নিউ কোচবিহার রেল স্টেশন হকার ও বস্তীবাসী উচ্ছেদের পর এবার রেল কর্তৃপক্ষের নজর পড়েছে নিউ গিতালদহ রেল স্টেশনের পাশের বস্তীর দিকে।
রেলের আধিকারিকেরা বস্তীতে গিয়ে পুজোর আগেই রেলের জায়গা থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
উৎসবের আগে এই নির্দেশে দিশেহারা প্রায় ২০০ পরিবার ও ৩০ টি দোকান ব্যবসায়ী জোট বেঁধে উচ্ছেদ রুখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে বস্তীর বাসিন্দা ও দোকানদারেরা রীতিমত মিটিং করে নিউ গিতালদহ বসতভিটা রক্ষা নাগরিক কমিটি গঠন করেছেন।
রেলবস্তীর বাসিন্দা নারী শিশু সকলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সরে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। উচ্ছেদ করতে এলে বুলডোজারের সামনে দাঁড়াবেন বস্তীর নারী শিশু সহ প্রত্যেকেই। উৎসবের আবহ সরে গিয়ে নিউ গিতালদহে এখন প্রতিরোধের আবহ গড়ে উঠেছে।
সংগঠনের সম্পাদিকা শিবানী দে বলেন, স্বাধীনতার আগে এই নিউ গিতালদহ ছিল বাংলাদেশ হয়ে শিয়ালদহ যাওয়ার জংশন। এখন সে রেলপথ বন্ধ। সারাদিনে দুটি ডেমু এই স্টেশনের ওপর দিয়ে যায় ও আসে। আর উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস এই রেলপথ দিয়ে বামনহাট পর্যন্ত যায়। তাঁর অভিযোগ রেল কর্তৃপক্ষ এখন এটিকে জংশন থেকে হল্ট স্টেশন করে দিয়েছে। প্রায় পরিতক্ত এই স্টেশনের পাশেই রয়েছে বসতি। যাদের অধিকাংশই গরীব মৎসজীবি ও দিনমজুর। রেল কর্তৃপক্ষর কাছে আমরা জানতে চেয়েছিলাম প্রায় পরিতক্ত এই স্টেশনের কাছে ৭০/৮০ বছর আগে গড়ে ওঠা বসতি তুলে দিয়ে কোন উন্নয়ন করতে চায়? রেলের আধিকারিকরা সেই প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই ফিরে গেছে। তাঁর দাবি আমরা বুলডোজার এলে সম্মিলিত ভাবেই রুখবো উচ্ছেদ।
রেলের জমিতে বসবাস করা কাঞ্চনীয়া রায়, রতন সাহা, শিবচান রাজভর, ফজলু মিয়ারা বললেন, আমদের বাপ- ঠাকুর্দারা এখানে বসবাস করতো। এখন উচ্ছেদ হলে পরিবার নিয়ে কোথায় যাবো? আমাদের রাতের ঘুম উড়ে গেছে। তাই উচ্ছেদ রুখতে জোট বেঁধেছি।
রেল স্টেশনের পাশেই রেলের জমিতে মুদির দোকান করেন শিশির দে। তিনি জানালেন, আগে বাবা দোকান করতো এখন আমি দোকান চালাই। উচ্ছেদ হলে সংসার চলবে কি করে? স্টেশনারী দোকানের মালিক গৌতম সরকারের দোকানও সেই ঠাকুর্দার আমল থেকে। রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিনের সরকার এসে যে ভিটেমাটি, দোকান থেকে উচ্ছেদ করবে ভাবতে পারেন নি তিনিও। কমিটি গড়ে প্রতিরোধের প্রাচীর তুলতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে নিউ গিতালদহের ২০০ শ্রমজীবি পরিবার আর জনা ৩০ ছোট ব্যবসায়ী। ওদের পাশে দাঁড়িয়েছে লালঝান্ডার কর্মীরা।
Eviction Notice
উচ্ছেদের নোটিশ রেলের, প্রতিরোধের আবহ গড়ে উঠেছে গিতালদহে
×
Comments :0