STORY — SOURISH MISHRA — SPACIAL COVER — NATUNPATA — 29 NOVEMBER 2025, 3rd YEAR

গল্প — সৌরীশ মিশ্র — স্পেশাল কভার — নতুনপাতা — ২৯ নভেম্বর ২০২৫, বর্ষ ৩

নতুনপাতা/মুক্তধারা

STORY  SOURISH MISHRA  SPACIAL COVER  NATUNPATA  29 NOVEMBER 2025 3rd YEAR

গল্প  


স্পেশাল কভার

  ------------------------ 
  সৌরীশ মিশ্র
  ------------------------ 

নতুনপাতা


"মেরী, রিয়া, শ্রমণা, তোরা একটু দাঁড়া। চলে যাস না।" পড়ে যাওয়া মিডল স্টাম্পটা মাটিতে পুঁততে পুঁততে কথাকটা বললেন অভিনন্দন সেন। অভিনন্দনবাবু প্রতি রবিবার সকালটায় ক্রিকেট কোচিং করান এই সি জে পার্কে। আজ যেমন করাচ্ছেন। অভিনন্দন সেনের এই ক্রিকেট কোচিং অ্যাকাডেমির নাম আছে খুব এই অঞ্চলে। পঞ্চাশ জনেরও বেশি স্টুডেন্ট তাঁর কাছে ক্রিকেট শেখে। তাঁর স্টুডেন্টদের প্রায় সব্বাই-ই ছেলে। ছাত্রী বলতে মোটে তিনজন। মেরী, রিয়া আর শ্রমণা। ঐ যে যাদের দাঁড়াতে বললেন না অভিনন্দনবাবু একটু আগে, তারাই।
মেরী, রিয়া আর শ্রমণা তাদের নিজের নিজের কিটস গুছিয়ে ফেলল চটপট। প্র্যাকটিস ওদের শেষ হয়েছে এই একটু আগেই। অভিনন্দনবাবুরও উইকেটটা পোঁতা হয়ে গিয়েছিল। তিনি এবার তাঁর ছাত্রীদের দিকে তাকালেন। তারপর ফের বললেন, "দাঁড়া, আমি আসছি।" 
মেরি, রিয়া আর শ্রমণা নিজেদের মধ্যে মুখ চাওয়া-চাওয়ি করতে থাকে। তাদের তিনজনের মনেই যে একটা প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে এখন- স্যার, হঠাৎ তাদের দাঁড়াতে বললেন কেন?
তবে এই প্রশ্নের উত্তর পেতে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হোলো না ওদের। কারণ, কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই ওদের অভিনন্দনস্যার ওদের সামনে এসে দাঁড়ালেন, হাতে তিনখানা খাম নিয়ে।
"এই নে, এটা তোদের জন্য। আমার তরফ থেকে তোদেরকে গিফ্ট।" তিনজনকে একটা একটা করে খাম দিয়ে বললেন অভিনন্দনবাবু। আর, খামটায় চোখ রাখতেই মেরী, রিয়া আর শ্রমণা, তিনজনেরই মুখটা খুশিতে ঝলমল করে উঠলো পুরো সাথে সাথে।
"স্যার, এটাই তো সেই 'স্পেশাল কভার'-টা না, যেটা 'ইন্ডিয়া পোস্ট' রিলিজ় করেছে এই ক'দিন আগে, আমাদের ওমেন'স ক্রিকেট টিম ওয়ার্ল্ড কাপ জেতার পর?" রিয়া তো বলেই ওঠে অভিনন্দন সেনের দিকে তাকিয়ে।
"হ্যাঁ রে। এটা সেই 'স্পেশাল কভার'-ই। তবে বল্ তো দেখি কেন দিচ্ছি তোদেরকে এটা?"
"কেন স্যার?" মেরী, রিয়া আর শ্রমণা প্রায় সমস্বরে বলে ওঠে।
"এটা দিচ্ছি তোদের ইন্সপায়ার করার জন্য। আমি চাই তোরাও ইন্ডিয়ার হয়ে খেল্ একদিন। ওয়ার্ল্ড কাপ জেত্। আর তোদেরও ছবি দেওয়া ঠিক এই রকমই 'স্পেশাল কভার' বের হোক। আমি জানি, তোদের তিনজনের মধ্যেই সেই পোটেনসিয়াল আছে। তোরা আর একটু পরিশ্রম কর। তাহলেই দেখবি, কেউ তোদের ইন্ডিয়া টিমের হয়ে খেলা আটকাতে পারবে না। আমি যে তোদের নিয়ে স্বপ্ন দেখি, তোরা ইন্ডিয়ার জার্সি পড়ে খেলছিস। পারবি না রে তোরা আমার এই স্বপ্নটাকে বাস্তবের রূপ দিতে? তোদের নিয়ে যে খুব আশা রে আমার।" বলতে বলতেই গলা ধরে আসে অভিনন্দন সেনের। ওনার চোখও ছলছল করে ওঠে। স্যার যে ওদের স্নেহ করেন খুব তা ভালোই জানে মেরী, রিয়া আর শ্রমণা। তারাও তাদের অভিনন্দনস্যারকে ভালোবাসে, শ্রদ্ধা করে কম না। তাই স্যারের চোখে জল দেখে ওরাও নিজেদের ধরে রাখতে পারে না। তারা তাড়াতাড়ি এগিয়ে এসে জড়িয়ে ধরে তাদের প্রিয় স্যারকে। ওরা তিনজনই ঝরঝরিয়ে কাঁদছে এখন। সেই মুহূর্তে তারা তিনজনই মনে মনে নিজেদেরকেই নিজেরা এও কথা দেয়, অভিনন্দনস্যারের দেখা এই স্বপ্ন যাতে সত্যি হয় তার জন্য জান-প্রাণও লড়িয়ে দেবে তারা। এবং, তারা একদিন ইন্ডিয়া টিমের হয়ে খেলবেই খেলবে।

------------------------

Comments :0

Login to leave a comment