STORY — SOURISH MISHRA — KARTABA — NATUNPATA — 10 JANUARY 2026, 3rd YEAR

গল্প — সৌরীশ মিশ্র — কর্তব্য — নতুনপাতা — ১০ জানুয়ারি ২০২৬, বর্ষ ৩

নতুনপাতা/মুক্তধারা

STORY  SOURISH MISHRA  KARTABA  NATUNPATA  10 JANUARY 2026 3rd YEAR

গল্প  


নতুনপাতা

  -------------------------- 
   কর্তব্য
  -------------------------- 

সৌরীশ মিশ্র


শীতের সকাল। এখনও ন'টা বাজেনি। শুভায়ু বসেছিল ওদের দোতলার বারান্দায়। ক'দিন হল ঠান্ডা পড়েছে খুব। তবে শুভায়ুর ঠান্ডা ভালোই লাগে। এইসময়টায় রোদ এসে পড়ে এই ব্যালকনিতে। ঐ রোদে বসে ইতিহাসের একটা চ্যাপ্টার পড়ছিল সে। ওর ক্লাস নাইন। তাই চাপ আছে ভালোই পড়াশুনার। তবে লেখাপড়ায় বেশ ভালোই সে। স্কুলে এখন বড়দিনের ছুটি চলছে শুভায়ুদের। 
এক মনেই পড়ছিল শুভায়ু। হঠাৎ গেট খোলার শব্দ শুনে সামনে তাকালো সে। আর তাকাতেই দেখল, নিজের বাড়ি থেকে বেরোচ্ছেন এই পাড়ার প্রবীণতম বাসিন্দা গৌর সেন, শুভায়ুর গৌর দাদু। পরনে পাজামা-পাঞ্জাবি। গায়ে জড়ানো একটা শাল। হাতে প্লাস্টিকের একটা ছোটো ব্যাগ।
গৌরবাবুর বাড়িটা শুভায়ুদের বাড়ির ঠিক সামনের বাড়িটাই। উনি অকৃতদার। একাই থাকেন। আশি পেরিয়ে গেছে বয়স অনেককাল আগেই। তবে, তিনি কিছু মাস আগে অবধি ভালোই ফিট ছিলেন। হঠাৎই গত নভেম্বরে পড়ে যান বাথরুমে। সেই থেকে কোমড়ে আর দুই পায়ে ব্যাথা। ভীষণই কষ্ট হয় হাঁটতে। নিয়মিত ওষুধ খান। এই ক'মাসেই শরীরটা ভেঙ্গে গেছে অনেকটাই তাঁর। পারতপক্ষে বেরোন-টেরোন না আজকাল। এক মহিলা এসে রান্না-বান্না করে দেন ওনার। বাজারও করেন ঐ মহিলাই। তাই, এতোদিন বাদে গৌরদাদুকে বেরোতে দেখে অবাক হয় শুভায়ু। "কোথায় যাচ্ছ গৌরদাদু?" তাই সে জিজ্ঞেস করে ওঠে।
মুখ তুলে শুভায়ুর দিকে চান গৌর সেন। একটু ম্লান হাসেন। তারপর বলেন, "এস আই আর-এর নোটিশ পেয়েছি দাদুভাই। তাই যাচ্ছি হিয়ারিং-এ।"
"কোথায় হচ্ছে হিয়ারিং, দাদু?" ফের জানতে চায় শুভায়ু।
"ফুলতলা হাই স্কুলে।"
"সে তো অনেক দূর। যাবে কি করে তুমি?"
"একটা টোটো নিয়ে নেব বড়রাস্তা থেকে। না দাদুভাই, আর দেরী করবো না। শুনছি, ওখানে অনেক লাইন পড়ছে নাকি প্রতিদিন। আসি, কেমন?" বলেই দুর্বল শরীরটাকে কোনোমতে লাঠিতে ভর দিয়ে দিয়ে নিয়ে চলতে থাকেন গৌর সেন, গলিটা ধরে। 
শুভায়ু কয়েকক্ষণ দেখে এক দৃষ্টিতে সেই দৃশ্য। তারপর সে এক ছুট লাগিয়ে ঢুকে যায় ঘরের ভিতর। কারণ, এরই মধ্যেই সে যে ঠিক করে ফেলেছে এই মুহূর্তে ওর ঠিক কি কর্তব্য।
শুভায়ুর মা রান্না করছিলেন। বাবা গেছেন স্নানে। অফিসে বেরোবেন। শুভায়ু দৌড়ে ওর মায়ের পাশটায় এসে দাঁড়িয়েই বলে চলল টানা, "মা, গৌরদাদু এস আই আর-এর হিয়ারিং-এ যাচ্ছে। সেই ফুলতলা হাই স্কুলে হবে হিয়ারিং। এতো দূর যাবে, আসবে। আমি যাই সাথে?"
"কাকুকে হিয়ারিং-এ ডেকেছে! কি হ্যারাসই হচ্ছে বুড়ো মানুষগুলো ক'দিন ধরে! ভাবাই যায় না! হ্যাঁ, হ্যাঁ, তুই যা কাকুর সাথে। তা, কাকু কোথায়?" বলেন শুভায়ুর মা।
"এই তো বেরোলো দাদু।"
"তাহলে! তুই যা তাড়াতাড়ি।"
"তুমি চিন্তা কোরো না মা। দাদু বলল, বড় রাস্তা থেকে টোটো ধরবে। দাদু তো আস্তে আস্তে হাঁটে। আমি এক ছুটে ধরে নেব দাদুকে। আমি যাই?"
"হ্যাঁ আয়। ও দাঁড়া। শোওয়ার ঘরে কাঠের টেবিলটা আছে না, সেটার উপর আমার ব্যাগটা আছে, দ্যাখ্। সেখান থেকে দুটো একশো টাকার নোট বের করে রাখ্ সাথে তোর। কে জানে কি দরকার লাগে কখন!"
মায়ের কথা শুনে ফের ছুট লাগায় শুভায়ু। একটুখানিও নষ্ট করার মতোন সময় নেই শুভায়ুর হাতে এখন। শোওয়ার ঘরে ঢোকে সে। মায়ের ব্যাগ থেকে দুটো একশো টাকার নোট বের করে প্যান্টের পকেটে ঢোকায়। ফের ছুটে মায়ের কাছে আসে। 
"নিয়েছিস?" শুভায়ুর মা জিজ্ঞেস করেন ছেলেকে।
"হ্যাঁ। মা এলাম।" বলতে বলতেই মাকে প্রণাম করে শুভায়ু। বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় বাবা-মাকে প্রণাম করেই বেরোয় সবসময় সে। শুভায়ুর বাবা বাথরুম থেকে বেরোন নি এখনো। তাই বাবাকে প্রণাম করতে পারে না।
ছেলের মাথায় হাত রাখেন শুভায়ুর মা। শুভায়ু সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে মায়ের দিকে তাকিয়ে একটু হাসে ঠোঁটের কোণে। তারপর ফের ছুট লাগায় বাড়ির সদর দরজার দিকে।


------------------------------

Comments :0

Login to leave a comment