Migrant Worker Missing

কেরালায় কাজে গিয়ে নিখোঁজ মাথাভাঙার যুবক, উদ্বিগ্ন পরিবার

রাজ্য জেলা

কেরালায় কাজে গিয়ে সাত দিন ধরে নিখোঁজ মাথাভাঙার নয়ারহাটের ২২ বছরের যুবক। ছেলেকে খুঁজে দেবার জন্য পরিবারের সদস্যরা ঘুরছেন প্রশাসনের দুয়ারে দুয়ারে। নির্বিকার প্রশাসন। সবাই ব্যস্ত মন্ত্রী, বিধায়কদের নির্দেশ পালন করতে। পরিবারের পাশে নেই কেউই। কোচবিহার জেলার নয়ারহাট এলাকার পানিগ্রামের বাসিন্দা ২২ বছরের যুবক নাজিমুল হোসেন গত সাত দিন ধরে কেরালার কোট্টায়ামে নিখোঁজ। তাঁর সন্ধান না মেলায় উদ্বিগ্ন পরিবার। 
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দুই মাস আগে পানিগ্রামের দুই ভাই আশরাফুল হোসেন ও ছালিয়ার রহমান এবং ছালিয়ার রহমানের ছেলে নাজিমুল হোসেন পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজের উদ্দেশ্যে কেরালার কোট্টায়াম এলাকায় যান। তবে প্রায় ১৫ দিন আগে ছোট ভাই আশরাফুল হোসেন বাড়িতে ফিরে এলেও বাবা ও ছেলে কেরলাতেই থেকে যায়। এরপর গত রবিবার, ছুটির দিন হওয়ায় ছালিয়ার রহমান ও তাঁর ছেলে নাজিমুল কাজে যায় নি। দুজনেই তাদের অস্থায়ী বাসস্থানেই ছিলেন। পরিবারের দাবি, রবিবার দিন বিকেলে বাইরে বেরোনোর জন্য নাজিমুল তাঁর বাবা সোলিয়ার রহমানের কাছ থেকে ৫০০ টাকা নেন। এরপর অস্থায়ী বাসস্থান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর আর তাঁর কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে কেরালার কোট্টায়াম জেলার ইট্টুমান্নোর থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ যে এফআইআরটি ওই থানায় ১৩১০/২৬ নথিভুক্ত করেছে তার নাম্বার ১৩১০/২৬। কেরলার পুলিশ  পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছে তাদের ছেলের খোঁজ চলছে।
এদিকে নিখোঁজ হওয়া নাজিবুলের মা নাজিমা বিবি শুক্রবার নয়ারহাটের বাড়িতে বসে বলেন, এখানে আয়ের কোন ব্যবস্থা না থাকায় বাবার সাথে ছেলেও কাজে গেয়েছিল। মেয়েকে নিয়ে আমি বাড়িতেই আছি। নিখোঁজ হওয়ার আগের দিনেও ছেলে ফোন করে বলেছিল, ‘‘মা কোন চিন্তা কোর না। বাবা ও আমি ভালোই আছি। কিছু টাকা জমিয়ে বাড়ি ফিরবো।’’ তারপরেই কি যে হল বুঝতে পারছি না। নাজিবুলের  কাকা আশরাফুল হোসেন শুক্রবার বলেন, আমি দাদা ও ভাইপোর সাথে কেরলায় কাজে গেলেও দিন কয়েক আগে বাড়ি ফিরে এসেছি। কেরলায় আমরা একটি বিল্ডিংয়ে নির্মান কর্মীর কাজ করতাম। ভাইপো এভাবে উধাও হয়ে যাওয়ার বিষয় নিয়ে মাথাভাঙা থানায় গিয়ে সাহায্য চেয়েছিলাম। কিন্তু থানা কোন অভিযোগ নেয় নি। থানা থেকে বলে দিয়েছে যা করার কেরলার থানাই করবে।
পরিযায়ী শ্রমিকদের ভিন রাজ্যে নিয়ে যায় ঠিকাদার। যারা কোম্পানীকে লেবার সাপ্লাই দেওয়ার বিনিময়ে টাকা উপার্জন করে। নিখোঁজ নাজিবুলদের যে কোম্পানীতে কাজে ঢুকিয়েছিল সেই আপিউল ইসলাম মাথাভাঙারই বালাসী গ্রামের বাসিন্দা। তিনিও শুক্রবার পর্যন্ত নিখোঁজ যুবকের কোন খোঁজ দিতে পারে নি।
ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া ও মারা যাওয়ার পরই প্রতিবার প্রশ্ন ওঠে ভিন রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা কোথায়? বামফ্রন্ট আমলে ভিন রাজ্যে কাজ করতে গেলে তার সমস্ত নথি এলাকার থানা থেকে পুলিশ সুপার ও শ্রমদপ্তরে থাকতো। মারা যাওয়া ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় থানা ভিন রাজ্যের প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করতো। তৃণমূলের আমলে সব ব্যবস্থা তুলে দেওয়া হয়েছে। এখন শ্রম দপ্তর জানেই না রাজ্যের কোন জেলার কতজন ভিন রাজ্যে কাজে গেছে কিংবা তারা ফিরেছে কিনা।

Comments :0

Login to leave a comment