SFI SEMINAR

হিন্দি চাপানোর সংকীর্ণতায় আক্রান্ত শিক্ষা, মত এসএফআইয়ের সেমিনারে

রাজ্য কলকাতা

‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০‘ আসলে শিক্ষা ব্যবস্থার পরিকাঠামোকে ভেঙে ফেলার ব্লু প্রিন্ট। নানান মোড়কে এই শিক্ষা নীতি পেশ করা হলেও পাঁচ বছরে আসলে শিক্ষা ব্যবস্থার কোন ও পরিকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। ‘ত্রিভাষা সূত্র’ অন্য ভাষাকে উপেক্ষা করে হিন্দিকেই চাপিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত। যা আসলে আরএসএস বিজেপির হিন্দুত্বের রাজনীতিরই প্রয়োগ। 
বুধবার কলকাতায় মৌলালি যুবকেন্দ্রে এসএফআই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে একথাই বললেন বক্তারা। গোটা দেশ জুড়ে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাঁচানোর আহ্বান ও জানান তারা। 
সেমিনারে বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক পবিত্র সরকার, প্রসার ভারতীর প্রাক্তন সিইও এবং প্রাক্তন সাংসদ জহর সরকার। শিক্ষাবিদ জিএন দেবী, তামিলনাড়ু সরকারি শিক্ষা বিষয়ক বোর্ডের প্রাক্তন আহ্বায়ক জহর নেসান ভিডিও বার্তা পাঠান। সেমিনারে অংশ নেন এসএফআই সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য, সভাপতি আদর্শ এম সাজি, সহ সভাপতি সত্যেশা লেউয়া, এসএফআই রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে ও সভাপতি প্রণয় কার্যী সহ নেতৃবৃন্দ।


কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির উদ্যোগে গোটা দেশ জুড়েই ‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০‘-কে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন অংশকে নিয়ে সেমিনার-কনভেনশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার কলকাতার মৌলালি যুব কেন্দ্রে ‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০’র ত্রিভাষা সূত্র’ বিষয়ক আলোচনা ছিল। 
সেমিনারে পবিত্র সরকার বলেন, ‘কোঠারি কমিশনের অন্যতম সুপারিশ ছিল সকলকে সমান শিক্ষার অধিকার দিতে হবে এবং প্রাথমিক স্তরে মাতৃভাষায় শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু এই ‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০‘ সরাসরি ভাবে তাকে লঙ্ঘন করছে। ক্লাস থ্রি থেকেই ‘ইন্টারন্যাশনাল ল্যাঙ্গুয়েজ‘ অর্থাৎ ইংরেজি শেখা এবং অন্য একটি ভাষা শেখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এই নীতি পেশের সময় বলা হয়েছিল কেমিস্ট্রির ছাত্র মিউজিক বা পেন্টিংও পড়তে পারবে। কিন্তু এগুলি হচ্ছে আসলে মোড়ক। কিন্তু পাঁচ বছরে আমরা দেখলাম শিক্ষা ক্ষেত্রে আমূল কোন পরিবর্তন হয়নি। পরিকাঠামোগত পরিবর্তন বা শিক্ষক শিক্ষিকা বৃদ্ধি, বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার ক্ষেত্রে ফান্ড বেশি দেওয়া, নতুন বিভাগ তৈরির মতো বিষয়গুলিতে নজরই দেয়নি কেন্দ্রীয় সরকার। আসলে হিন্দির আধিপত্যকে বাস্তবায়ন করাই একমাত্র লক্ষ্য ছিল জাতীয় শিক্ষা নীতির। পিছিয়ে পড়া ভাষাগুলি মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার কোন কথাই নেই। নেই কোন পরিকল্পনাও। 
তিনি বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি জাতীয় শিক্ষানীতির মোড়কেই রাজ্যের শিক্ষানীতি রূপায়ণের কথা বলা হয়েছিল। অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষাকে কুক্ষিগত করার ব্যবস্থা। বিনামূল্যে শিক্ষার অধিকারকে বিনষ্ট করছে রাজ্যের সরকারও। আমার আহ্বান থাকবে গোটা ছাত্র সমাজ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত প্রত্যেকেই এর বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলুন।
আলোচনায় জহর সরকার বলেন, ভাষা আসলে মাধ্যম বা পথ। সংস্কৃতি ও ভাষা দুই একে অপরের পরিপূরক। হিন্দি বলয়ের সাংস্কৃতিক আধিপত্যকে চাপিয়ে দেওয়াই মূল লক্ষ্য আরএসএস-বিজেপির। তিনি বলেন, জাতীয় শিক্ষানীতি হিন্দিতে চাপিয়ে দেওয়ার জন্যই। আর এর গভীরে রয়েছে হিন্দুত্বের সংস্কৃতিকে চাপিয়ে দেওয়া। মনে রাখতে হবে হিন্দু ধর্ম আর হিন্দুত্ব এক নয়। নতুন ভাষা শেখায় বা ভাষা হিসেবে হিন্দি শেখার কোন বিরোধিতা নেই। কিন্তু একটা ভাষার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে যে সংকীর্ণতা আনা হচ্ছে তার তীব্র বিরোধীতা করি। একদিকে বলা হচ্ছে তৃতীয় ভাষায় যে কোনও নতুন ভাষা শেখা যাবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে হিন্দি না থাকলে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে  সেই রাজ্যকে প্রাপ্য সমগ্র শিক্ষা তহবিলের টাকা। তামিলনাড়ুতে সেই কারণেই এই তহবিলের টাকা বন্ধ করে দিয়েছে কেন্দ্র।

Comments :0

Login to leave a comment