Bangla Bachao Yatra: Siliguri

বাঁচাতে হবে বাংলাকে, হারাতে হবে অগণতান্ত্রিক, সাম্প্রদায়িক শক্তিকে: সেলিম

রাজ্য জেলা বাংলা বাঁচাও যাত্রা

অনিন্দিতা দত্ত ও প্রিতম ঘোষ : শিলিগুড়ি

একদিন যারা বাবরি মসজিদ ভেঙেছিল আজ তারাই সংবিধানকে ভাঙছে। এদের এনআরসি থেকে এসআইআর, সবের মূলে রয়েছে ভাগাভাগির রাজনীতি।
জলপাইগুড়ি এবং দার্জিলিঙ জেলার বিভিন্ন সমাবেশে এই মর্মে সরব হয়েছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
সেলিম বলেন, ওরা এসআইআর’র সময়সীমা বাড়ালো আদালত রায় দেওয়ার আগের দিন। অথচ আমরা বারবার একথা বলেছি। সেলিম বলেন, পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী রাজনীতির গবেষণাগার বানানো হচ্ছে তৃণমূলকে ধরে। গুজরাটে ধর্মনিরপেক্ষতাকে শেষ করেছে। আর বাংলায় এর মধ্যেই মমতা গণতন্ত্রকে শেষ করেছে পঞ্চায়েত, পৌরসভা থেকে ভোট প্রক্রিয়া- সব ক্ষেত্রে। গণতন্ত্রকে শেষ করে ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষা হয় না। আর ধর্মনিরপেক্ষতাকে শেষ করে গণতন্ত্রকে রক্ষা করা যায় না। বিজেপি এবং তৃণমূল দুই শক্তিকেই পরাজিত করতে হবে গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষতাকে রক্ষার জন্য।
সেলিম বলেন, বাংলা বাঁচাও যাত্রা-র সূচি পিছাতে হচ্ছে কারণ সর্বত্র অসংখ্য মানুষ জড়ো হচ্ছেন। কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিঙে এই ছবি আমরা দেখেছি। 
সেলিম বলেন, হাজার হাজার স্কুল বন্ধ করা হচ্ছে। সরকারি স্কুল বন্ধ করা হচ্ছে। বেসরকারি স্কুল উৎসাহিত হচ্ছে। মোদী-মমতা তুলে দিচ্ছে। আমেরিকার এজেন্সির পরামর্শে এসব চলছে। বস্তিবাসী, গরিব, নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানরা পড়ার সুযোগ পাবে না। খেটে খাওয়া ঘরের ছেলেরা যাতে পড়াশোনা না করে বিজেপি-তৃণমূল ব্যবস্থা করছে।
সেলিম বলেন, স্কুল সার্ভিস কমিশন এবং মাদ্রাসা কমিশনের দুর্নীতি হয়েছে। তা’হলে একসঙ্গে লড়তে হবে। মমতার দল থেকে বেরিয়ে শুভেন্দু বলছে স্কুল আলাদা, মাদ্রাসা আলাদা। এজন্যই জ্যোতি বসু বলেছিলেন ধর্মের সঙ্গে রাজনীতিকে জুড়বেন না।
সেলিম বলেন, দেশের ফিউজ উড়ে গেছে। ধর্ম আর রাজনীতির তার জুড়ে দেওয়া হয়েছে বলে।  
সেলিম বলেন, উত্তরবঙ্গে বিপর্যয় হলো। এতদিন বলছিল পাহাড় হাসছে। আর যখন পাহাড় বিধ্বস্ত হলো মমতা নাচছিলেন। এত অসংবেদনশীল আচরণ মুখ্যমন্ত্রীর। 
ধসে বিপর্যয় হলো। জাতীয় বিপর্য়ের দাবি জানালাম। কেন্দ্রের বিজেপি মানেনি। আর দেশে যেমন লুটের রাজত্ব চলছে, পরিবেশ আইন বদলেছে মোদী সরকার। আর আমাদের রাজ্যে উত্তরবঙ্গে উন্নয়নের নামে জমি লুট হচ্ছে, পাহাড় খনন হচ্ছে, জঙ্গল সাফ করে দিচ্ছে। সেলিম বলেন, বামপন্থীরা বলে গাছ লাগাও, দক্ষিণপন্থীরা বলে গাছ সাফ করে দাও। বিজেপি-কে দেখেছেন, দিল্লিতে নিঃশ্বাস নিতে না পেরে মানুষ যখন রাস্তায় নেমেছে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
সেলিম বলেন, আমরা বাংলা বাঁচাও বলছি কারণ দেশ বাঁচাতে হবে। বাংলা না বাঁচলে দেশ বাঁচবে না। 
সেলিম বলেন, হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলছে ‘সোনার বাংলা’ গাওয়া যাবে না। বলছে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত বলে গাওয়া যাবে না। অথচ স্বাধীনতার লড়াইয়ে রবীন্দ্রনাথ এই গান লিখেছেন। এরা এভাবেই ভাগ করে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে জামাত মৌলবাদী রবীন্দ্রনাথ নিয়ে প্রশ্ন তোলে। আর এখানে মৌলবাদীরা প্রশ্ন তুলছে আমরা কোচবিহারে আব্বাসউদ্দিনকে শ্রদ্ধা জানিয়েছি। বলছে আব্বাসউদ্দিন নাকি বাংলাদেশের। 
সেলিম বলেন, বিজেপি কেবল সাম্প্রদায়িক না দুর্নীতিগ্রস্তও। মধ্য প্রদেশে সরকারি নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে সিবিআই কাউকে শাস্তি দেয়নি। আর এখানে ভয়াবহ দুর্নীতি শিক্ষাক্ষেত্রে। 
আমরা বলেছিলাম নারীদের ক্ষমতায়ন। আর আজকে নারীদের বাঁচানোর প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সব বামবিরোধী বলেছিল ‘লাল হটাও’। ওরা ‘লাল হটাও’ বলেছে আর মানুষকে ভাগ করেছে।

Comments :0

Login to leave a comment