ভ্রমণ
মুক্তধারা
খেরোর খাতায় ঔরঙ্গাবাদ
অভীক চ্যাটার্জী
২৯ নভেম্বর ২০২৫, বর্ষ ৩
ভরা বর্ষা তখন। রোদের মুখ দেখাই দুষ্কর। সেই বৃষ্টি মাথায় করেই কলকাতা থেকে শুভ এলো আমার পুনের বাসায় বেড়াতে। আমরা প্রতিবারই কোথাও না কোথাও বেড়াতে যাই। ঠিক হলো, এবার আমরা যাবো ঔরঙ্গাবাদ বেড়াতে।যার পোশাকি নাম হলো ছত্রপতি সাম্ভাজি নগর।
ভারতের ইতিহাসের প্রতি আমার ঝোঁক চিরকালই একটু বেশি। কিন্তু, প্রায় তিন বছর পুনেতে থাকার পরও ঘটনাচক্রে আমার ঔরঙ্গাবাদ ঘোরা হয়ে ওঠেনি। তাই এবার যখন শুভ বলল আমায় ঔরঙ্গাবাদ যাবে, আমি আর না করিনি। বৃষ্টি মাথায় করেই চললাম আমরা একজোড়া raincoat বগলে নিয়ে ঔরঙ্গাবাদ, ইতিহাস যেখানে থমকে দাঁড়িয়ে গেছে।
রাতের বাসে সফর করতে আমার বেশ ভালো লাগে। কেমন কম্বল গায়ে দিয়ে কাঁচের জানালা দিয়ে বাইরের দৃশ্য দেখতে দেখতে যাওয়া যায়। কিন্তু এবার খুব বৃষ্টি, তাই শুধু শ্রাবণের ধারার মত ঝরে পড়ে চলেছে। আর আমাদের যন্ত্র দানব সে ধারা ভেদ করে ছুটে চলেছে কালো পিচের মসৃণ রাস্তা ধরে। বাস চলুক বাসের মত, আসুন আমরা ততক্ষণে একটু জেনেনি ঔরঙ্গাবাদের ইতিহাস। ঐতিহাসিক জায়গায় যখন যাওয়া হচ্ছে, যাওয়ার আগে তার ইতিহাসটা একটু জেনে নেওয়া দরকার।
ঔরঙ্গাবাদের ইতিহাস কিন্তু বেশ পুরোনো। খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দী থেকে সাতবাহন শাসনকাল থেকে এর সূচনা। তারপর ওয়াঘোড়া নদীতে অনেক জল বয়ে গেছে। একে একে এসেছে তুঘলক, এসেছে মোঘল, এসেছে ব্রিটিশ। ঔরঙ্গাবাদ নামকরণ করেছেন আওরঙ্গজেব, যখন তিনি আসেন দাক্ষিণাত্যের সুবেদার হয়ে।একসময় একে হায়দ্রাবাদের অংশও করা হয়েছিল নিজামের সময়। শেষে স্বাধীনতার পর একে মহারাষ্ট্র রাজ্যের অংশ করা হয়। এরচেয়ে বেশি ইতিহাস এখন আর নয়, বাকি আমরা জায়গায় জায়গায় জানবো।
সকাল সাতটা নাগাত আমরা পৌঁছলাম ঔরঙ্গাবাদ এর বাস স্ট্যান্ডে, তখন খুব জোরে বৃষ্টি পড়ছে। আমাদের একমাত্র সম্বল raincoat পরারও সময় পাচ্ছিলাম না। কোনরকমে সেটা গায়ে গোলিয়েই আমরা বাস থেকে নেমে একটা ছাউনির দিকে ছুটলাম। এই ভরা বর্ষাতে ঘুরবো কি করে কে জানে!
Comments :0