UP Draft Voter List

কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যের নাম বাদ উত্তর প্রদেশে

জাতীয়

উত্তরপ্রদেশের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়েছে। ভোটাররা তাদের এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নাম তালিকায় আছে কিনা তা পরীক্ষা করতে পারবেন। তাদের নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে গিয়ে ভোটার তালিকা ডাউনলোড করতে হবে। তারপরেই তারা তাদের এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নাম দেখতে পাবেন। তবে, অনেকেই তাদের নাম খসরা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার অভিযোগ করেছেন। এদের মধ্যে একজন হলেন কংগ্রেস নেতা গুরদীপ সিং সাপ্পাল, যিনি কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যও। মঙ্গলবার তিনি দাবি করেছেন যে খসড়া তালিকা প্রকাশের পর ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন থেকে তাঁর এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাম নেই। তিনি দাবি করেছেন তাঁর কাছে সমস্ত নথি রয়েছে এবং তাঁর নাম ২০০৩ সালের ভোটার তালিকায়ও ছিল।
তিনি এক্স’র একটি পোস্টে তার প্রশ্নগুলি শেয়ার করেছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে ঠিকানা পরিবর্তনের পর, তার নাম নতুন তালিকায় দেখা যাচ্ছে না। তিনি পোস্টে লিখেছেন, আমার এবং আমার পরিবারের নাম খসরা তালিকায় নেই। তবে, আমাদের নাম ২০০৩ সালের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। পূর্ববর্তী নির্বাচনের ভোটার তালিকায় আমাদের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল। আমাদের বাবা-মায়ের নামও ২০০৩ সালের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। আমরা নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুসারে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছি। আমাদের পাসপোর্ট, জন্ম শংসাপত্র, আধার কার্ড, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সম্পত্তির কাগজপত্র এবং দশম শ্রেণির সার্টিফিকেট - সবকিছুই আমাদের কাছে আছে। গুরদীপ সিং সাপ্পাল দাবি করে পোস্টে লিখেছেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে ভারতের উপরাষ্ট্রপতির সঙ্গে কাজ করেছি এবং রাজ্যসভা সচিবালয়ে যুগ্ম সচিবও ছিলাম। আমি কংগ্রেসের সর্বোচ্চ কমিটি, সিডব্লিউসি-রও একজন সদস্য। শুধু তাই নয়, এসআইআর এবং অন্যান্য বিষয়ে আমি বেশ কয়েকবার নির্বাচন কমিশনে কংগ্রেসের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কাজ করেছি। বিএলও এই সবকিছু জানে। তবুও খসড়া তালিকা থেকে আমাদের নাম বাদ দেওয়া হল।
নাম বাদ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি লিখেছেন, আমরা উত্তর প্রদেশের সাহিবাবাদ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নয়ডা বিধানসভা কেন্দ্রে আমাদের বাসস্থান স্থানান্তরিত করেছিলাম। এবং আমাদের বলা হয়েছিল যে এসআইআর’এ স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম সংরক্ষণের কোনও বিধান নেই। এর অর্থ হল, যদি কোনও ভোটার নতুন এলাকায় স্থানান্তরিত হন, তবে তাদের নাম মুছে ফেলা হয়েছে। আমার মতো লক্ষ লক্ষ প্রকৃত ভোটার আছেন। আমি সম্ভবত এখনও একটি ৬ ফর্ম  পূরণ করে আমার পরিবারের নাম যুক্ত করতে সক্ষম হব, কিন্তু কতজন লোক তা করতে সক্ষম হবে?


উত্তরপ্রদেশের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ২.৮৯ কোটি ভোটারের নাম। নির্বাচন কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, তালিকা থেকে বাদ পড়া ২.৮৯ কোটি মানুষের মধ্যে ৪৬.২৩ লক্ষ ভোটার মৃত। ২.১৭ কোটি ভোটার বর্তমানে স্থায়ীভাবে অন্য জায়গায় চলে গেছেন। ২৫.৪৭ লক্ষ ভোটারের নাম একাধিক স্থানে নথিভুক্ত ছিল। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ ৬ মার্চ। এদিন উত্তর প্রদেশের নির্বাচন কমিশনের সিইও নবদীপ রিনওয়া বলেন, ‘‘তথ্য প্রদান, গণনা ফর্মের বিচার এবং দাবি ও আপত্তি নিষ্পত্তির পর্যায় চলবে ৬ জানুয়ারী থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ পর্যন্ত।  ভোটার তালিকার চূড়ান্ত প্রকাশ ৬ মার্চ।’’ খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর, ভোটাররা আপত্তি জানাতে, তাদের নাম যুক্ত করতে এবং চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাদের নাম যুক্ত করতে পারবেন। উত্তর প্রদেশে মোট ভোটারের সংখ্যা এখন ১২ কোটি ৫৫ লক্ষ ৫ হাজার ৬২৫।
নবদীপ রিনওয়া বলেন, ‘‘৬ মার্চ আমরা চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করব। ভোটারদের ওয়েবসাইটে তাদের এপিক নম্বর দিয়ে নাম আছে কিনা পরীক্ষা করা উচিত। আমি ভোটারদের তা করার জন্য অনুরোধ করছি। যদি তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়, তাহলে তাদের ফর্ম ৬ পূরণ করা উচিত।’’ ভোটাররা ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আপত্তি জানাতে পারবে।
উত্তরপ্রদেশে ভোটার তালিকার এসআইআর’র প্রথম পর্যায় ২৭ অক্টোবর ২০২৫ শুরু হয়েছিল। বিএলওদের সহায়তায় কাজটি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিল। সময়সীমা ছিল ১১ ডিসেম্বর। কিন্তু ব্যাপকভাবে নাম বাদ দেওয়ার কারণে, সেই সময়সীমা ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এই সময়ের মধ্যে, প্রায় ৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment