Dhupguri

স্ত্রীকে খুনের অভিযোগে ধূপগুড়িতে গ্রেপ্তার স্বামী

জেলা

স্ত্রীকে তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে নিজে দাঁড়িয়ে বিয়ে দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই চরম ও মর্মান্তিক পরিণতি।
শনিবার সকালে ধূপগুড়ি পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের রায়পাড়া এলাকায় প্রেমিকের বাড়িতে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনায় শিউরে উঠেছে গোটা এলাকা। মৃতার নাম সোমা বর্মন। অভিযুক্ত স্বামী শ্রীকান্ত রায়কে রক্তমাখা অস্ত্র-সহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রায়পাড়ার বাসিন্দা শ্রীকান্ত রায়ের সঙ্গে কয়েক বছর আগে বিয়ে হয় সোমা বর্মনের। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। কর্মসূত্রে শ্রীকান্ত দীর্ঘদিন ভিন রাজ্যে থাকতেন। সেই সময়েই প্রতিবেশী যুবক চিরঞ্জিত রায়ের সঙ্গে সোমার বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই সম্প্রতি বাড়ি ফিরে আসেন শ্রীকান্ত।
পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং দাম্পত্য কলহ এড়ানোর উদ্দেশ্যে কয়েকদিন আগে শ্রীকান্ত নিজেই উপস্থিত থেকে চিরঞ্জিতের সঙ্গে স্ত্রীর বিয়ে দেন বলে জানা যায়। এরপর সোমা চিরঞ্জিতের বাড়িতেই থাকতে শুরু করেন। তবে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরেই শ্রীকান্তের মনে চরম ক্ষোভ ও প্রতিশোধস্পৃহা জন্ম নেয়।
এদিন সকালে আচমকাই চিরঞ্জিতের বাড়িতে ঢুকে পড়ে শ্রীকান্ত। অভিযোগ, ঘরের মধ্যেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে সোমার উপর এলোপাথাড়ি কোপ বসাতে থাকে সে। সোমার চিৎকার শুনে চিরঞ্জিতের মা ছুটে এলে তাকেও আক্রমণের চেষ্টা করে অভিযুক্ত। কোনওক্রমে চিরঞ্জিতের মা প্রাণে বাঁচলেও ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন সোমা এবং মৃত্যু হয় তাঁর।
হত্যাকাণ্ডের পর রক্তমাখা অস্ত্র হাতে রাস্তা দিয়ে হেঁটে থানায় আত্মসমর্পণের চেষ্টা করছিল শ্রীকান্ত। ধূপগুড়ি বাজার এলাকায় টহলরত পুলিশ কর্মীরা তাকে আটক করে। পরে ধূপগুড়ি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজে পাঠায়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। ঘটনার জেরে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে, বাড়ানো হয়েছে পুলিশি নজরদারি।

Comments :0

Login to leave a comment