কর্ণাটকের কোলার জেলার শ্রীনিবাসপুর তালুকে কৃষকদের জমি দখল এবং নির্বিচারে ফলন্ত আম গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠল বনদপ্তরের বিরুদ্ধে। গত তিন বছর ধরে চলা এই প্রকৃতি ধ্বংস করার কাজ সম্প্রতি চরম আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সম্প্রতি পাতাপল্লী, দোদামালদোড্ডি, কেটাগানাহল্লী এবং শিবপুরা গ্রাম পরিদর্শন করল সারা ভারত কিষাণ সভার একটি প্রতিনিধি দল।
অভিযোগ উঠেছে, শ্রীনিবাসপুর তালুকের প্রায় ৪২,০০০ একর জমি, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কৃষকরা চাষ করে আসছেন, তা রাতারাতি রাজস্ব দপ্তরের রেকর্ড থেকে মুছে বনদপ্তরের নামে নথিভুক্ত করা হয়েছে। বনদপ্তরের দাবি, ১৯১০ সালে মহীশূরের মহারাজা এই জমি বন সংরক্ষণের জন্য দান করেছিলেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, দীর্ঘ ১১০ বছর পর ২০২০ সালে বনদপ্তর হঠাৎ এই জমির মালিকানা দাবি করে বসেছে। অথচ কৃষকদের কাছে জমির বৈধ দলিল এবং রাজস্ব দপ্তরের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে।
২০২৩ সালের আগস্ট মাসে বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং ৭০টি জেসিবি নিয়ে বনদপ্তর ওই এলাকায় অভিযান চালায়। কৃষকদের অভিযোগ ফলন্ত লক্ষাধিক আম গাছ কেটে ফেলা হয়েছে অথবা কাটার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ভেঙে ফেলা হয়েছে কৃষকদের প্যাকিং শেড এবং অসংখ্য বোরওয়েল। অভিযোগ বাধা দিতে গেলে ভেঙ্কটলক্ষ্মাম্মা নামে এক মহিলাকে নৃশংসভাবে মারধর করা হয়েছে। চৌদারেড্ডি নামে এক কৃষকের ৩০০টি গাছ জোরপূর্বক কেটে ফেলা হয়েছে।
এখানেই শেষ নয় স্কুল, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, শ্মশান এবং ধর্মীয় স্থানগুলিকেও বনদপ্তরের সীমানার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
সারা ভারত কৃষক সভার সাধারণ সম্পাদক বিজু কৃষ্ণান, সহ-সভাপতি এস.কে প্রীজা, যুগ্ম সম্পাদক বলসন পানোলি এবং কর্ণাটক প্রান্ত রাইতা সংঘের প্রতিনিধিরা শ্রীনিবাসপুর মানুষদের সাথে দেখা করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সাথে কথা বলে বিজু কৃষ্ণান জানান, ‘এটি একটি অমানবিক কাজ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে যে জমিতে কৃষকরা রক্ত জল করে আম বাগান গড়ে তুলেছেন, তা এভাবে ধ্বংস করা মেনে নেওয়া যায় না।’
কিষাণ সভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কৃষকদের এই বাস্তুচ্যুত করার চেষ্টার বিরুদ্ধে তারা রাজনৈতিক এবং আইনি উভয় লড়াইয়েই কৃষকদের পাশে থাকবেন। কৃষকদের জীবিকা ও মাথা গোঁজার ঠাঁই রক্ষায় বড়সড় আন্দোলনের ডাক দিয়েছে কৃষক সভা।
AIKS
কোলারে বনদপ্তরের তাণ্ডব: হাজার হাজার আম গাছ কাটা ও ফসল ধ্বংসের প্রতিবাদে গর্জে উঠল সারা ভারত কিষাণ সভা
×
Comments :0