১২ এপ্রিল নবান্ন অভিযানের ডাক দিল চাকরি প্রার্থীদের যৌথ মঞ্চ। শনিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে তারা জানিয়েছেন এসএসসির তালিকা বাতিলের দায় সরকারের। তাদের দুর্নীতির জন্য চাকরি হারিয়েছে ২৫,৫৭২ জন।
বৃহস্পতিবারের রায়ের পর মুখ্যমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রী জানান যে সরকার মানবিক দিক থেকে তাদের পাশে থাকবে। কিন্তু সরকারের এই প্রতিশ্রুতিকে কোন ভাবেই মানতে রাজি নয় চাকরি প্রার্থীরা। তাদের কথায় তারা কোন প্রতিশ্রুতি নয় বাস্তবায়ন চায়।
দীর্ঘদিন ধরে চলেছে এই এসএসসি দুর্নীতি মামলা। চাকরি প্রার্থীদের হয়ে প্রথম মামলা লড়েন সিপিআই(এম) সাংসদ বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। সেই মামলার জেরে সামনে আসতে থাকে একের এক দুর্নীতি এসএসসি নিয়োগ নিয়ে। এই মামলায় আদালত এসএসসিকে নির্দেশ দিয়েছিল যোগ্য এবং অযোগ্যদের তালিকা জমা দিতে। কিন্তু সেই তালিকা জমা দেওয়া হয়নি। উল্টে পুড়িয়ে দেওয়া হয় ওএমআর শিট। শিক্ষা আন্দোলনের সব অংশ যোগ্য এবং অযোগ্য কারা, তা বাছাই করে রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার দাবি তুলেছিল। যাতে যোগ্যদের চাকরি না যায়। সেই সময় নীরব থেকেছে সরকার। সেই তালিকা যদি আদালতের কাছে জমা পড়ত তবে এদিন যোগ্য চাকরি প্রার্থীদের চাকরি যেত না।
এই গোটা দুর্নীতির দায় নিজের দিক থেকে ঝেড়ে ফেলার সব রকম চেষ্টা করেছেন মমতা ব্যানার্জি। তিনি দাবি করেছেন এসএসসি’র কোনও কাজে সরকার নাকি নাক গলায় না। অথচ এই দুর্নীতিকে ঢাকা দিতে সুপার নিউমেরিক্যাল পোস্টের অনুমোদন দিয়েছিল রাজ্য মন্ত্রিসভা, যার মাথায় মমতা। প্রশ্ন এখানেই, দুর্নীতির দায় মেনে নিয়েই তো সরকার সেই সময় এই পদ তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তা’হলে আজ কেন উলটো কথা বলছেন মুখ্যমন্ত্রী?
Comments :0