ভ্রমণ
মুক্তধারা
খেরোর খাতায় ঔরঙ্গাবাদ
অভীক চ্যাটার্জী
২৪ জানুয়ারি ২০২৬, বর্ষ ৩
বাস আমাদের নিয়ে নামালো কেইভ কমপ্লেক্সে। যেখান থেকে একটু উপরে উঠলেই শতাব্দী প্রাচীন সেই অনন্য শিল্প কর্ম। কমপ্লেক্সটি দেখলেই বোঝা যায়, এ সত্যিই ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ, তার পরিচ্ছন্নতা এবং ব্যবস্থাপনা সত্যিই বিশ্বমানের।
আমরা ধীরে ধীরে উপরে উঠে পৌঁছলাম গুহার সামনে। ৩০ টি গুহার সমন্বয়ে তৈরি অজন্তা গুহা কমপ্লেক্স সত্যিই এক অনন্য অনুভূতির প্রকাশ জাগায় আমাদের মনে। খুব বেরসিক মানুষও এক বার অবাক না হয়ে যাবে না। তবে অজন্তাকে বুঝতে হলে তার ইতিহাসটা জেনে নেওয়া খুব প্রয়োজন।
মূলতঃ ৩০টি গুহার অনেকগুলোই অসমাপ্ত এবং পরিত্যক্ত। এখানেও ইলোরার বৌদ্ধ গুহা মতোই রয়েছে চৈত্য গৃহ এবং বিহার। এর সময়কাল দুই আলাদা পর্বে বিভক্ত। সময়কাল বলা যায় প্রথম পর্বে খ্রীষ্ট পূর্ব দ্বিতীয় শতক থেকে খ্রিস্টীয় প্রথম শতক । আর দ্বিতীয় পর্ব হলো খ্রিস্টীয় পঞ্চম থেকে ষষ্ঠ শতক। এই গুহা গুলোর মধ্যে গুহা নং ১,২,১৬,১৭ এগুলোতেই চিত্রকলা সংরক্ষিত আছে। বাকিগুলোর দেয়ালচিত্র বেশিরভাগই গেছে কালের অতল গহ্বরে। খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতকের পর বৌদ্ধ পৃষ্ঠপোষকতা ধীরে ধীরে কমে আসে। গুহাগুলি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। প্রকৃতির আদিম ছোঁয়ায় ঢেকে যায় পৃথিবীর অন্যতম অত্যাশচর্য শিল্পের অসীম ভাণ্ডার।
তারপর আসে ১৮১৯ সাল, আর আসে বন্দুক কাঁধে মাদ্রাজ রেজিমেন্টের এক সেনা অফিসার, নাম ক্যাপ্টেন জন স্মিথ। তার ভারী বাঘ শিকারের শখ। ওয়াঘোড়া উপত্যকায় ঘুরতে ঘুরতে তিনি দেখতে পান সারিবদ্ধ অর্ধচন্দ্রাকৃতি গুহাগুলিকে। তারা তখন এক রকম জঙ্গলে ঢেকেই রয়েছে। এসে বোঝেন এগুলো প্রাকৃতিক গুহা নয়। এর কৃত্রিম এবং অন্যান্য সৌন্দর্যের ভাণ্ডার। তিনি এসে ঢোকেন গুহা ১০ এ। এসে দেখেন স্তম্ভ, স্তূপ, দেয়ালচিত্র। আশ্চর্য হয়ে যান ক্যাপ্টেন। রিপোর্ট করেন সরকারের কাছে একটি প্রত্নতাত্ত্বিক খোঁজের জন্য। পুনরাবিষ্কৃত হয় সেই অনন্য বৌদ্ধ বিহার।খুঁজে পাওয়া যায় অজন্তাকে। ক্যাপ্টেন ফিরে আসার আগে গুহা ১০ এর দেয়ালে নিজের নাম লিখে এসেছিলেন, যা এখনও দেখা যায়। (মানুষের এই প্রবৃত্তি চিরকালের) অমিতোসুন্দর গুহাচিত্রের মাঝে আজও জ্বলজ্বল করছে সেই খোদাই করা শব্দগুলো "John Smith, 28th Cavalry, 1819” আমার চোখে যা বড়ই বেমানান।
Comments :0