GENERAL KNOWLEDGE — TAPAN KUMAR BAIRAGYA — KALU DAKAT O JAGADISHCHANDRA — NATUNPATA — 9 JANUARY 2026 — 3rd YEAR

জানা অজানা — তপন কুমার বৈরাগ্য — ছোট্ট জগদীশচন্দ্র ও কালু ডাকাত — নতুনপাতা — ৯ জানুয়ারি ২০২৬, বর্ষ ৩

নতুনপাতা/মুক্তধারা

GENERAL KNOWLEDGE  TAPAN KUMAR BAIRAGYA  KALU DAKAT O JAGADISHCHANDRA  NATUNPATA  9 JANUARY 2026  3rd YEAR

জানা অজানা

নতুনপাতা

ছোট্ট জগদীশচন্দ্র ও কালু ডাকাত
 

তপন কুমার বৈরাগ্য

২ জানুয়ারি ২০২৬, বর্ষ ৩

জীব ও জড়ের সংবেদনশীলতা নিয়ে জগদীশচন্দ্র বসু ১০মে
১৯০১খ্রিস্টাব্দে লন্ডনের রয়্যাল সোসাইটির সভাগৃহে
একটা যন্ত্রের সাহায্যে প্রমাণ করে দেখান যে উদ্ভিদ ও ধাতুর
অনুভৃতি শক্তি আছে।উদ্ভিদের বৃদ্ধি গতি মাপার জন্য তিনি ক্রেস্কোগ্রাফ যন্ত্র তৈরী করেন।এই যন্ত্রের সাহায্যে তিনি দেখান শামুকের গতির থেকে ২০০০০গুণ কম মাত্রায় গাছের বৃদ্ধি।
জগদীশচন্দ্রের পিতা ছিলেন ভগবানচন্দ্র বসু।তিনি ছিলেন
একজন আদর্শ ব্যক্তি।তিনি ছিলেন ময়মনসিংহ জেলার ম্যাজিস্ট্রেট ও কালেক্টর।তিনি ছিলেন স্বাধীনচেতা,মানবিকগুণ
সম্পন্ন এবং আধুনিক চিন্তাধারার মানুষ।তিনি ছিলেন একজন বাংলাভাষার সেবক।বাল্যকালে  জগদীশচন্দ্র বসুকে বাংলা মিডিয়াম স্কুলে ভর্তি করে দিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন একজন শ্রেষ্ঠ বিচারক।
ভগবানচন্দ্র তখন ছিলেন ময়মনসিংহ জেলার ম্যাজিস্ট্রেট।
সেবার এই ময়মনসিংহে কালু নামে এক দুর্ধর্ষ ডাকাত পুলিশের
হাতে ধরা পড়ল।এই ডাকাতের হাতে বেশ কিছু মানুষও ডাকাতি
করার সময় জখম হয়েছিল।কালুর হৃদয় ছিল পাষাণের মতন
কঠিন।ডাকাতি করতে গেল কেউ তাকে বাঁধা দিলে তিনি তাকে
জখম করে ছাড়তেন।তবে তার হাতে কোনো মানুষ মারা যায় নি।
পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেট ভগবানচন্দ্রের সামনে কালুকে উপস্থিত করলেন।বিচারে তার দুবছর জেল হলো।জেলে যাবার সময়
ভগবানচন্দ্র কালুকে বললেন---জীবনে আর কোনোদিন ডাকাতি
করবে না।জেল থেকে মুক্তি পেয়ে সৎভাবে জীবনযাপন করবে।
যদি তুমি কখনো কোনো অসুবিধায় পড়ো তবে তুমি আমার
সাহায্য নিতে দ্বিধাবোধ করো না।একজন বিচারকের এমন
মানবিক ব্যবহার দেখে কালু  অবাক হয়ে গেল।মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলো জেল থেকে মুক্তি পেয়ে সে সৎ ভাবে জীবন যাপন করবে।
দুবছর পর কালু মুক্তি পেল।গ্রামে ফিরে গিয়ে অনেক করে কাজের
সন্ধান করলো;কিন্তু তখন কেউ এই রকম এক জেলখাটা আসামীকে কাজ দিতে রাজী হলো না।এইভাবে তার এক সপ্তাহ কেটে গেল।অনাহারে অর্ধাহারে তাদের দিন কাটতে লাগল।
শেষে উপায়ন্তর না দেখে কালু  ভগবানচন্দ্রের বাড়িতে আসল।
ভগবানচন্দ্রকে কাঁদতে কাঁদতে বলল--বাবুমশাই, আমি ডাকাত
বলে আমাকে কেউ কাজ দিতে চাইছে না।আমি কাজ না করলে
আমার পরিবার না খেয়ে মারা যাবে।আপনি আমাকে বাঁচান
বাবুমশাই।
কালু ভগবানচন্দ্রের পা দুটৌ চেপে ধরলো।
ভগবানচন্দ্র অনেক ভেবেচিন্তে কালুকে বললেন--ঠিক আছে।কাল
থেকে তুই আমার ছোট্ট ছেলে জগদীশচন্দ্রকে বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিয়ে আসবিএবং বিদ্যালয় শেষে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসবি।এই তোর কাজ।এইজন্য তোকে মাসে মাসে দু'হাজার টাকা করে দেবো।
