INSAF JATRA PANSKURA

ফুল সংরক্ষণ, ফসল নষ্টের ক্ষতিপূরণও চাইছে ইনসাফ যাত্রা

রাজ্য

রামশংকর চক্রবর্তী, তমলুক

অঝোরে বৃষ্টি সকাল থেকেই।  মাঠে পাকা ধান পড়ে আছে। এই সময়ে বৃষ্টিতে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়। সেই ধান তুলে না নিলে আগরা হয়ে যাবে। আবার ফুল চাষের জমির দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হয়। সঠিক নিকাশি না হলে ফুল পচে যাওয়ার সম্ভাবনা। ব্যাপক ক্ষতি জেনেও পাঁশকুড়ার কৃষকরাও থেকেছেন ইনসাফ যাত্রায় শামিল হওয়ার অপেক্ষায়।
বেলা বারোটা নাগাদ পশ্চিম মেদিনীপুর হয়ে ইনসাফ যাত্রা পূর্ব মেদিনীপুরে প্রবেশ করেছে। আদিবাসী, কৃষক, যুব ও গণ আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ সহ অসংখ্য মানুষ তারা অভ্যর্থনা জানিয়েছেন মীনাক্ষী মুখার্জী সহ পদযাত্রীদের। ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে যায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে। 
মীনাক্ষী মুখার্জী বললেন "এই ইনসাফ যাত্রা কৃষকদের ক্ষতিপূরণের জন্যেও। চাষের সময় বৃষ্টি হয়নি। কিন্তু ফসল তোলার সময় বৃষ্টি হচ্ছে। কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তা’হলে সরকারের দায়িত্ব কি? শুধু ছবি দিয়ে প্রচার করা? নাকি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে থাকা। সরকার তা করছে না বলেই মানুষ নিজেদের ইনসাফ নিজেরাই খুঁজে নিতে প্রস্তুত হচ্ছে। আর তাই আমাদের এই ইনসাফ যাত্রা মানুষের সমর্থন, আশীর্বাদ, সহযোগিতায় উৎসাহ পাচ্ছে তৃণমূল বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইতে।"
একটু দূরে একটি আটচালায় দাঁড়িয়ে গভীর মনোযোগ দিয়ে যুব নেতৃত্বের বক্তব্য শুনছিলেন কয়েকজন। তারা আসলে ফুলচাষী। সকালে দেউলিয়া বাজারে ফুল বিক্রি করে রাতুলিয়ায় পৌঁছেছেন তারা। "আমাদের এখন যা অবস্থা তা বলার নয় এমনভাবে ফুলের দাম পাচ্ছি না। একদিন দুদিন রেখে বিক্রি করার উপায় নেই। সংরক্ষণ কেন্দ্রই নেই ফুলের।" বললেন একজন। অতীতে স্টিম ইঞ্জিনের ছাই ফেলার স্থান ছিল এই পাঁশকুড়া। ছাইকে চলতি কথায় পাঁশ বলা হয়। সেই থেকেই পাঁশকুড়া নামকরণটি হয়েছে বলে অভিমত ইতিহাস গবেষকদের একাংশের।  সেই পাঁশকুড়া এখন ফুলের বাগিচা শহরে পরিণত হয়েছে। কাঁসাই নদীর উপত্যকা ও ক্ষীরাই এর কয়েকশ একর জমিতে ফুলচাষ হয়।
ফুলের স্থায়ী সংরক্ষণ কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ। ফলে অর্থনীতির বড় অংশ জুড়ে থাকা ফুলচাষে ক্ষতি হচ্ছে। কৃষকরা ফুলের দাম পাচ্ছেন না। বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে পাঁশকুড়া বাজার এলাকায় স্থায়ী ফুল বাজার চালু হলেও তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর তাও বন্ধ হয়ে যায়। তাই পাঁশকুড়া এলাকার ফুল চাষিরা রোদ বৃষ্টি মাথায় নিয়েই দেউলিয়ায় ৬ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে এবং কোলাঘাট স্টেশন এলাকায় ফুল বিক্রি করতে বাধ্য হন। 
জেলার তমলুক, হলদিয়া, কাঁথি ও এগরা এই চারটি মহকুমার প্রতিটি ব্লক থেকেই যুবকরা সামিল হয়েছে পদযাত্রায় পা মেলাতে। এদিন জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মতোই নন্দীগ্রাম, খেজুরি থেকেও কাজ না পাওয়া বেকার যুবক থেকে তৃণমূলের হুমকিতে হলদিয়ার কারখানা থেকে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিক তারাও পা মিলিয়েছে দীর্ঘ ২৫ কিলোমিটার পথ। 
পদযাত্রার বিভিন্ন সময়ে ছিলেন গণআন্দোলনের নেতা রবীন দেব, অনাদি সাহু, নিরঞ্জন সিহি, হিমাংশু দাস প্রমুখ।

Comments :0

Login to leave a comment