও অধিকার রক্ষার লড়াইয়ের একগুচ্ছ কর্মসূচী ও প্রস্তাব গ্রহনের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বস্তি উন্নয়ন সমিতির চতুর্থ রাজ্য সম্মেলন শেষ হলো রবিবার।
মেদিনীপুর শহরের বিদ্যাসাগর হলে শুরু হওয়া সম্মেলনে জেলা গুলির প্রতিনিধিদের আলোচনার পর জবাবী ভাষনে সংগঠনের বিদায়ী রাজ্য সম্পাদক সুখরঞ্জন দে বলেন, "দেশের সংবিধান ও  ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষার লড়াই জরুরী। না হলে সাধারণ মানুষ সহ শ্রমজীবী মানুষের সাংবিধানিক অধিকার গুলি খর্ব করে কর্পোরেট ও পুঁজিপতিদের স্বার্থ রক্ষার জন্য বিজেপি সরকার শ্রমজীবী মানুষকে কৃতদাসে পরিনত করার যে শ্রমকোড আইন চালু করলো তার বিরুদ্ধেও তাদের সংগঠনকে লড়াই আন্দোলনের অভিমুখ তীব্র করতে হবে। নইলে বিভেদের রাজনীতিতে উচ্ছেদ প্রক্রিয়াও রোখা যাবে না।"

তিনি আরও বলেন, "গনতন্ত্রে দেশের সম্প্রীতি ও জাতীয় সংহতির সাথে নতুন করে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি প্রসারে সংগঠন তার দায়িত্ব পালন করবে। এর পাশাপাশি বস্তি গুলিতে জনস্বাস্থ্য, জনসচেতনতা সহ স্বাক্ষরতার মতো সামাজিক কাজে গুরুত্ব আরোপ, মহিলাদের স্বনির্ভরতা ও স্বনির্ভর গোষ্টী গঠন ও মাইক্রো ফিন্যান্সের যাঁতাকল থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব পালন, বস্তি বাসীদের উচ্ছেদ নয়, পাট্টা সহ আবাস যোজনায় অগ্রাধিকার দেওয়ার লড়াইয়ের কর্মসূচী গ্রহণ করবে।"

প্রতিনিধিদের আলোচনায় উঠে আসে বর্তমান সময়ে বস্তিবাসীদের বহুমুখী সমস্যা-সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে। মৃল্য বৃদ্ধি, কাজের আকাল,মজুরী বৃদ্ধি না হওয়া, জীবন জীবিকার সংকট, সামাজিক নিপীড়ন প্রভৃতি সংকটের মধ্যে বস্তিবাসীদের চিরকালীন প্রধান সমস্যা হল তাদের বাসস্থানের অনিশ্চয়তা। যে মাটিতে তাদের জীবনধারণ সেই ভিটে-মাটির আইনি অধিকার তাদের নেই। উপরন্তু এই সময়কালে তাদের প্রতিদিন উচ্ছেদের আশঙ্কায় দিন গুনতে হয়। নগরায়নের নামে বৈষম্য বঞ্চনা, পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ এমন দানবীয় পদক্ষেপ রুখে দেওয়ার জন্য এবার সংগঠনকে আপোষহীন লড়াইতে সামিল করার জরালো দাবী ওঠে।

উত্তর ২৪ পরগনা জেলার প্রতিনিধি আশা ওরাও উচ্ছেদের বিরুদ্ধে তাদের লড়াই এবং তাতে পুলিশ প্রসাশনের সাজানো মামলা হুমকি ঘটনা তুলে ধরে বস্তিবাসী একজোট হয়ে সেই উচ্ছেদ রুখে দেওয়ার ঘটনা তুলে ধরে বলেন, "আমরা চুরি করি নাই, খুন করি নাই, আর পুলিশ এরাজ্যে খুনী ধর্ষক, দূর্ণীতিবাজদের পাহারা দেবে, আমরা প্রতিবাদীরা মার খাবো আর চলতে দেওয়া যাবে না। দাবি তোলেন এবার হোক সংগঠিত প্রতিহত করার লড়াই। পশ্চিম বর্ধমান জেলার প্রতিনিধি ভরত পাশোয়ান তাদের জেলার উচ্ছেদে বিরুদ্ধে আপোষহীন লড়াই এবং তা রুখে দেওয়ার ঘটনা তুলে ধরে বলেন, "বস্তিবাসীকে একত্রিত করা যেমন জরুরী তেমনি সমপোযোগী কর্মসূচি আন্দোলন আপোষহীন ভাবে জারি রাখাও জরুরি।  
উঠে আসে সারা দেশে, রাজধানী দিল্লী সহ হরিয়ানা, পাঞ্জাব, মুম্বাই সহ নানান শহর নগরে বিজেপি সরকার যে ভাবে বুলডোজারের চালিয়ে উচ্ছেদ করছে আমাদের রাজ্যেও তৃণমূল কংগ্রেস সরকার বিভিন্ন অজুহাতে উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে বিভিন্ন জেলার বিশেষত রেল লাইনের ধারে বা সরকারি বেসরকারি জমিতে বস্তি উচ্ছেদের পরিকল্পনা চলছে। বস্তিবাসীদের সামনে প্রধানতম চ্যালেঞ্জ হল 'বুলডোজার' রুখে দেওয়ার। তাই ঐক্য গড়ে তুলে উচ্ছেদে মোকাবিলা করাই হবে সংগঠনের আশু প্রধান কাজ বলে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। উচ্ছেদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং বিভাজনের বিরুদ্ধে  লড়াই একে অপরের পরিপূরক সেই লক্ষ্যে সংগঠনকে বিস্তারের পাশাপাশি সংহত করার একগুচ্ছ কর্মসূচী গৃহিত হয় সম্মেলন থেকে।

সম্মেলন থেকে ১১১ জন রাজ্য কমিটি গঠিত হয় সর্ব সম্মতিক্রমে। কমিটিতে ১৭ জন মহিলা নির্বাচিত হোন। নতুন রয়েছেন ৩৭ জন। ২৫ জনের সম্পাদক মন্ডলী গঠিত হয়েছে। সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন সুখরঞ্জন দে এবং সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন অশোক সাঁতরা। কোষাধ্যক্ষ হয়েছেন সুব্রত চক্রবর্তী। পত্রিকা সম্পাদকের দায়িত্বে সঞ্জীব চক্রবর্তী।

Comments :0

Login to leave a comment