তখনকার দিনে দু'হাজার টাকা মানে অনেক টাকা।
এতো টাকা মাইনে শুনে কালু বিস্ফারিত চোখে ভগবানচন্দ্রের
দিকে চেয়ে থাকল।
ভগবানচন্দ্র মৃদু হেসে বললেন-কাল থেকে তুই কাজে চলে আসবি।
কালু ভগবানচন্দ্রকে প্রণাম করে  বাড়ির দিকে পা বাড়াল।
সকলে যখন এই ব্যাপারটা শুনলো তখন সকলে বিস্ময়ে অভিভূত
হয়ে গেল।অনেকে ভাবল কালু ডাকাত ভগবানচন্দ্রের ছেলেকে
নিয়ে নিশ্চয় কোথাও পালিয়ে যাবে।আবার অনেকে ভাবল ভগবানচন্দ্রের বিচারে কালুর দু'বছর জেল হয়েছিল।এবার সে তার প্রতিশোধ নেবে।নিশ্চয়  ম্যাজিস্ট্রেটসাহেবের ছেলেকে মেরে ফেলবে।
কিন্তু ক'দিন পরে দেখা গেল সম্পূর্ণ অন্য দৃশ্য। কালু কাঁধে করে
জগদীশচন্দ্রকে বিদ্যালয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং পরম যত্ন করে
তাকে বাড়ি নিয়ে আসছে।ভগবানচন্দ্র কালুর কাজে খুব খুশি।
ছোট্ট জগদীশচন্দ্রের বিদ্যালয় জীবন আনন্দে ভরপুর হয়ে উঠল।
স্কুল যাবার সময় ছোট্ট জগদীশচন্দ্রকে কালু তার ডাকাত
জীবনের অনেক গল্প শুনাতেন।একবার কালুর মুখ থেকে
একটা গল্প শুনে  কালুর প্রতি জগদীশচন্দ্রের হৃদয় কৃতজ্ঞতায়
ভরে গিয়েছিল।কালু সেদিন এক ধনীর বাড়িতে ডাকাতি করতে
ঢুকলো।বাড়ির গৃহকর্তা বিদেশে চাকরী করেন।অল্পবয়সী গৃহকর্তী
একাই থাকেন।সেখানে কাছাকাছি কেউ থাকতো না।কালু দরজা
ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করলো।গৃহকর্তী তার একমাত্র অসুস্থ ছেলের
পাশে বসে থরথর করে কাঁপছে।কালু উদ্যত পিস্তল হাতে যা কিছু
আছে দিয়ে দিতে বলল।
ভদ্রমহিলা বললেন--আমার ছেলে খুব অসুস্থ।এই মুহূর্তে ডাক্তার
না দেখালে ও বাঁচবে না। আপনি একটা ডাক্তার ডেকে আনুন।আপনি আমার একমাত্র ছেলেকে বাঁচান।কালু কোনো কথা না
বলে বেড়িয়ে গেল।কিছুক্ষণ পরে একজন ডাক্তারকে নিয়ে
সে ঘরে প্রবেশ করলো।কালু ডাকাত জেনে ডাক্তারবাবু ভয়ে
কাঁপতে কাঁপতে ছেলেটার চিকিৎসা করলেন।ডাক্তারবাবুকে
জোর করে ধরে নিয়ে আসার জন্য বাড়িরলোক পুলিশকে
জানিয়েছিল।ইতিমধ্যে পুলিশ সেই বাড়িতে প্রবেশ করে কালুকে
সেদিন গ্রেপ্তার করেছিলেন।এ জন্য তার একবছর জেল হয় ।
পরে কালুর এই মহানুভবতার জন্য সরকার তার সাজা কমিয়ে
ছ'মাস করেছিলেন।ছোট্ট ছেলে জগদীশচন্দ্র এই ঘটনা শুনার
পর কালুর প্রতি ভক্তিতে তার মাথা নত হয়ে গিয়েছিল।
কালুর সাহচর্যে তার ছোট্টবেলার স্কুলজীবন খুব সুখের
হয়ে উঠেছিল। এর কিছুদিন পর শহরে একটা ডাকাতির
ঘটনা ঘটেছিল।মিথ্যা মামলায় কালুকে ফাঁসানো হয়েছিল।
জগদীশচন্দ্র শুনেছিলেন তার বেশ কয়েক বছর জেল হয়েছিল।
এরপর জগদীশচন্দ্র তার বাবার প্রতিষ্ঠিত বাংলা মিডিয়াম স্কুলে
ভর্তি হয়েছিলেন।তিনি সকল জাতের ছেলেদের পাশে বসতেন।
যার জন্য জগদীশচন্দ্রের কাছে মানুষই বড় হয়ে উঠৈছিল।
স্কুলের চারপাশে ছিল প্রকৃতির শোভা।ছোটবেলা থেকে প্রকৃতির
চারপাশে বড় হতে হতে জগদীশচন্দ্র প্রকৃতিপিয়াসী হয়ে ওঠেন।
জগদীশচন্দ্রের প্রথম স্কুলের দিনগুলো কালুর জন্য স্মরণীয়
হয়ে আছে।সেই সময় সে ছিল শিশু জগদীশচন্দ্রের একান্ত সহচর।
একটু বড় হয়ে তিনি কালুর অনেক খোঁজ করেছিলেন কিন্তু কোথাও তার সন্ধান পান নি। পরে তিনি জানতে পারেন কালু
জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর নিজের পরিবারকে নিয়ে
কোন অজানা জায়গায় পাড়ি দিয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment